ঢাকা ১১:০১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬

রমজানের শেষ দশক: আল্লাহর নৈকট্য লাভের সুবর্ণ সুযোগ

পবিত্র রমজান মাস তার শেষ প্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছে। ক্ষমার সাগরে ডুব দিয়ে আত্মশুদ্ধির এই মাস থেকে পূর্ণাঙ্গ প্রাপ্তি অর্জনের আর মাত্র কয়েকটি দিন বাকি। পহেলা রমজান থেকে আজ পর্যন্ত আমরা কী অর্জন করলাম, রহমত ও মাগফিরাতের দশক থেকে প্রাপ্তির খাতায় কী যোগ হলো এবং শেষ দশকের মূল্যবান রত্নগুলো থেকে কতটুকু কুড়াতে পারলাম—এই হিসাব করার সময় এসেছে। যদি কিছু অর্জন থাকে, তবে আলহামদুলিল্লাহ! আল্লাহ আমাদের সামান্য অর্জনকেও অনেক বড় করে দেখবেন।

হাদিস শরিফ অনুযায়ী, রমজান মাসে একটি ফরজ আদায় করলে সত্তরটি ফরজের সওয়াব পাওয়া যায় এবং একটি নফল আদায় করলে একটি ফরজের সওয়াব লেখা হয়। এমন সুবর্ণ সুযোগ বছরের অন্য কোনো মাসে মেলে না। তাই এই সময়কে কাজে লাগানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

কিন্তু যদি হিসাব শেষে দেখা যায় যে, কিছুই অর্জন হয়নি, বরং রোজার আগে যা ছিল তাও নষ্ট হয়ে গেছে, এবং পাপ কাজ আরও বেড়ে গেছে, তাহলে এর চেয়ে দুর্ভাগ্যজনক আর কিছু হতে পারে না। নবীজি (সা.) এমন জীবনের প্রতি সরাসরি অভিশাপ দিয়েছেন।

এক হাদিসে বর্ণিত আছে, নবীজি (সা.) মিম্বরের সিঁড়িতে পা রাখার সঙ্গে সঙ্গে ‘আমিন’ বলে ওঠেন। তৃতীয় সিঁড়িতে পা রাখার পরও তিনি ‘আমিন’ বলেন। এর কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন যে, জিবরাইল (আ.) এসে তিন শ্রেণির মানুষের জন্য বদদোয়া করেছেন এবং তিনি আমিন বলেছেন। প্রথমত, বৃদ্ধ বাবা-মাকে পেয়েও যারা জান্নাত অর্জন করতে পারেনি। দ্বিতীয়ত, যারা নবীজির নাম শুনেও দরুদ শরিফ পড়বে না। এবং তৃতীয়ত, যারা রমজান মাস পেয়েও নিজের গোনাহ মাফ করিয়ে জান্নাতি হতে পারেনি। (সহিহ ইবনে হিব্বান: ৪১০)।

আমরা যখন অর্থ হারাই, ঋণে জর্জরিত হই, প্রিয়জনকে হারাই, মামলায় ফেঁসে যাই, ব্যবসায়িক ক্ষতি হয় বা চাকরি হারাই, তখন আমাদের মানসিক অবস্থা কেমন হয়? টাকার শোকে বা জমির শোকে মানুষ স্ট্রোকেও আক্রান্ত হয়। এই উদাহরণগুলো আমাদের জীবনের ক্ষণস্থায়ী বস্তুর প্রতি আসক্তি এবং তা হারানোর বেদনাকে তুলে ধরে। কিন্তু রমজান মাসে যদি আমরা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে ব্যর্থ হই, তবে তার চেয়ে বড় ক্ষতি আর কিছুই হতে পারে না।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

চ্যাম্পিয়নস লিগে লিভারপুলের হোঁচট: স্লটের শততম ম্যাচে হার, পিছিয়ে অলরেডরা

রমজানের শেষ দশক: আল্লাহর নৈকট্য লাভের সুবর্ণ সুযোগ

আপডেট সময় : ০৯:৩২:৫৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬

পবিত্র রমজান মাস তার শেষ প্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছে। ক্ষমার সাগরে ডুব দিয়ে আত্মশুদ্ধির এই মাস থেকে পূর্ণাঙ্গ প্রাপ্তি অর্জনের আর মাত্র কয়েকটি দিন বাকি। পহেলা রমজান থেকে আজ পর্যন্ত আমরা কী অর্জন করলাম, রহমত ও মাগফিরাতের দশক থেকে প্রাপ্তির খাতায় কী যোগ হলো এবং শেষ দশকের মূল্যবান রত্নগুলো থেকে কতটুকু কুড়াতে পারলাম—এই হিসাব করার সময় এসেছে। যদি কিছু অর্জন থাকে, তবে আলহামদুলিল্লাহ! আল্লাহ আমাদের সামান্য অর্জনকেও অনেক বড় করে দেখবেন।

হাদিস শরিফ অনুযায়ী, রমজান মাসে একটি ফরজ আদায় করলে সত্তরটি ফরজের সওয়াব পাওয়া যায় এবং একটি নফল আদায় করলে একটি ফরজের সওয়াব লেখা হয়। এমন সুবর্ণ সুযোগ বছরের অন্য কোনো মাসে মেলে না। তাই এই সময়কে কাজে লাগানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

কিন্তু যদি হিসাব শেষে দেখা যায় যে, কিছুই অর্জন হয়নি, বরং রোজার আগে যা ছিল তাও নষ্ট হয়ে গেছে, এবং পাপ কাজ আরও বেড়ে গেছে, তাহলে এর চেয়ে দুর্ভাগ্যজনক আর কিছু হতে পারে না। নবীজি (সা.) এমন জীবনের প্রতি সরাসরি অভিশাপ দিয়েছেন।

এক হাদিসে বর্ণিত আছে, নবীজি (সা.) মিম্বরের সিঁড়িতে পা রাখার সঙ্গে সঙ্গে ‘আমিন’ বলে ওঠেন। তৃতীয় সিঁড়িতে পা রাখার পরও তিনি ‘আমিন’ বলেন। এর কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন যে, জিবরাইল (আ.) এসে তিন শ্রেণির মানুষের জন্য বদদোয়া করেছেন এবং তিনি আমিন বলেছেন। প্রথমত, বৃদ্ধ বাবা-মাকে পেয়েও যারা জান্নাত অর্জন করতে পারেনি। দ্বিতীয়ত, যারা নবীজির নাম শুনেও দরুদ শরিফ পড়বে না। এবং তৃতীয়ত, যারা রমজান মাস পেয়েও নিজের গোনাহ মাফ করিয়ে জান্নাতি হতে পারেনি। (সহিহ ইবনে হিব্বান: ৪১০)।

আমরা যখন অর্থ হারাই, ঋণে জর্জরিত হই, প্রিয়জনকে হারাই, মামলায় ফেঁসে যাই, ব্যবসায়িক ক্ষতি হয় বা চাকরি হারাই, তখন আমাদের মানসিক অবস্থা কেমন হয়? টাকার শোকে বা জমির শোকে মানুষ স্ট্রোকেও আক্রান্ত হয়। এই উদাহরণগুলো আমাদের জীবনের ক্ষণস্থায়ী বস্তুর প্রতি আসক্তি এবং তা হারানোর বেদনাকে তুলে ধরে। কিন্তু রমজান মাসে যদি আমরা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে ব্যর্থ হই, তবে তার চেয়ে বড় ক্ষতি আর কিছুই হতে পারে না।