ঢাকা ১০:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬

২২তম তারাবিতে ২৫তম পারা: অকৃতজ্ঞ মানবজাতি ও ইসলামের মৌলিক শিক্ষা

আজ ২২তম তারাবিতে পবিত্র কোরআনের ২৫তম পারা পঠিত হবে, যেখানে সূরা হামিম সাজদা (৪৭-৫৪), সূরা শূরা, সূরা জুখরুফ, সূরা দুখান এবং সূরা জাসিয়া অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। আজকের পাঠে মানবজাতির অকৃতজ্ঞতা এবং ইসলামের মৌলিক শিক্ষা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা উঠে এসেছে।

সূরা হামিম সাজদার প্রারম্ভে কেয়ামতের আলোচনা এবং সুখে-দুঃখে মানুষের অবস্থার বিবরণ দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে যে, মানুষ দুঃখের সময় দীর্ঘ দোয়া করে, কিন্তু সুখের সময় আল্লাহকে ভুলে যায়, যা তাদের অকৃতজ্ঞ আচরণের বহিঃপ্রকাশ। আল্লাহ তায়ালা ঘোষণা করেছেন যে, তিনি বিশ্বজগতে এবং মানুষের মাঝে বিদ্যমান নিদর্শনগুলো দেখিয়ে দেবেন, যাতে এই কোরআনই যে চিরসত্য, তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এই ওয়াদা চিরসত্য এবং কোরআনের সত্যতা একদিন জ্ঞানীমাত্রই উপলব্ধি করতে বাধ্য হবেন, তবে এর জন্য চাই সত্যোন্মুখ হৃদয় এবং সাম্প্রদায়িকতামুক্ত অন্তর।

সূরা শূরার সূচনা হয়েছে পবিত্র কোরআনের আলোচনা দিয়ে। আল্লাহ তায়ালা নবীজি (সা.)-কে সম্বোধন করে এরশাদ করেছেন যে, তাঁর কাছে এবং তাঁর পূর্ববর্তীদের কাছে মহাপরাক্রমশালী ও প্রজ্ঞাময় আল্লাহ তায়ালা ওহি প্রেরণ করেন। এর মাধ্যমে ওহির উৎপত্তিস্থলের একত্ব এবং পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সবার কাছে একই আল্লাহ থেকে ওহি প্রেরণের বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়েছে। আল্লাহ তায়ালার কুদরতের বর্ণনা শেষে আবারও ওহির আলোচনা করা হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে যে, আল্লাহ তায়ালার কাছে মনোনীত একমাত্র ধর্ম হলো ইসলাম।

নবী-রাসুলরা নিজ নিজ সম্প্রদায়কে এই একই দ্বীনের দাওয়াত প্রদান করেছেন। আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে প্রত্যেক নবী-রাসুলের কাছে প্রেরিত দ্বীন ও শরিয়তে ক্ষেত্রবিশেষে কিছু ভিন্নতা থাকলেও মৌলিকভাবে তা একই ধর্ম ছিল, আর তা হলো ইসলাম। হজরত নুহ, ইবরাহিম, মুসা ও ঈসা (আ.)-কে একই দ্বীনের প্রচার-প্রসারের জন্য প্রেরণ করা হয়েছিল। তাদের অনুসারীদের পরস্পর বিবাদ ও বিভেদ সৃষ্টি করতে বারণ করা হয়েছিল, কিন্তু তারা হিংসা-বিদ্বেষের বশবর্তী হয়ে নিষিদ্ধ কাজে জড়িয়ে পড়ে। তাদের পরস্পর বিবাদ ও বিভেদ মেটানোর নিমিত্তে আল্লাহ তায়ালা রাসুল (সা.)-কে পাঠান এবং তাঁকে আদেশ করা হয়, ‘আপনি দ্বীনের প্রতি লোকদের দাওয়াত দিতে থাকুন এবং আপনিও এ দ্বীনের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকুন, লোকদের প্রবৃত্তির অনুসরণ করবেন না। আপনি তাদের বলে দিন, যে কিতাব আল্লাহ তায়ালা নাজিল করেছেন, আমি তার ওপর দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন করেছি।’

