‘আল্লাহভট্টারকস্বামীজনসিতবিহার’ – এই একক সংস্কৃত যৌগটি বাংলাদেশের প্রাচীনতম ইসলাম ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণের ইঙ্গিত দেয়, যা তুর্কি বিজয়ের বহু আগেই এই অঞ্চলে মুসলমানদের উপস্থিতির জানান দেয়। এটি একটি সাত লাইনের শিলালিপিতে পাওয়া গেছে, যা বর্মণ রাজবংশের রাজা ভোজবর্মণের (আনুমানিক ১১৩৭-১১৪৫ খ্রিষ্টাব্দ) শাসনামলের বলে শনাক্ত করা হয়েছে। রাজা ভোজবর্মণ তৎকালীন বাংলা, বিশেষ করে বর্তমান ঢাকা-বিক্রমপুর-ফরিদপুর অঞ্চল শাসন করতেন এবং বিক্রমপুর ছিল তার রাজধানী।
১৯৬৪ সালে মুন্সীগঞ্জ উপজেলার সুজানগরে আবিষ্কৃত এই শিলালিপিটি বর্তমানে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরে সংরক্ষিত আছে। শিলালিপিটি প্রথম ২০১০ সালে মরহুম শরিফুল ইসলাম অনুবাদ করেন। পরবর্তীতে, ২০১৯ সালে টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞ রিওসুকে ফুরুই এর একটি নতুন পাঠ ও উন্নত অনুবাদ প্রদান করেন। শিলালিপি অনুসারে, রাজা ভোজবর্মণের রাজত্বের সপ্তম বছরে, ১১৪৫ খ্রিষ্টাব্দে, তিনি এই ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে কড়ি আকারে আর্থিক অনুদান অনুমোদন করেছিলেন। ‘আল্লাহ’ বা ‘আল্লাহভট্টারকস্বামী’ শব্দটি সম্ভবত একটি মসজিদ এবং এর সঙ্গে সম্পর্কিত একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে নির্দেশ করে, যা ফুরুইয়ের মতে একটি মাদ্রাসার মতো ছিল।
শিলালিপিতে উল্লিখিত তথ্যমতে, এই পৃষ্ঠপোষকতার উদ্যোগটি রাজা ভোজবর্মণের অধস্তন এবং মধ্যস্থতাকারী শাসক বা মহাসামন্ত অভুদেবের কাছ থেকে এসেছিল। অভুদেব ছিলেন হাসির পুত্র এবং তার নামটি আরবি ‘আবু’-র সংস্কৃত রূপ। তিনি একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ছিলেন এবং তার নামের সঙ্গে ‘দেব’ প্রত্যয় যুক্ত হওয়াটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের জন্য ব্যবহৃত একটি সম্মানসূচক শব্দ।
যদিও এই সময়ের অনেক নথিপত্র সংস্কৃত ভাষায় রচিত এবং ব্রাহ্মণ্য ধর্মীয় গ্রন্থের উপর নির্ভরশীল, এই শিলালিপিটি বাংলাদেশের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের উন্মোচন করে, যা পূর্ব ধারণার বাইরে গিয়ে ইসলাম ধর্মের আগমনের এক প্রাচীনতম সাক্ষ্য বহন করে।
রিপোর্টারের নাম 





















