আসন্ন ঈদুল ফিতর-২০২৬ উপলক্ষে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী তাদের ভাতাভোগী সদস্য-সদস্যা ও কর্মচারীদের জন্য বিশেষ ঈদ উপহার সামগ্রী বিতরণ কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে। সদস্যদের কল্যাণ নিশ্চিত করা এবং পারস্পরিক সম্প্রীতি জোরদার করার লক্ষ্যে গৃহীত এই উদ্যোগের সমাপনী অনুষ্ঠান গত বৃহস্পতিবার বাহিনীর সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ।
এই কল্যাণমূলক কর্মসূচির আওতায় দেশের ৬৪টি জেলার ভাতাভোগী সদস্য-সদস্যা এবং চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীসহ মোট ২৯ হাজার ৩৭ জনের মধ্যে ঈদ উপহার সামগ্রী বিতরণ করা হয়। উপহারের প্রতিটি প্যাকেটে ছিল পোলাওয়ের চাল, সেমাই, সুজি, গুঁড়া দুধ, নুডলস এবং বিভিন্ন ধরনের রান্নার মশলা। পবিত্র ঈদকে সামনে রেখে বাহিনীর সদস্য ও কর্মচারীদের মাঝে আনন্দ ও সৌহার্দ্যের আবহ সৃষ্টি করাই ছিল এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য।
অনুষ্ঠানে মহাপরিচালক তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, দেশের সর্ববৃহৎ এই শৃঙ্খলা ও গণপ্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা নানাবিধ প্রতিকূলতা অতিক্রম করে অত্যন্ত নিষ্ঠা ও দায়িত্ববোধের সঙ্গে তাঁদের কর্তব্য পালন করে আসছেন। তিনি আরও বলেন, বাহিনীর কার্যক্রমের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ ও সমস্যা যথাযথভাবে চিহ্নিত করে সেগুলোর সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে, যার মাধ্যমে বাহিনীর অগ্রযাত্রা অব্যাহত রয়েছে। রাষ্ট্রের সার্বিক কল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে অংশীদার হিসেবে আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের ঐক্য, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং ভ্রাতৃত্ববোধ বজায় রেখে দায়িত্ব পালনের ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
মহাপরিচালক আরও বলেন, দেশের গ্রামীণ সমাজকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে ১৯৭৬ সালে বাহিনীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে গ্রাম প্রতিরক্ষা দল (ভিডিপি) প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রত্যন্ত অঞ্চলে সামাজিক নিরাপত্তা জোরদার করা, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং স্থানীয় উন্নয়ন কার্যক্রমে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে ভিডিপি সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। তাঁদের জীবন ও জীবিকায় দৃশ্যমান উন্নয়ন ঘটলে তা গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে উঠবে এবং সামগ্রিক সামাজিক উন্নয়নকে আরও গতিশীল করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বাহিনীর অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মামুনূর রশিদ, উপমহাপরিচালকবৃন্দসহ বিভিন্ন পদমর্যাদার কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ। এ ধরনের কল্যাণমূলক উদ্যোগ বাহিনীর সদস্য ও কর্মচারীদের প্রতি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ববোধ ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে।
রিপোর্টারের নাম 























