ঢাকা ০৮:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬

তীব্র প্রতিবাদ ও ওয়াকআউটের মধ্য দিয়ে শেষ হলো সংসদ অধিবেশনের উদ্বোধনী দিন; মুলতবি ঘোষণা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:২৯:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

তীব্র প্রতিবাদ, প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন এবং বিরোধী দলের ওয়াকআউটের মধ্য দিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের উদ্বোধনী দিন শেষ হয়েছে। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ভাষণ শেষ হওয়ার পর স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম অধিবেশনটি আগামী রোববার, ১৫ মার্চ, বেলা ১১টা পর্যন্ত মুলতবি ঘোষণা করেন।

বৃহস্পতিবার বিকেলে, অধিবেশনের বিধি অনুযায়ী রাষ্ট্রপতিকে ভাষণ দেওয়ার জন্য মঞ্চে আহ্বান জানানো হলে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যরা নিজ নিজ আসনে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ শুরু করেন। তাঁদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডগুলোতে ‘জুলাই নিয়ে গাদ্দারি চলবে না’, ‘গণতন্ত্র চাই, ফ্যাসিজম নয়’ এবং ‘জুলাইয়ের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা বন্ধ করো’ লেখা ছিল। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বারবার শান্ত থাকার অনুরোধ জানালেও বিরোধী দলের সদস্যরা স্লোগান দিতে থাকেন। একপর্যায়ে, রাষ্ট্রপতির উপস্থিতি ও ভাষণের প্রতিবাদ জানিয়ে তাঁরা সংসদ কক্ষ ত্যাগ করেন।

বিরোধী দলের অনুপস্থিতিতে কিছুটা বিব্রতকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হলেও রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাঁর লিখিত ভাষণ পাঠ করেন। তিনি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট এবং অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা তুলে ধরেন। রাষ্ট্রপতি তাঁর ভাষণে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, তাঁর দল বিএনপি এবং মিত্রদের অভিনন্দন জানান। একইসঙ্গে, তিনি একটি শক্তিশালী বিরোধী দলের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করে তাদেরও শুভেচ্ছা জানান। রাষ্ট্রপতির বক্তব্য চলাকালে সরকারি বেঞ্চের সদস্যদের বিপুল উৎসাহে টেবিল চাপড়াতে দেখা যায়।

সংসদ কক্ষ থেকে বের হয়ে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি কড়া ভাষায় রাষ্ট্রপতির সমালোচনা করে বলেন, ‘জুলাই হত্যাকাণ্ডের সময় অভিভাবক হিসেবে মো. সাহাবুদ্দিন কোনো কার্যকর ভূমিকা নেননি। তিনি ফ্যাসিবাদী খুনি সরকারের সহযোগী ছিলেন। এই পবিত্র সংসদে বক্তব্য দেওয়ার কোনো নৈতিক অধিকার তার নেই।’ বিরোধী দলের অন্য নেতারাও অভিযোগ করেন যে, জুলাই অভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার রক্তের সঙ্গে যারা বেইমানি করেছে, তাদের কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।

রাষ্ট্রপতির ভাষণ শেষ হওয়ার পর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ আগামী রোববার বেলা ১১টা পর্যন্ত সংসদ মুলতবি ঘোষণা করেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৪৪+৯৪ জন নিয়োগ: আবেদন শেষ ৩১ মার্চ

তীব্র প্রতিবাদ ও ওয়াকআউটের মধ্য দিয়ে শেষ হলো সংসদ অধিবেশনের উদ্বোধনী দিন; মুলতবি ঘোষণা

আপডেট সময় : ০৬:২৯:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬

তীব্র প্রতিবাদ, প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন এবং বিরোধী দলের ওয়াকআউটের মধ্য দিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের উদ্বোধনী দিন শেষ হয়েছে। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ভাষণ শেষ হওয়ার পর স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম অধিবেশনটি আগামী রোববার, ১৫ মার্চ, বেলা ১১টা পর্যন্ত মুলতবি ঘোষণা করেন।

বৃহস্পতিবার বিকেলে, অধিবেশনের বিধি অনুযায়ী রাষ্ট্রপতিকে ভাষণ দেওয়ার জন্য মঞ্চে আহ্বান জানানো হলে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যরা নিজ নিজ আসনে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ শুরু করেন। তাঁদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডগুলোতে ‘জুলাই নিয়ে গাদ্দারি চলবে না’, ‘গণতন্ত্র চাই, ফ্যাসিজম নয়’ এবং ‘জুলাইয়ের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা বন্ধ করো’ লেখা ছিল। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বারবার শান্ত থাকার অনুরোধ জানালেও বিরোধী দলের সদস্যরা স্লোগান দিতে থাকেন। একপর্যায়ে, রাষ্ট্রপতির উপস্থিতি ও ভাষণের প্রতিবাদ জানিয়ে তাঁরা সংসদ কক্ষ ত্যাগ করেন।

বিরোধী দলের অনুপস্থিতিতে কিছুটা বিব্রতকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হলেও রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাঁর লিখিত ভাষণ পাঠ করেন। তিনি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট এবং অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা তুলে ধরেন। রাষ্ট্রপতি তাঁর ভাষণে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, তাঁর দল বিএনপি এবং মিত্রদের অভিনন্দন জানান। একইসঙ্গে, তিনি একটি শক্তিশালী বিরোধী দলের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করে তাদেরও শুভেচ্ছা জানান। রাষ্ট্রপতির বক্তব্য চলাকালে সরকারি বেঞ্চের সদস্যদের বিপুল উৎসাহে টেবিল চাপড়াতে দেখা যায়।

সংসদ কক্ষ থেকে বের হয়ে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি কড়া ভাষায় রাষ্ট্রপতির সমালোচনা করে বলেন, ‘জুলাই হত্যাকাণ্ডের সময় অভিভাবক হিসেবে মো. সাহাবুদ্দিন কোনো কার্যকর ভূমিকা নেননি। তিনি ফ্যাসিবাদী খুনি সরকারের সহযোগী ছিলেন। এই পবিত্র সংসদে বক্তব্য দেওয়ার কোনো নৈতিক অধিকার তার নেই।’ বিরোধী দলের অন্য নেতারাও অভিযোগ করেন যে, জুলাই অভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার রক্তের সঙ্গে যারা বেইমানি করেছে, তাদের কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।

রাষ্ট্রপতির ভাষণ শেষ হওয়ার পর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ আগামী রোববার বেলা ১১টা পর্যন্ত সংসদ মুলতবি ঘোষণা করেন।