ঢাকা ০৩:৩৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

নরসিংদীতে আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি: এক বছরে শতাধিক নিহত, উদ্ধার হয়নি লুন্ঠিত অস্ত্র

নরসিংদী জেলখানা ভাঙার দুই বছর পেরিয়ে গেলেও জেলাটিতে আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি ঘটেছে। একদিকে ৯টি চরাঞ্চলে টেঁটাযুদ্ধ, অপরদিকে মাদকের অভয়ারণ্য ও নারী নির্যাতনের ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষের ঘটনায় লুট হওয়া অস্ত্রের ব্যবহার হচ্ছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। গত এক বছরে সংঘর্ষে শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে, যা জনমনে তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।

বিগত দিনের অপরাধের পাশাপাশি ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় নরসিংদী জেলা কারাগারে হামলার ঘটনা অপরাধের মাত্রাকে নতুন করে বাড়িয়ে দিয়েছে। ওই দিন জেলখানায় আগুন দিয়ে দরজা ভেঙে পালিয়ে যায় সাত জঙ্গিসহ ৮২৬ কয়েদি। লুট হয় কারাগারে থাকা ৮৫টি হাতিয়ার ও আট হাজার ১৫টি গোলাবারুদ। সেই থেকে ১৯ জুলাই নরসিংদীতে একটি আলোচিত ঘটনাবহুল দিন।

এরপর ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তায় অপরাধের মাত্রা অস্বাভাবিকভাবেই বেড়ে যায়। পাঁচ হাজারেরও বেশি গোলাবারুদ, ২৬টি অস্ত্র এখনো উদ্ধার হয়নি এবং ১৬৭ জন আসামি পলাতক রয়েছে। এর ফলে জেলাজুড়ে হত্যা, ছিনতাই, রাহাজানিসহ গুরুতর অপরাধের প্রবণতা ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিগত এক বছরে নরসিংদীতে শতাধিক চাঞ্চল্যকর খুনের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার বেশিরভাগই হয়েছে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, আধিপত্য বিস্তার ও নারী নির্যাতনের জের ধরে। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে জেলার অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের দাবি জানানো হলেও সব অস্ত্র উদ্ধার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

জেলখানায় হামলা ও লুটপাটের ঘটনায় তৎকালীন জেলার কামরুল ইসলাম বাদী হয়ে দুটি মামলাও করেন। কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া আসামিরা যাতে স্থানীয় থানা, কারাগার ও আদালতের মাধ্যমে আত্মসমর্পণ করেন, তার জন্য নরসিংদী জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং, প্রচারপত্র বিলি ও বিভিন্ন স্থানে সাইনবোর্ড টানানো হয়েছিল। ফলে কয়েক দফায় আত্মসমর্পণ ও গ্রেপ্তারের মাধ্যমে পলাতকদের মধ্যে প্রায় সাতশ কয়েদিকে কারাগারে ফেরাতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ। তবে লুট হওয়া ৮৫টি অস্ত্রের মধ্যে ৫৯টি উদ্ধার হলেও বাকি রয়েছে ২৬টি অস্ত্র। এসব অস্ত্রের মধ্যে চায়না ও বিডি রাইফেল এবং বোর শটগান রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এই ঘটনায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগ নরসিংদী কারাগারের তৎকালীন জেল সুপার আবুল কালাম আজাদ ও জেলার কামরুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নেত্রকোণার পূর্বধলায় কৃষক দল নেতাকে মারধর করে টাকা ও মোটরসাইকেল ছিনতাইয়ের অভিযোগ

নরসিংদীতে আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি: এক বছরে শতাধিক নিহত, উদ্ধার হয়নি লুন্ঠিত অস্ত্র

আপডেট সময় : ০৯:৫৮:৫২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

নরসিংদী জেলখানা ভাঙার দুই বছর পেরিয়ে গেলেও জেলাটিতে আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি ঘটেছে। একদিকে ৯টি চরাঞ্চলে টেঁটাযুদ্ধ, অপরদিকে মাদকের অভয়ারণ্য ও নারী নির্যাতনের ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষের ঘটনায় লুট হওয়া অস্ত্রের ব্যবহার হচ্ছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। গত এক বছরে সংঘর্ষে শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে, যা জনমনে তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।

বিগত দিনের অপরাধের পাশাপাশি ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় নরসিংদী জেলা কারাগারে হামলার ঘটনা অপরাধের মাত্রাকে নতুন করে বাড়িয়ে দিয়েছে। ওই দিন জেলখানায় আগুন দিয়ে দরজা ভেঙে পালিয়ে যায় সাত জঙ্গিসহ ৮২৬ কয়েদি। লুট হয় কারাগারে থাকা ৮৫টি হাতিয়ার ও আট হাজার ১৫টি গোলাবারুদ। সেই থেকে ১৯ জুলাই নরসিংদীতে একটি আলোচিত ঘটনাবহুল দিন।

এরপর ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তায় অপরাধের মাত্রা অস্বাভাবিকভাবেই বেড়ে যায়। পাঁচ হাজারেরও বেশি গোলাবারুদ, ২৬টি অস্ত্র এখনো উদ্ধার হয়নি এবং ১৬৭ জন আসামি পলাতক রয়েছে। এর ফলে জেলাজুড়ে হত্যা, ছিনতাই, রাহাজানিসহ গুরুতর অপরাধের প্রবণতা ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিগত এক বছরে নরসিংদীতে শতাধিক চাঞ্চল্যকর খুনের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার বেশিরভাগই হয়েছে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, আধিপত্য বিস্তার ও নারী নির্যাতনের জের ধরে। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে জেলার অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের দাবি জানানো হলেও সব অস্ত্র উদ্ধার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

জেলখানায় হামলা ও লুটপাটের ঘটনায় তৎকালীন জেলার কামরুল ইসলাম বাদী হয়ে দুটি মামলাও করেন। কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া আসামিরা যাতে স্থানীয় থানা, কারাগার ও আদালতের মাধ্যমে আত্মসমর্পণ করেন, তার জন্য নরসিংদী জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং, প্রচারপত্র বিলি ও বিভিন্ন স্থানে সাইনবোর্ড টানানো হয়েছিল। ফলে কয়েক দফায় আত্মসমর্পণ ও গ্রেপ্তারের মাধ্যমে পলাতকদের মধ্যে প্রায় সাতশ কয়েদিকে কারাগারে ফেরাতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ। তবে লুট হওয়া ৮৫টি অস্ত্রের মধ্যে ৫৯টি উদ্ধার হলেও বাকি রয়েছে ২৬টি অস্ত্র। এসব অস্ত্রের মধ্যে চায়না ও বিডি রাইফেল এবং বোর শটগান রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এই ঘটনায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগ নরসিংদী কারাগারের তৎকালীন জেল সুপার আবুল কালাম আজাদ ও জেলার কামরুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করে।