ঢাকা ১০:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬

জঙ্গল সলিমপুরে তিন দশকের সন্ত্রাসী রাজত্বের অবসান, যৌথ বাহিনীর সফল অভিযান

চট্টগ্রামের ফুসফুসখ্যাত জঙ্গল সলিমপুর, যেখানে দীর্ঘ তিন দশক ধরে রাষ্ট্রীয় আইন নয়, বরং সন্ত্রাসী ও ভূমিদস্যুদের নিজস্ব শাসন চলত, সেই ‘নিষিদ্ধ রাজ্যে’র অবসান ঘটিয়েছে যৌথ বাহিনী। প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সূক্ষ্ম গোয়েন্দা বিশ্লেষণ এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সুনিপুণ রণকৌশল ও প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এক অভিযানে তিন দশকের এক অন্ধকার অধ্যায়ের পতন হয়েছে। এই শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানে সেনাবাহিনী, পুলিশ, র‍্যাব ও বিজিবির তিন হাজারের বেশি সদস্য অংশ নেন।

দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসী কার্যক্রম, অবৈধ দখল ও চাঁদাবাজির কারণে এই অঞ্চল কার্যত প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছিল। তবে সোমবার (৯ মার্চ) ভোর থেকে শুরু হয়ে টানা ১০ ঘণ্টার এক সফল ‘কর্ডন অ্যান্ড সার্চ’ অভিযানের মাধ্যমে জঙ্গল সলিমপুর ও আলীনগর এখন সম্পূর্ণভাবে রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে এসেছে।

সূত্র জানায়, জঙ্গল সলিমপুরের প্রায় তিন হাজার একর দুর্গম পাহাড়ি জমিতে সন্ত্রাসীদের প্রতিটি গোপন আস্তানা, অস্ত্র তৈরির কারখানা এবং সুড়ঙ্গপথের মানচিত্র তৈরি করেছিল ডিজিএফআই। দীর্ঘ সময় ধরে অত্যন্ত গোপনে তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে তারা ভূমিদস্যুদের মূল নেটওয়ার্ক চিহ্নিত করে। গোয়েন্দা তথ্যে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, এই পাহাড়ের ভেতরেই গড়ে তোলা হয়েছে অবৈধ লেদ মেশিন সম্বলিত আধুনিক অস্ত্র তৈরির কারখানা। তাদের দেওয়া এই নিখুঁত তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই সেনাবাহিনী অভিযানের চূড়ান্ত ছক তৈরি করে।

অভিযানটি মূলত পরিচালিত হয়েছে সেনাবাহিনীর সুদক্ষ তত্ত্বাবধানে। সেনাবাহিনী, পুলিশ, র‍্যাব ও বিজিবির প্রায় তিন হাজার সদস্যের বিশাল বাহিনীকে বিভিন্ন কৌশলী দলে বিভক্ত করে পাহাড়ের চারপাশ ঘিরে ফেলা হয়। ড্রোন প্রযুক্তি ব্যবহার করে আকাশ থেকে সন্ত্রাসীদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা হয় এবং বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত ডগ স্কোয়াড নিয়োগ করা হয় পাহাড়ের গহীনে লুকানো অস্ত্র ও গোলাবারুদ খুঁজে বের করতে।

এই অভিযানের মাধ্যমে ২৭টি পাইপগান, ২টি পিস্তল, ১১টি ককটেল, এক হাজারের বেশি রাউন্ড গুলি এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—পাহাড়ের ভেতরে সক্রিয় অস্ত্র তৈরির লেদ মেশিনসহ বিপুল সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। গত জানুয়ারিতে র‍্যাব সদস্য নিহতের ঘটনার পর যে চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছিল, সেই পুরো এলাকা এখন নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা। অবৈধভাবে দখল করা তিন হাজার একর জমিও এই অভিযানের মাধ্যমে পুনরুদ্ধার করা হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইসলামী ব্যাংকের রেমিট্যান্স উৎসবে মোটরসাইকেল উপহার পেলেন ঢাকার গ্রাহক

