ঢাকা ০৪:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬

বাংলার বিস্মৃত নগরী খলিফাতাবাদ: ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সন্ধানে

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:০১:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

বর্তমান বাগেরহাট জেলা শহরের আশেপাশে ছড়িয়ে থাকা জলাশয়, খন্দক ও নদীগুলো ইঙ্গিত দেয় যে, প্রায় পঞ্চদশ শতাব্দীতে ভৈরব নদী বর্তমান সুন্দরঘোনা গ্রামের উত্তর-পূর্ব কোণ থেকে ঘুরে মগরা, রণবিজয়পুর, কৃষ্ণনগর গ্রামের পাশ দিয়ে সর্পিল গতিতে প্রবাহিত হতো। এই নদীর তীর ঘেঁষে আনুমানিক ৬.৫ কিলোমিটার (পূর্ব-পশ্চিম) এবং ৩.৫ কিলোমিটার (উত্তর-দক্ষিণ) বিস্তৃত একটি সুবিশাল নগরী গড়ে উঠেছিল। গবেষকদের মতে, সুলতানি আমলে এই নগরী ‘খলিফাতাবাদ’ এবং ‘হাবেলি কসবা’ নামে পরিচিত ছিল। বর্তমানে এটি ‘মসজিদ সিটি অব বাগেরহাট’ নামে ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ এবং ২০১১ সালে ফোর্বসের তালিকায় বিশ্বের ১৫টি হারানো শহরের মধ্যে এটিও স্থান করে নিয়েছে।

খলিফাতাবাদ বাংলাদেশের সমৃদ্ধ ইতিহাস ও ঐতিহ্যের এক গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন। এই স্বল্প পরিসরের নগরীতে রয়েছে অসংখ্য প্রাচীন স্থাপনা, যার মধ্যে সাতটি মসজিদ, মাজার এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন উল্লেখযোগ্য। এর মধ্যে রয়েছে খান জাহানের বসতভিটা, জাহাজঘাটা বা পাথরঘাটা, দিদার খাঁ মসজিদ, ষাটগম্বুজ মসজিদ, সিঙ্গাইর মসজিদ, বিবিবেগুনি মসজিদ, চুনাখোলা মসজিদ, খানজাহানের সমাধিসৌধ, পীরালী মোহাম্মদ তাহেরের সমাধি, এক গম্বুজবিশিষ্ট মসজিদ, নয়গম্বুজ মসজিদ, জিন্দাপীর স্থাপনাগুচ্ছ, রেজাখোদা মসজিদ, চিল্লাখানা মাজার, ফকিরবাড়ী মসজিদ/রণবিজয়পুর মসজিদ, দশগম্বুজ মসজিদ ও টাঁকশাল।

কালের বিবর্তনে এই সমৃদ্ধ নগরী একসময় প্রায় বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল। বিগত শতাব্দীর শুরুতে এখানকার অধিকাংশ স্থাপত্য নিদর্শন ধ্বংসপ্রাপ্ত ও পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল। পরবর্তীকালে, এগুলোর একটি বড় অংশ পুনরুদ্ধার ও সুরক্ষা করা হয়। কিছু স্থানে প্রত্নতাত্ত্বিক খননকার্যের মাধ্যমে মাটির নিচে চাপা পড়া নিদর্শনগুলো উন্মোচিত করা হয়েছে। তবে সামগ্রিকভাবে নগরীর পূর্ণাঙ্গ পরিচয় উদ্ধার করা চ্যালেঞ্জিং ছিল।

এই বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর উদ্যোগী হয়েছে। তারা ‘বিশ্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য খলিফাতাবাদ > বাগেরহাট’ শিরোনামে একটি সংক্ষিপ্ত প্রকাশনা বের করেছে। এই বইটিতে প্রাচীন খলিফাতাবাদের সকল পুরাস্থাপত্যিক নিদর্শন চিহ্নিত করা হয়েছে, সেগুলোর অবস্থান নির্দিষ্ট করা হয়েছে এবং সাধারণ বিবরণ প্রদান করা হয়েছে। এটি স্বল্প পরিসরে হলেও নগরীটির একটি সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরেছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সংসদে কবি আল মাহমুদের কবিতা আবৃত্তি করলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল

