ঢাকা ০৩:১৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকা ছোট্ট আহাদ আর ফেরেনি, সন্তান হত্যার বিচার চান শোকার্ত বাবা

জুলাই বিপ্লবের রক্তঝরা দিনগুলোতে অকালে ঝরে যাওয়া সর্বকনিষ্ঠ শহীদের নাম আব্দুল আহাদ। মাত্র চার বছর বয়সী এই শিশুটি গত ১৯ জুলাই রাজধানীর রায়েরবাগে নিজ বাসার বারান্দায় গুলিবিদ্ধ হয়েছিল। সংঘর্ষ দেখার কৌতূহল নিয়ে বাবার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা শিশুটির চোখে বিদ্ধ হওয়া একটি প্রাণঘাতী গুলি কেড়ে নিয়েছে তার সব স্বপ্ন। ২০ জুলাই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় না ফেরার দেশে চলে যায় নিষ্পাপ আহাদ।

সেদিনের সেই বিভীষিকাময় ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে আহাদের বাবা আবুল হাসান জানান, বিকট শব্দে ঘুম ভেঙে গেলে আহাদ বারান্দায় গিয়ে নিচে কী হচ্ছে তা দেখতে চেয়েছিল। বারান্দায় দাঁড়ানো অবস্থায় হঠাৎ নিচ থেকে আসা একটি গুলি তার ডান চোখে লাগে এবং সে লুটিয়ে পড়ে। রক্তাক্ত অবস্থায় ছেলেকে নিয়ে রিকশায় করে বিভিন্ন গলিপথ পেরিয়ে হাসপাতালে পৌঁছালেও শেষ রক্ষা হয়নি। আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় ডাক্তাররা জানান, তার মাথায় গুলি আটকে আছে যা বের করা অসম্ভব ছিল।

সন্তান হারানোর শোকে মুহ্যমান আবুল হাসান এখন মিরপুরের একটি সরকারি কোয়ার্টারে থাকছেন। রায়েরবাগের সেই স্মৃতিময় ফ্ল্যাটটি তিনি ছেড়ে দিয়েছেন, কারণ সেখানে গেলেই ছেলের শেষ মুহূর্তের দৃশ্য তার চোখে ভেসে ওঠে। সরকারি চাকরিজীবী এই বাবা এখন শুধু তার নিষ্পাপ সন্তান হত্যার সুষ্ঠু বিচার চান। আহাদের আত্মত্যাগ যেন বৃথা না যায় এবং দোষীরা যেন শাস্তি পায়, সেই আকুতিই এখন তার পরিবারের।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দিল্লিতে নতুন রাজনৈতিক চাপানউতোর: নিট বিতর্ক ও কৃষকদের আন্দোলনে উত্তপ্ত রাজধানী

বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকা ছোট্ট আহাদ আর ফেরেনি, সন্তান হত্যার বিচার চান শোকার্ত বাবা

আপডেট সময় : ০৯:৩৬:১৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

জুলাই বিপ্লবের রক্তঝরা দিনগুলোতে অকালে ঝরে যাওয়া সর্বকনিষ্ঠ শহীদের নাম আব্দুল আহাদ। মাত্র চার বছর বয়সী এই শিশুটি গত ১৯ জুলাই রাজধানীর রায়েরবাগে নিজ বাসার বারান্দায় গুলিবিদ্ধ হয়েছিল। সংঘর্ষ দেখার কৌতূহল নিয়ে বাবার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা শিশুটির চোখে বিদ্ধ হওয়া একটি প্রাণঘাতী গুলি কেড়ে নিয়েছে তার সব স্বপ্ন। ২০ জুলাই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় না ফেরার দেশে চলে যায় নিষ্পাপ আহাদ।

সেদিনের সেই বিভীষিকাময় ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে আহাদের বাবা আবুল হাসান জানান, বিকট শব্দে ঘুম ভেঙে গেলে আহাদ বারান্দায় গিয়ে নিচে কী হচ্ছে তা দেখতে চেয়েছিল। বারান্দায় দাঁড়ানো অবস্থায় হঠাৎ নিচ থেকে আসা একটি গুলি তার ডান চোখে লাগে এবং সে লুটিয়ে পড়ে। রক্তাক্ত অবস্থায় ছেলেকে নিয়ে রিকশায় করে বিভিন্ন গলিপথ পেরিয়ে হাসপাতালে পৌঁছালেও শেষ রক্ষা হয়নি। আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় ডাক্তাররা জানান, তার মাথায় গুলি আটকে আছে যা বের করা অসম্ভব ছিল।

সন্তান হারানোর শোকে মুহ্যমান আবুল হাসান এখন মিরপুরের একটি সরকারি কোয়ার্টারে থাকছেন। রায়েরবাগের সেই স্মৃতিময় ফ্ল্যাটটি তিনি ছেড়ে দিয়েছেন, কারণ সেখানে গেলেই ছেলের শেষ মুহূর্তের দৃশ্য তার চোখে ভেসে ওঠে। সরকারি চাকরিজীবী এই বাবা এখন শুধু তার নিষ্পাপ সন্তান হত্যার সুষ্ঠু বিচার চান। আহাদের আত্মত্যাগ যেন বৃথা না যায় এবং দোষীরা যেন শাস্তি পায়, সেই আকুতিই এখন তার পরিবারের।