জঙ্গল সলিমপুরে তিন দশকের সন্ত্রাসী রাজত্বের অবসান, যৌথ বাহিনীর সফল অভিযান

আপডেট সময় : ০৮:৪৩:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬

চট্টগ্রামের ফুসফুসখ্যাত জঙ্গল সলিমপুর, যেখানে দীর্ঘ তিন দশক ধরে রাষ্ট্রীয় আইন নয়, বরং সন্ত্রাসী ও ভূমিদস্যুদের নিজস্ব শাসন চলত, সেই ‘নিষিদ্ধ রাজ্যে’র অবসান ঘটিয়েছে যৌথ বাহিনী। প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সূক্ষ্ম গোয়েন্দা বিশ্লেষণ এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সুনিপুণ রণকৌশল ও প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এক অভিযানে তিন দশকের এক অন্ধকার অধ্যায়ের পতন হয়েছে। এই শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানে সেনাবাহিনী, পুলিশ, র‍্যাব ও বিজিবির তিন হাজারের বেশি সদস্য অংশ নেন।

দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসী কার্যক্রম, অবৈধ দখল ও চাঁদাবাজির কারণে এই অঞ্চল কার্যত প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছিল। তবে সোমবার (৯ মার্চ) ভোর থেকে শুরু হয়ে টানা ১০ ঘণ্টার এক সফল ‘কর্ডন অ্যান্ড সার্চ’ অভিযানের মাধ্যমে জঙ্গল সলিমপুর ও আলীনগর এখন সম্পূর্ণভাবে রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে এসেছে।

সূত্র জানায়, জঙ্গল সলিমপুরের প্রায় তিন হাজার একর দুর্গম পাহাড়ি জমিতে সন্ত্রাসীদের প্রতিটি গোপন আস্তানা, অস্ত্র তৈরির কারখানা এবং সুড়ঙ্গপথের মানচিত্র তৈরি করেছিল ডিজিএফআই। দীর্ঘ সময় ধরে অত্যন্ত গোপনে তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে তারা ভূমিদস্যুদের মূল নেটওয়ার্ক চিহ্নিত করে। গোয়েন্দা তথ্যে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, এই পাহাড়ের ভেতরেই গড়ে তোলা হয়েছে অবৈধ লেদ মেশিন সম্বলিত আধুনিক অস্ত্র তৈরির কারখানা। তাদের দেওয়া এই নিখুঁত তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই সেনাবাহিনী অভিযানের চূড়ান্ত ছক তৈরি করে।

অভিযানটি মূলত পরিচালিত হয়েছে সেনাবাহিনীর সুদক্ষ তত্ত্বাবধানে। সেনাবাহিনী, পুলিশ, র‍্যাব ও বিজিবির প্রায় তিন হাজার সদস্যের বিশাল বাহিনীকে বিভিন্ন কৌশলী দলে বিভক্ত করে পাহাড়ের চারপাশ ঘিরে ফেলা হয়। ড্রোন প্রযুক্তি ব্যবহার করে আকাশ থেকে সন্ত্রাসীদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা হয় এবং বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত ডগ স্কোয়াড নিয়োগ করা হয় পাহাড়ের গহীনে লুকানো অস্ত্র ও গোলাবারুদ খুঁজে বের করতে।

এই অভিযানের মাধ্যমে ২৭টি পাইপগান, ২টি পিস্তল, ১১টি ককটেল, এক হাজারের বেশি রাউন্ড গুলি এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—পাহাড়ের ভেতরে সক্রিয় অস্ত্র তৈরির লেদ মেশিনসহ বিপুল সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। গত জানুয়ারিতে র‍্যাব সদস্য নিহতের ঘটনার পর যে চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছিল, সেই পুরো এলাকা এখন নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা। অবৈধভাবে দখল করা তিন হাজার একর জমিও এই অভিযানের মাধ্যমে পুনরুদ্ধার করা হয়েছে।