বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের ত্রয়োদশ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ভাষণ চলাকালে বিরোধী দলের ওয়াকআউট এবং প্রতিবাদের ঘটনা নিয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বিরোধী দলের এই পদক্ষেপের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং বলেন যে, এই রাষ্ট্রপতিই পূর্ববর্তী সময়ে তাদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন এবং তার উপস্থিতিতেই অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা শপথ গ্রহণ করেছেন। এমনকি তাদের দলের কয়েকজন সদস্য বর্তমানে সংসদেও রয়েছেন, এমতাবস্থায় তাদের বর্তমান বিরোধিতা কেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সংসদ অধিবেশন মুলতবি হওয়ার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, যে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বিরোধী দল ৫ ও ৬ আগস্ট আলোচনা করেছে এবং যাদের উপস্থিতিতে অন্তর্বর্তী সরকার শপথ নিয়েছে, সেই রাষ্ট্রপতিকে আজ কেন অস্বীকার করা হচ্ছে? তাদের দলের কিছু সদস্য সংসদে শপথও নিয়েছেন। এই স্ববিরোধিতা কেন, তা বিরোধী দলকেই প্রশ্ন করা উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তবে, সংসদীয় গণতন্ত্রে ওয়াকআউটকে একটি স্বাভাবিক বিষয় হিসেবে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন যে, গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিতে ওয়াকআউট কোনো নতুন ঘটনা নয় এবং বিরোধী দল এটি করতেই পারে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, সংসদ অর্থবহ হবে এবং জাতীয় সমস্যা ও ইস্যুগুলো আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা হবে। ফ্যাসিবাদবিরোধী জাতীয় ঐক্য ধরে রেখে যেকোনো জাতীয় ইস্যুতে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
এর আগে, সংসদ অধিবেশনে এক অভূতপূর্ব পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতিকে ভাষণ দেওয়ার আহ্বান জানালে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে বিরোধীদলীয় সদস্যরা ‘জুলাই নিয়ে গাদ্দারি চলবে না’, ‘গণতন্ত্র চাই, ফ্যাসিবাদ নয়’—এমন স্লোগান সংবলিত প্ল্যাকার্ড হাতে প্রতিবাদ শুরু করেন। তুমুল হট্টগোলের এক পর্যায়ে তারা সংসদ কক্ষ ত্যাগ করেন।
রিপোর্টারের নাম 






















