যখন বিশ্বজুড়ে আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালিত হয় নানা আয়োজনে, তখন গাজার নারীদের জীবন যুদ্ধ, ধ্বংস আর অনিশ্চয়তার এক ভিন্ন বাস্তবতায় নিমজ্জিত। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গাজায় হাজার হাজার নারী ও কন্যাশিশু নিহত হয়েছেন, অসংখ্য পরিবার বিচ্ছিন্ন হয়েছে এবং লক্ষাধিক নারী গৃহহীন হয়েছেন। এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতেও গাজার নারীরা নিজেদের অবস্থান থেকে প্রতিরোধের জন্ম দিয়েছেন। তারা চিকিৎসক, শিক্ষক, মানবিক সহায়তা কর্মী এবং সাংবাদিক হিসেবে সাহসিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন।
বিশেষ করে নারী সাংবাদিকদের ভূমিকা ছিল অসামান্য। যুদ্ধক্ষেত্রে সংবাদ সংগ্রহ করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হলেও, গাজার নারীরা ক্যামেরা, নোটবুক আর মোবাইল ফোন হাতে নিয়ে সত্য উন্মোচনের সংগ্রামে ব্রতী হয়েছেন। তাদের হাতে কোনো অস্ত্র ছিল না, ছিল শুধু সত্য বলার অদম্য ইচ্ছা। তারা শুধু খবরই সরবরাহ করেননি, বরং ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া মানুষের বেঁচে থাকার করুণ আখ্যান এবং প্রতিদিনের মানবিক বিপর্যয়ের চিত্র বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরেছেন। তাদের প্রতিবেদনের মাধ্যমেই বিশ্ব গাজার ভয়াবহ বাস্তবতা জানতে পেরেছে।
এই সাহসিকতার মূল্যও তাদের অনেক বেশি দিতে হয়েছে। গাজায় নিহত সাংবাদিকদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যকই ছিলেন নারী। তারা শুধু সাংবাদিক ছিলেন না, তারা ছিলেন মা, বোন, কন্যা, বন্ধু—সমাজের এক একটি জীবন্ত কণ্ঠস্বর। তাদের মধ্যে সাংবাদিক মারিয়াম আবু দাক্কা ছিলেন একজন। তিনি বহু বছর ধরে গাজার মানুষের জীবন, অবরোধ ও যুদ্ধের বাস্তবতা তুলে ধরেছেন। দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসে সাংবাদিকদের ওপর হামলার সময় তিনি নিহত হন। মারিয়াম ছিলেন একজন দৃঢ়চেতা সাংবাদিক এবং একজন মা। যুদ্ধের মাঝেও তিনি নিজের ছেলের নিরাপত্তার কথা ভেবে তাকে বিদেশে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন। মৃত্যুর আগে ছেলেকে লেখা তার কথাগুলো আজও অনেকের হৃদয়ে গেঁথে আছে: ‘গাইথ, আমার হৃদয় আর আত্মা, আমার জন্য দোয়া করবে। আমার মৃত্যুতে কেঁ…’
রিপোর্টারের নাম 






