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

লেবাননে হিজবুল্লাহর ড্রোন হামলায় ১১ ইসরাইলি সেনা আহত, আশঙ্কাজনক ৩

২২তম তারাবিতে ২৫তম পারা: অকৃতজ্ঞ মানবজাতি ও ইসলামের মৌলিক শিক্ষা

আপডেট সময় : ০৫:১৪:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬

আজ ২২তম তারাবিতে পবিত্র কোরআনের ২৫তম পারা পঠিত হবে, যেখানে সূরা হামিম সাজদা (৪৭-৫৪), সূরা শূরা, সূরা জুখরুফ, সূরা দুখান এবং সূরা জাসিয়া অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। আজকের পাঠে মানবজাতির অকৃতজ্ঞতা এবং ইসলামের মৌলিক শিক্ষা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা উঠে এসেছে।

সূরা হামিম সাজদার প্রারম্ভে কেয়ামতের আলোচনা এবং সুখে-দুঃখে মানুষের অবস্থার বিবরণ দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে যে, মানুষ দুঃখের সময় দীর্ঘ দোয়া করে, কিন্তু সুখের সময় আল্লাহকে ভুলে যায়, যা তাদের অকৃতজ্ঞ আচরণের বহিঃপ্রকাশ। আল্লাহ তায়ালা ঘোষণা করেছেন যে, তিনি বিশ্বজগতে এবং মানুষের মাঝে বিদ্যমান নিদর্শনগুলো দেখিয়ে দেবেন, যাতে এই কোরআনই যে চিরসত্য, তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এই ওয়াদা চিরসত্য এবং কোরআনের সত্যতা একদিন জ্ঞানীমাত্রই উপলব্ধি করতে বাধ্য হবেন, তবে এর জন্য চাই সত্যোন্মুখ হৃদয় এবং সাম্প্রদায়িকতামুক্ত অন্তর।

সূরা শূরার সূচনা হয়েছে পবিত্র কোরআনের আলোচনা দিয়ে। আল্লাহ তায়ালা নবীজি (সা.)-কে সম্বোধন করে এরশাদ করেছেন যে, তাঁর কাছে এবং তাঁর পূর্ববর্তীদের কাছে মহাপরাক্রমশালী ও প্রজ্ঞাময় আল্লাহ তায়ালা ওহি প্রেরণ করেন। এর মাধ্যমে ওহির উৎপত্তিস্থলের একত্ব এবং পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সবার কাছে একই আল্লাহ থেকে ওহি প্রেরণের বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়েছে। আল্লাহ তায়ালার কুদরতের বর্ণনা শেষে আবারও ওহির আলোচনা করা হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে যে, আল্লাহ তায়ালার কাছে মনোনীত একমাত্র ধর্ম হলো ইসলাম।

নবী-রাসুলরা নিজ নিজ সম্প্রদায়কে এই একই দ্বীনের দাওয়াত প্রদান করেছেন। আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে প্রত্যেক নবী-রাসুলের কাছে প্রেরিত দ্বীন ও শরিয়তে ক্ষেত্রবিশেষে কিছু ভিন্নতা থাকলেও মৌলিকভাবে তা একই ধর্ম ছিল, আর তা হলো ইসলাম। হজরত নুহ, ইবরাহিম, মুসা ও ঈসা (আ.)-কে একই দ্বীনের প্রচার-প্রসারের জন্য প্রেরণ করা হয়েছিল। তাদের অনুসারীদের পরস্পর বিবাদ ও বিভেদ সৃষ্টি করতে বারণ করা হয়েছিল, কিন্তু তারা হিংসা-বিদ্বেষের বশবর্তী হয়ে নিষিদ্ধ কাজে জড়িয়ে পড়ে। তাদের পরস্পর বিবাদ ও বিভেদ মেটানোর নিমিত্তে আল্লাহ তায়ালা রাসুল (সা.)-কে পাঠান এবং তাঁকে আদেশ করা হয়, ‘আপনি দ্বীনের প্রতি লোকদের দাওয়াত দিতে থাকুন এবং আপনিও এ দ্বীনের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকুন, লোকদের প্রবৃত্তির অনুসরণ করবেন না। আপনি তাদের বলে দিন, যে কিতাব আল্লাহ তায়ালা নাজিল করেছেন, আমি তার ওপর দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন করেছি।’