উজানে ভারতের বিভিন্ন এলাকায় গত কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের নদ-নদীগুলোতে, বিশেষ করে তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি আবারও বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রাম জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে যেকোনো সময় বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্র নিশ্চিত করেছে, উজানের ভারী বৃষ্টি ও ঢলের প্রভাবে তিস্তা নদীর পানিপ্রবাহ চতুর্থবারের মতো বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বাংলাদেশের ডালিয়া পয়েন্টে পানি বিপদসীমার কাছ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে নদী তীরবর্তী এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ এবং নদীতীরবর্তী এলাকার উঁচু সড়কগুলো বর্তমানে চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। দীর্ঘকাল ধরে সংস্কার না হওয়ায় এসব বাঁধ চলতি বন্যায় বড় ধরনের বিপর্যয়ের কারণ হতে পারে। তাদের দাবি, শুকনো মৌসুমে বাঁধ সংস্কার না করে বর্ষা এলে জরুরি মেরামতের নামে সরকারি অর্থের অপচয় করা হয়, যা টেকসই হয় না। শুকনো মৌসুমেই বাঁধ সংস্কার করা হলে নদীভাঙন ও বন্যার ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশে কমানো যেত।
গোবর্ধন গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল হাকিম জানান, রোববার রাত থেকে পানি বাড়তে শুরু করেছে এবং তিস্তার পানির চাপ দেখে বড় বন্যার আশঙ্কা করছেন তারা। তিনি বলেন, ‘বড় বন্যা হলে দীর্ঘদিন সংস্কার না করা বাঁধগুলো ভেঙে যেতে পারে। এমন হলে ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে। বন্যার সময় নদীপাড়ের মানুষ হিসেবে আমরা নির্ঘুম রাত কাটাই। চারদিকে শুধু পানি আর পানি।’
নদীপারের বালাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা তসর উদ্দিন বলেন, ‘কয়েক দিন ধরে পানি বাড়া-কমা করছিল। আজকে বাড়ার পরিমাণ বেশি। চরাঞ্চলের অনেক বাড়িতে পানি উঠতে শুরু করেছে। বন্যা এলেই শিশু, বৃদ্ধ ও প্রতিবন্ধীদের নিয়ে চরম কষ্টে থাকতে হয়। গরু, ছাগল ও হাঁস-মুরগি নিয়েও দুর্ভোগে পড়তে হয়। এর মধ্যেই থাকে সাপ-পোকার উপদ্রব। বন্যা যত দিন থাকে, আমাদের দুর্ভোগও তত দিন থাকে।’
ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী জানিয়েছেন, উজানের পানিপ্রবাহ অব্যাহত থাকায় তিস্তা নদীর ডালিয়া পয়েন্টে পানি বেড়েছে। তিনি বলেন, এ কারণে নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে হালকা বন্যা দেখা দিতে পারে। বন্যা পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 























