ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে সাংবিধানিক রেওয়াজ অনুযায়ী ভাষণ দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পু। তার পুরো ভাষণে তিনি দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, বিশেষ করে ফ্যাসিবাদ, দুর্নীতি, খুন ও গুমের মতো অভিযোগ এবং ২০২৪ সালের জুলাই মাসের গণ-অভ্যুত্থানের বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরেন। সাবেক ছাত্রলীগ নেতা এবং আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নিয়োগ পাওয়া দেশের ২২তম এই রাষ্ট্রপতি তার বক্তব্যে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশ ‘হাসিনার ফ্যাসিবাদ’ মুক্ত হওয়ার কথা উল্লেখ করেন।
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন গত বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে এই ভাষণ দেন। এ সময় জাতীয় সংসদের সভাপতির আসনে ছিলেন স্পীকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ (বীর বিক্রম)। রাষ্ট্রপতির এই ভাষণ সংসদজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
রাষ্ট্রপতি তার ভাষণে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে উল্লেখ করেন এবং ‘বাংলাদেশ জিন্দাবাদ’ বলে বক্তব্য শেষ করেন। এ সময় সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ সরকারি দলের সদস্যরা টেবিল চাপড়ে তার বক্তব্যকে স্বাগত জানান। রাষ্ট্রপতি তার ভাষণের ১৬ পৃষ্ঠার পুস্তিকা থেকে পাঠ করেন।
এর আগে রাষ্ট্রপতি সংসদ কক্ষে প্রবেশ করলে বিরোধী দলীয় সদস্যরা ব্যাপক বিক্ষোভ করেন। তারা রাষ্ট্রপতিকে গণহত্যা ও ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের দোসর হিসেবে উল্লেখ করে তার পদত্যাগ দাবি করেন। এক পর্যায়ে বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যরা হাউজ থেকে ওয়াকআউট করেন। রাষ্ট্রপতির বক্তব্য শেষ হলে তারা আবার অধিবেশনে যোগ দেন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ইতিহাসে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে একপর্যায়ে এটি ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়। দেশের ছাত্র-জনতা, কৃষক-শ্রমিক, শিক্ষক, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী, প্রবাসী তথা সকল শ্রেণি পেশার মানুষ, গণতন্ত্রের পক্ষের রাজনৈতিক দলসহ সকলের সম্মিলিত আন্দোলনের ফলে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তৎকালীন ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন ঘটে। হাজারো শহীদের রক্তের ওপর দিয়ে তাঁবেদার ও ফ্যাসিবাদমুক্ত নতুন গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের সূচনা হয়।
রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের লাখো শহীদ এবং বীর মুক্তিযোদ্ধাদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি, যাঁদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আজকের এই স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ। তিনি স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে শহীদ জিয়াউর রহমানের প্রতিও শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
রিপোর্টারের নাম 