বাংলার বিস্মৃত নগরী খলিফাতাবাদ: ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সন্ধানে

আপডেট সময় : ০৩:০১:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬

বর্তমান বাগেরহাট জেলা শহরের আশেপাশে ছড়িয়ে থাকা জলাশয়, খন্দক ও নদীগুলো ইঙ্গিত দেয় যে, প্রায় পঞ্চদশ শতাব্দীতে ভৈরব নদী বর্তমান সুন্দরঘোনা গ্রামের উত্তর-পূর্ব কোণ থেকে ঘুরে মগরা, রণবিজয়পুর, কৃষ্ণনগর গ্রামের পাশ দিয়ে সর্পিল গতিতে প্রবাহিত হতো। এই নদীর তীর ঘেঁষে আনুমানিক ৬.৫ কিলোমিটার (পূর্ব-পশ্চিম) এবং ৩.৫ কিলোমিটার (উত্তর-দক্ষিণ) বিস্তৃত একটি সুবিশাল নগরী গড়ে উঠেছিল। গবেষকদের মতে, সুলতানি আমলে এই নগরী ‘খলিফাতাবাদ’ এবং ‘হাবেলি কসবা’ নামে পরিচিত ছিল। বর্তমানে এটি ‘মসজিদ সিটি অব বাগেরহাট’ নামে ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ এবং ২০১১ সালে ফোর্বসের তালিকায় বিশ্বের ১৫টি হারানো শহরের মধ্যে এটিও স্থান করে নিয়েছে।

খলিফাতাবাদ বাংলাদেশের সমৃদ্ধ ইতিহাস ও ঐতিহ্যের এক গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন। এই স্বল্প পরিসরের নগরীতে রয়েছে অসংখ্য প্রাচীন স্থাপনা, যার মধ্যে সাতটি মসজিদ, মাজার এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন উল্লেখযোগ্য। এর মধ্যে রয়েছে খান জাহানের বসতভিটা, জাহাজঘাটা বা পাথরঘাটা, দিদার খাঁ মসজিদ, ষাটগম্বুজ মসজিদ, সিঙ্গাইর মসজিদ, বিবিবেগুনি মসজিদ, চুনাখোলা মসজিদ, খানজাহানের সমাধিসৌধ, পীরালী মোহাম্মদ তাহেরের সমাধি, এক গম্বুজবিশিষ্ট মসজিদ, নয়গম্বুজ মসজিদ, জিন্দাপীর স্থাপনাগুচ্ছ, রেজাখোদা মসজিদ, চিল্লাখানা মাজার, ফকিরবাড়ী মসজিদ/রণবিজয়পুর মসজিদ, দশগম্বুজ মসজিদ ও টাঁকশাল।

কালের বিবর্তনে এই সমৃদ্ধ নগরী একসময় প্রায় বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল। বিগত শতাব্দীর শুরুতে এখানকার অধিকাংশ স্থাপত্য নিদর্শন ধ্বংসপ্রাপ্ত ও পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল। পরবর্তীকালে, এগুলোর একটি বড় অংশ পুনরুদ্ধার ও সুরক্ষা করা হয়। কিছু স্থানে প্রত্নতাত্ত্বিক খননকার্যের মাধ্যমে মাটির নিচে চাপা পড়া নিদর্শনগুলো উন্মোচিত করা হয়েছে। তবে সামগ্রিকভাবে নগরীর পূর্ণাঙ্গ পরিচয় উদ্ধার করা চ্যালেঞ্জিং ছিল।

এই বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর উদ্যোগী হয়েছে। তারা ‘বিশ্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য খলিফাতাবাদ > বাগেরহাট’ শিরোনামে একটি সংক্ষিপ্ত প্রকাশনা বের করেছে। এই বইটিতে প্রাচীন খলিফাতাবাদের সকল পুরাস্থাপত্যিক নিদর্শন চিহ্নিত করা হয়েছে, সেগুলোর অবস্থান নির্দিষ্ট করা হয়েছে এবং সাধারণ বিবরণ প্রদান করা হয়েছে। এটি স্বল্প পরিসরে হলেও নগরীটির একটি সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরেছে।