দীর্ঘ অপেক্ষার পর বাংলাদেশিদের জন্য ভারতের ভিসা পরিষেবা পুনরায় চালু হলেও কলকাতার পরিচিত ব্যস্ত এলাকাগুলোর চিত্র এখনও বদলায়নি। একসময় বাংলাদেশি পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত নিউ মার্কেট ও মার্কুইস স্ট্রিট চত্বর এখনও অনেকাংশে ফাঁকা। কলকাতার স্থানীয় ব্যবসায়ী ও হোটেল মালিকরা ভিসা চালুর পর পরিস্থিতির উন্নতির আশা করলেও বাস্তবে তেমনটা ঘটেনি, যা তাদের মধ্যে গভীর হতাশার সৃষ্টি করেছে।
বাংলাদেশি সাধারণ মানুষ ও পর্যটকদের ভারত ভ্রমণের অনীহার পেছনে বেশ কিছু নিয়ামক কাজ করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের মন্তব্য থেকে জানা যায়, পশ্চিমবঙ্গসহ ভারতের অধিকাংশ রাজ্যে বিজেপি সরকারের প্রভাব এবং মুসলিমদের ওপর আক্রমণের খবরে অনেক বাংলাদেশি নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত। কাজী ইকবাল হোসেন নামের একজন নেটিজেন উল্লেখ করেন, ব্যাগ তল্লাশি করে গরুর মাংস খোঁজার মতো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটতে পারে এমন আশঙ্কায় ব্যক্তিগত নিরাপত্তা এখন তাদের কাছে প্রধান ইস্যু। আমিন বাবু নামের আরেকজন মন্তব্য করেন, পর্যটকরা ভ্রমণের ক্ষেত্রে সবার আগে ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও আতিথেয়তার বিষয়ে নিশ্চিত হতে চান।
ভারতের রাজনৈতিক দলগুলোর বিরূপ মন্তব্য ও আচরণও অনেককে মানসিকভাবে নিরুৎসাহিত করছে। এর পাশাপাশি বাংলাদেশিরা এখন কলকাতার একচেটিয়া পর্যটনের বিকল্প খুঁজতে শুরু করেছেন। গত দুই বছর ভারতের ভিসা বন্ধ থাকায় অনেক বাংলাদেশি ব্যাপকভাবে চীনের দিকে ঝুঁকেছেন। চীনে ভ্রমণের পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্যের বিশাল সুযোগ এবং চীনা সরকার ও সাধারণ মানুষের আন্তরিকতায় তারা মুগ্ধ। শুধু ডলার খরচ করে কলকাতায় কেনাকাটা করার চেয়ে চীনে গিয়ে ডলার আয় বা ব্যবসার নতুন দিক উন্মোচন করাকে তারা অনেক বেশি লাভজনক ও সম্মানজনক মনে করছেন। মামুন হাসান নামের এক নেটিজেন উল্লেখ করেন, অর্থ খরচ করে ঘুরতে গেলে বাংলাদেশিরা এখন মালদ্বীপ, থাইল্যান্ড, নেপাল, সিঙ্গাপুর বা শ্রীলঙ্কার মতো দেশগুলোকে বেশি অগ্রাধিকার দিচ্ছেন।
এই সার্বিক পরিস্থিতিতে কলকাতার ব্যবসায়ী এবং পর্যটনশিল্পের সঙ্গে যুক্ত মানুষেরা চরম হতাশায় দিন পার করছেন। তাদের মতে, পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে এই অঞ্চলের অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
রিপোর্টারের নাম 






















