বাংলাদেশের সংসদ ও সংসদীয় রাজনীতি বেশিরভাগ সময়েই কার্যকর ছিল না, বরং ফ্যাসিজমের কবলে পড়ে এটি অনেকটা অকার্যকর বা ‘ডামি’ প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫৫ বছর অতিক্রান্ত হলেও সংসদীয় গণতন্ত্রের প্রকৃত প্রয়োগ ছিল অত্যন্ত সীমিত।
বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় সংসদে এক শুভেচ্ছা বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় সংসদ অধিবেশনের সভাপতিত্ব করেন স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। বিরোধী দলীয় নেতা তার বক্তব্যে দেশের স্বাধীনতার ৫০ বছরের গৌরবময় যাত্রাপথে ৪৭, ৭১, ৯০ এবং শাপলা চত্বরের শহীদদের স্মরণ করেন। তিনি ফ্যাসিবাদী শাসনামলে নির্যাতিত, আহত, পঙ্গু বা কারাবরণকারী সকল শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি বলেন, যারা ২৪’এর লড়াইয়ে বুক চিতিয়ে লড়েছেন, তাদের ত্যাগের কারণেই আজকের এই সংসদে তাদের উপস্থিতি সম্ভব হয়েছে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আজকের এই সংসদ গতানুগতিক নয়, বরং এটি ‘২৪-এর রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা একটি সংসদ’। তিনি নবনির্বাচিত স্পিকার এবং ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালকে অভিনন্দন জানান। জামায়াতের আমির বলেন, স্পিকারের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা ব্যক্তি যিনি একটি দল থেকে নির্বাচিত হলেও জাতীয়তাবাদের স্থায়ী কমিটির সদস্যপদ থেকে পদত্যাগ করে নিরপেক্ষ অবস্থান নিয়েছেন, তা অত্যন্ত প্রশংসার যোগ্য। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, স্পিকারের নিরপেক্ষ ও অভিভাবকসুলভ নেতৃত্ব একটি গতিশীল সংসদ গঠনে সহায়ক হবে এবং সকল দলের সদস্যরা জাতীয় কল্যাণে সুবিচার পাবেন।
তিনি আরও বলেন, আজকের সংসদে অনেক তরুণ সদস্যের উপস্থিতি তাকে আশাবাদী করেছে। যদিও তার নিজের বয়স হয়েছে, তবুও তিনি নিজেকে তরুণদের একজন হিসেবেই গণ্য করেন এবং এটি তার প্রথম সংসদীয় অভিজ্ঞতা। স্পিকারকে উদ্দেশ্য করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, একজন লড়াকু মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আপনি এই সংসদকে সঠিক পথে চালিত করতে পারবেন বলে তিনি আশাবাদী।
রিপোর্টারের নাম 























