ঢাকা ০৩:৩৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

বাঁশখালীতে ভয়াবহ বন্যায় ২০০ কোটি টাকার ক্ষতি, পুনর্বাসনের দাবি

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যায় অন্তত ২০০ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। সাতটি প্রধান খাতে এই বিপুল পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিক হিসাবে জানা গেছে। দুর্যোগে সর্বস্ব হারানো মানুষেরা এখন আর কেবল ত্রাণ নয়, বরং টেকসই পুনর্বাসন এবং মাথা গোঁজার ঠাঁই বা একটি স্থায়ী ঘরের দাবি জানাচ্ছেন।

বাঁশখালীর খানখানাবাদ, গুনাগরি, বাহারছড়া, ছনুয়া, পুঁইছড়ি, শেখেরখীল, চাম্বল, গন্ডামারা, জলদী, সরল, সাধনপুর, পুকুরিয়া ও বৈলছড়ীর কয়েক লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে ঘরবাড়ি হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তাদের একটাই দাবি, শুধু সাময়িক ত্রাণ বিতরণ না করে স্থায়ীভাবে পুনর্বাসন এবং ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িঘর নির্মাণ করে দেওয়া হোক।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রমতে, বন্যায় পানিতে ডুবে ৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে, ঢলে ভেসে মারা গেছে ২ জন এবং ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে আসবাহার বেগম ও মরিয়ম বেগম নামে দুই নারীর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া সাপের দংশনে ৩৫ জনসহ বিভিন্নভাবে আরও ২৪ জন আহত হয়েছেন।

সরকার বন্যাদুর্গত এলাকায় ত্রাণ বিতরণের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন নিশ্চিত করার ওপর জোর দিচ্ছে। সরকারের লক্ষ্য শুধু ত্রাণ দেওয়া নয়, দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি মেরামত ও সড়ক-কালভার্ট সংস্কার করে মানুষের স্বাভাবিক জীবন ফিরিয়ে আনা। বাঁশখালীতে সরকারি প্রচেষ্টার পাশাপাশি বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা, ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান দুর্গত এলাকায় ত্রাণ বিতরণ, ঘর নির্মাণ এবং দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন কার্যক্রম শুরু করেছে। দুর্গম ও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে ক্ষয়ক্ষতির সঠিক তালিকা প্রস্তুত করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পুনর্বাসন কার্যক্রম পরিচালনা করা এখন স্থানীয় প্রশাসন ও সাহায্যকারী সংস্থাগুলোর জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শনিবার পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ১০ হাজার ১০০ প্যাকেট শুকনো খাবার, ৭ হাজার প্যাকেট রান্না করা খাবার ও ১৭৮ টন চাল বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া ১ লাখ ৩০ হাজার পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট, ১০০টি হাইজিন বক্স, ১৫৬টি জেরিকেন পানি ও পর্যাপ্ত খাবার স্যালাইন বিতরণ করা হয়েছে। আরও ২০০ প্যাকেট শুকনো খাবার ও নতুন বরাদ্দ পাওয়া ৫০ টন চাল মজুদ রাখা হয়েছে।

উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা তৌসিব উদ্দিন জানান, ১৪টি ইউনিয়নে ৪ হাজার ২০০ পুকুর এবং ১৮৮০.৫৭ হেক্টর আয়তনের ৩১০টি চিংড়ি ঘেরের মাছ ভেসে গেছে। এতে ৫ হাজার খামারির প্রায় ৫১ কোটি ৬৩ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. জুয়েল মাহমুদ জানান, বন্যায় বিপুল সংখ্যক গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগি মারা গেছে এবং অনেক খামারের অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নেত্রকোণার পূর্বধলায় কৃষক দল নেতাকে মারধর করে টাকা ও মোটরসাইকেল ছিনতাইয়ের অভিযোগ

বাঁশখালীতে ভয়াবহ বন্যায় ২০০ কোটি টাকার ক্ষতি, পুনর্বাসনের দাবি

আপডেট সময় : ০৯:৫৭:০২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যায় অন্তত ২০০ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। সাতটি প্রধান খাতে এই বিপুল পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিক হিসাবে জানা গেছে। দুর্যোগে সর্বস্ব হারানো মানুষেরা এখন আর কেবল ত্রাণ নয়, বরং টেকসই পুনর্বাসন এবং মাথা গোঁজার ঠাঁই বা একটি স্থায়ী ঘরের দাবি জানাচ্ছেন।

বাঁশখালীর খানখানাবাদ, গুনাগরি, বাহারছড়া, ছনুয়া, পুঁইছড়ি, শেখেরখীল, চাম্বল, গন্ডামারা, জলদী, সরল, সাধনপুর, পুকুরিয়া ও বৈলছড়ীর কয়েক লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে ঘরবাড়ি হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তাদের একটাই দাবি, শুধু সাময়িক ত্রাণ বিতরণ না করে স্থায়ীভাবে পুনর্বাসন এবং ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িঘর নির্মাণ করে দেওয়া হোক।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রমতে, বন্যায় পানিতে ডুবে ৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে, ঢলে ভেসে মারা গেছে ২ জন এবং ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে আসবাহার বেগম ও মরিয়ম বেগম নামে দুই নারীর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া সাপের দংশনে ৩৫ জনসহ বিভিন্নভাবে আরও ২৪ জন আহত হয়েছেন।

সরকার বন্যাদুর্গত এলাকায় ত্রাণ বিতরণের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন নিশ্চিত করার ওপর জোর দিচ্ছে। সরকারের লক্ষ্য শুধু ত্রাণ দেওয়া নয়, দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি মেরামত ও সড়ক-কালভার্ট সংস্কার করে মানুষের স্বাভাবিক জীবন ফিরিয়ে আনা। বাঁশখালীতে সরকারি প্রচেষ্টার পাশাপাশি বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা, ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান দুর্গত এলাকায় ত্রাণ বিতরণ, ঘর নির্মাণ এবং দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন কার্যক্রম শুরু করেছে। দুর্গম ও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে ক্ষয়ক্ষতির সঠিক তালিকা প্রস্তুত করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পুনর্বাসন কার্যক্রম পরিচালনা করা এখন স্থানীয় প্রশাসন ও সাহায্যকারী সংস্থাগুলোর জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শনিবার পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ১০ হাজার ১০০ প্যাকেট শুকনো খাবার, ৭ হাজার প্যাকেট রান্না করা খাবার ও ১৭৮ টন চাল বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া ১ লাখ ৩০ হাজার পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট, ১০০টি হাইজিন বক্স, ১৫৬টি জেরিকেন পানি ও পর্যাপ্ত খাবার স্যালাইন বিতরণ করা হয়েছে। আরও ২০০ প্যাকেট শুকনো খাবার ও নতুন বরাদ্দ পাওয়া ৫০ টন চাল মজুদ রাখা হয়েছে।

উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা তৌসিব উদ্দিন জানান, ১৪টি ইউনিয়নে ৪ হাজার ২০০ পুকুর এবং ১৮৮০.৫৭ হেক্টর আয়তনের ৩১০টি চিংড়ি ঘেরের মাছ ভেসে গেছে। এতে ৫ হাজার খামারির প্রায় ৫১ কোটি ৬৩ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. জুয়েল মাহমুদ জানান, বন্যায় বিপুল সংখ্যক গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগি মারা গেছে এবং অনেক খামারের অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।