ঢাকা ০৩:৩৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

ইরাকে ইরানি ড্রোন নিষ্ক্রিয় করতে গিয়ে মার্কিন সেনা নিহত, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি

ইরানের সঙ্গে চলমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যে উত্তর ইরাকে একটি ভূপাতিত ইরানি ড্রোন নিষ্ক্রিয় করার সময় ভয়াবহ বিস্ফোরণে এক মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় আরও একজন মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন বলে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, গত ১৮ জুলাই উত্তর ইরাকে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত সেনার নাম-পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল যৌথ বাহিনীর মধ্যে সংঘাত শুরুর পর থেকে এ নিয়ে মোট ১৭ জন মার্কিন সেনা সদস্যের প্রাণহানি ঘটলো। এর আগে গত শুক্রবার জর্ডানে ইরানি হামলায় আরও দুই মার্কিন সেনা নিহত হন এবং একজন নিখোঁজ হন। সেন্টকম জানায়, জর্ডানের দুর্ঘটনাস্থল থেকে অজ্ঞাতপরিচয় কিছু দেহাবশেষ পাওয়া গেছে, যা শনাক্ত করার জন্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে।

গত মাসে সই হওয়া অন্তর্বর্তী যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভেস্তে যাওয়া এবং গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধ তৈরি হওয়ায় সাম্প্রতিক দিনগুলোতে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলা আরও জোরদার হয়েছে। এই সংঘাতের কারণে ইতোমধ্যে হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে মারাত্মক বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে, যা বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতির ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলেছে।

সংঘাতের শুরু থেকেই উপসাগরীয় অঞ্চলে শত্রুভাবাপন্ন বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে শত শত একমুখী আক্রমণকারী ড্রোন নিক্ষেপ করছে ইরান। ‘শাহেদ’ নামের এই ড্রোনগুলো স্বল্প ব্যয়ে নির্মিত এবং অত্যন্ত শক্তিশালী বিস্ফোরক বহনে সক্ষম। প্রতিটি শাহেদ ড্রোন তৈরিতে খরচ হয় প্রায় ৩০ হাজার ডলার, যা সামরিক দিক থেকে ইরানের জন্য বেশ সাশ্রয়ী। অন্যদিকে এসব ড্রোন আকাশে ধ্বংস করতে ব্যবহৃত প্রতিটি ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের পেছনে কয়েক মিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়। আবার অনেক সময় এসব ব্যয়বহুল ইন্টারসেপ্টর লক্ষ্যবস্তু চিহ্নিত করতেই ব্যর্থ হয়।

এদিকে, ইরানের মেহর নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, দক্ষিণ ইরানের সিরিক শহরের কাছে এবং ইরাক সীমান্তবর্তী শাদেগানের কাছে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে হামলা চালিয়েছে। পরবর্তীতে ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় আবাদান এলাকাতেও বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নেত্রকোণার পূর্বধলায় কৃষক দল নেতাকে মারধর করে টাকা ও মোটরসাইকেল ছিনতাইয়ের অভিযোগ

ইরাকে ইরানি ড্রোন নিষ্ক্রিয় করতে গিয়ে মার্কিন সেনা নিহত, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি

আপডেট সময় : ১০:০২:৩৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

ইরানের সঙ্গে চলমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যে উত্তর ইরাকে একটি ভূপাতিত ইরানি ড্রোন নিষ্ক্রিয় করার সময় ভয়াবহ বিস্ফোরণে এক মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় আরও একজন মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন বলে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, গত ১৮ জুলাই উত্তর ইরাকে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত সেনার নাম-পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল যৌথ বাহিনীর মধ্যে সংঘাত শুরুর পর থেকে এ নিয়ে মোট ১৭ জন মার্কিন সেনা সদস্যের প্রাণহানি ঘটলো। এর আগে গত শুক্রবার জর্ডানে ইরানি হামলায় আরও দুই মার্কিন সেনা নিহত হন এবং একজন নিখোঁজ হন। সেন্টকম জানায়, জর্ডানের দুর্ঘটনাস্থল থেকে অজ্ঞাতপরিচয় কিছু দেহাবশেষ পাওয়া গেছে, যা শনাক্ত করার জন্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে।

গত মাসে সই হওয়া অন্তর্বর্তী যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভেস্তে যাওয়া এবং গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধ তৈরি হওয়ায় সাম্প্রতিক দিনগুলোতে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলা আরও জোরদার হয়েছে। এই সংঘাতের কারণে ইতোমধ্যে হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে মারাত্মক বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে, যা বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতির ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলেছে।

সংঘাতের শুরু থেকেই উপসাগরীয় অঞ্চলে শত্রুভাবাপন্ন বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে শত শত একমুখী আক্রমণকারী ড্রোন নিক্ষেপ করছে ইরান। ‘শাহেদ’ নামের এই ড্রোনগুলো স্বল্প ব্যয়ে নির্মিত এবং অত্যন্ত শক্তিশালী বিস্ফোরক বহনে সক্ষম। প্রতিটি শাহেদ ড্রোন তৈরিতে খরচ হয় প্রায় ৩০ হাজার ডলার, যা সামরিক দিক থেকে ইরানের জন্য বেশ সাশ্রয়ী। অন্যদিকে এসব ড্রোন আকাশে ধ্বংস করতে ব্যবহৃত প্রতিটি ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের পেছনে কয়েক মিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়। আবার অনেক সময় এসব ব্যয়বহুল ইন্টারসেপ্টর লক্ষ্যবস্তু চিহ্নিত করতেই ব্যর্থ হয়।

এদিকে, ইরানের মেহর নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, দক্ষিণ ইরানের সিরিক শহরের কাছে এবং ইরাক সীমান্তবর্তী শাদেগানের কাছে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে হামলা চালিয়েছে। পরবর্তীতে ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় আবাদান এলাকাতেও বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।