ঢাকা ০১:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬

নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু: স্পিকার নির্বাচন ও রাষ্ট্রপতি ভাষণ প্রধান আলোচ্যসূচি

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৪০:৫৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

বহুল প্রতীক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ আজ বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বেলা ১১টায় তাদের প্রথম অধিবেশনে বসছে। এই অধিবেশনটি দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে, যেখানে নতুন সরকার ও সংসদীয় কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করবে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভূত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দ্বাদশ জাতীয় সংসদ ভেঙে দেওয়া হয়। এরপর দীর্ঘ দেড় বছর পর গত ১২ ফেব্রুয়ারি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এই নির্বাচনে বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠন করেছে। জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোট ৭৭টি আসন পেয়ে সংসদের প্রধান বিরোধী দলের মর্যাদা লাভ করেছে। উল্লেখ্য, কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকার কারণে আওয়ামী লীগ এবার নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারেনি, তাই তাদের কোনো প্রতিনিধি সংসদে নেই।

সংবিধান অনুযায়ী, সাধারণ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে সংসদের বৈঠক আহ্বান করা রাষ্ট্রপতির জন্য বাধ্যতামূলক। সেই বিধান মেনেই রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ১২ মার্চ ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন আহ্বান করেন।

প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, বিদায়ি স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারের সভাপতিত্বে সংসদের প্রথম বৈঠক শুরু হওয়ার কথা থাকলেও এবার তা ভিন্নভাবে অনুষ্ঠিত হবে। গত সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর পদত্যাগ এবং গণহত্যা মামলায় ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু কারাবন্দি থাকায়, নতুন সংসদের একজন সিনিয়র সদস্যের সভাপতিত্বে প্রথম বৈঠক শুরু হবে। সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, অধিবেশন কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হবে এবং এরপর সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বর্তমান সংসদের একজন সিনিয়র সদস্যের নাম প্রস্তাব করবেন, যা অন্য একজন সংসদ সদস্য সমর্থন করবেন। সেই সিনিয়র সদস্যের সভাপতিত্বে বৈঠক শুরু হবে। বিএনপির সিনিয়র নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নাম প্রথম বৈঠকের সভাপতি হিসেবে প্রস্তাবিত হতে পারে বলে গুঞ্জন রয়েছে। সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করবেন। স্পিকার নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার পর অধিবেশন কিছুক্ষণের জন্য মুলতবি রাখা হবে, যাতে রাষ্ট্রপতি নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারকে শপথ বাক্য পাঠ করাতে পারেন। শপথ গ্রহণের পর নতুন স্পিকার মুলতবি বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন। যদি ডেপুটি স্পিকার প্রথমে নির্বাচিত না হন, তবে নতুন স্পিকারের সভাপতিত্বেই তার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দেশকে স্বাবলম্বী করার প্রশ্নে ঐকমত্য প্রয়োজন: জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী

নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু: স্পিকার নির্বাচন ও রাষ্ট্রপতি ভাষণ প্রধান আলোচ্যসূচি

আপডেট সময় : ১১:৪০:৫৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬

বহুল প্রতীক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ আজ বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বেলা ১১টায় তাদের প্রথম অধিবেশনে বসছে। এই অধিবেশনটি দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে, যেখানে নতুন সরকার ও সংসদীয় কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করবে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভূত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দ্বাদশ জাতীয় সংসদ ভেঙে দেওয়া হয়। এরপর দীর্ঘ দেড় বছর পর গত ১২ ফেব্রুয়ারি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এই নির্বাচনে বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠন করেছে। জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোট ৭৭টি আসন পেয়ে সংসদের প্রধান বিরোধী দলের মর্যাদা লাভ করেছে। উল্লেখ্য, কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকার কারণে আওয়ামী লীগ এবার নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারেনি, তাই তাদের কোনো প্রতিনিধি সংসদে নেই।

সংবিধান অনুযায়ী, সাধারণ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে সংসদের বৈঠক আহ্বান করা রাষ্ট্রপতির জন্য বাধ্যতামূলক। সেই বিধান মেনেই রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ১২ মার্চ ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন আহ্বান করেন।

প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, বিদায়ি স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারের সভাপতিত্বে সংসদের প্রথম বৈঠক শুরু হওয়ার কথা থাকলেও এবার তা ভিন্নভাবে অনুষ্ঠিত হবে। গত সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর পদত্যাগ এবং গণহত্যা মামলায় ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু কারাবন্দি থাকায়, নতুন সংসদের একজন সিনিয়র সদস্যের সভাপতিত্বে প্রথম বৈঠক শুরু হবে। সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, অধিবেশন কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হবে এবং এরপর সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বর্তমান সংসদের একজন সিনিয়র সদস্যের নাম প্রস্তাব করবেন, যা অন্য একজন সংসদ সদস্য সমর্থন করবেন। সেই সিনিয়র সদস্যের সভাপতিত্বে বৈঠক শুরু হবে। বিএনপির সিনিয়র নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নাম প্রথম বৈঠকের সভাপতি হিসেবে প্রস্তাবিত হতে পারে বলে গুঞ্জন রয়েছে। সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করবেন। স্পিকার নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার পর অধিবেশন কিছুক্ষণের জন্য মুলতবি রাখা হবে, যাতে রাষ্ট্রপতি নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারকে শপথ বাক্য পাঠ করাতে পারেন। শপথ গ্রহণের পর নতুন স্পিকার মুলতবি বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন। যদি ডেপুটি স্পিকার প্রথমে নির্বাচিত না হন, তবে নতুন স্পিকারের সভাপতিত্বেই তার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।