ঢাকা ১১:০৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬

বায়তুল মোকাররমে হাজারো মুসল্লির মিলনমেলা: একসঙ্গে ইফতারের ঐতিহ্য

রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে প্রতি বছর রমজান মাসে এক অভূতপূর্ব দৃশ্যের অবতারণা হয়। এখানে ধনী-গরিব, পরিচিত-অপরিচিত নির্বিশেষে হাজার হাজার মুসল্লি একসঙ্গে ইফতার করেন। ‘আল্লাহু আকবার’ ধ্বনির সঙ্গে সঙ্গে রোজাদারদের এই মিলনমেলা এক অপার্থিব শান্তির বার্তা দেয়। ইফতারের সময় যত ঘনিয়ে আসে, ততই বাড়তে থাকে মানুষের ভিড়। এই আয়োজন যেন গ্রাম-বাংলার আবহমান সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যেরই প্রতিচ্ছবি।

পবিত্র রমজান মাস জুড়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ মুসল্লি কমিটি এবং তাবলিগ জামায়াতের যৌথ উদ্যোগে এখানে প্রতিদিন গণইফতারের আয়োজন করা হয়। ইসলামিক ফাউন্ডেশন সরকারের ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রতিদিন প্রায় দুই হাজার মানুষের ইফতারের ব্যবস্থা করে। তাদের ইফতার মেন্যুতে থাকে দেশীয় ঐতিহ্যবাহী খাবার যেমন—মুড়ি, ছোলা, খেজুর, পেঁয়াজু, বেগুনি, আলুর চপ, জিলাপি ও পানি।

অন্যদিকে, মসজিদের মুসল্লি কমিটির পক্ষ থেকে আরও আড়াই হাজার মানুষের ইফতারের আয়োজন করা হয়। এছাড়া, তাবলিগ জামায়াতের পক্ষ থেকেও প্রায় একশ প্লেটে সাতশ মুসল্লির জন্য ইফতার পরিবেশন করা হয়। সব মিলিয়ে, প্রতিদিন প্রায় পাঁচ হাজার মুসল্লি এখানে একসঙ্গে ইফতারের সুযোগ পান।

এই গণইফতারের আয়োজন সম্পর্কে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জাভেদ আকিব বলেন, ‘আমাদের গ্রামের মসজিদগুলোতে এখনো সবাই মিলে একসঙ্গে ইফতার করার রেওয়াজ আছে। ঢাকায় এমন আয়োজন খুব একটা দেখা যায় না। বায়তুল মোকাররমে এই ঐতিহ্য ধরে রাখা হয়েছে, যা আমাকে স্মৃতিকাতর করে তুলেছে।’

সরকারি কর্মচারী আলী আকবর, যিনি ইফতারের সামনে দাঁড়িয়ে সেলফি তুলছিলেন, তিনি বলেন, ‘আমি হঠাৎ করেই বায়তুল মোকাররমে ইফতার করতে এসেছি। এটি আমাদের ঐতিহ্য এবং এই ঐতিহ্য রক্ষা করা প্রত্যেক মুসলমানের দায়িত্ব। এই ধরনের গণইফতার আমাদের সামাজিক বন্ধনকে আরও শক্তিশালী করে এবং একে অপরের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ তৈরি করে।’

বায়তুল মোকাররম মসজিদের প্রধান খাদেম মো. নাসির উল্লাহ জানান, এই ইফতার আয়োজন ২০০০ সাল থেকে চলে আসছে, তবে এর শুরু আরও আগে। তিনি বলেন, ‘ইসলামিক ফাউন্ডেশন সম্ভবত শুরু থেকেই এর সঙ্গে জড়িত। প্রতিদিন অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা বাড়ছে, যা আমাদের আনন্দ দেয়।’

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

চ্যাম্পিয়নস লিগে লিভারপুলের হোঁচট: স্লটের শততম ম্যাচে হার, পিছিয়ে অলরেডরা

বায়তুল মোকাররমে হাজারো মুসল্লির মিলনমেলা: একসঙ্গে ইফতারের ঐতিহ্য

আপডেট সময় : ০৯:৩২:৩৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬

রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে প্রতি বছর রমজান মাসে এক অভূতপূর্ব দৃশ্যের অবতারণা হয়। এখানে ধনী-গরিব, পরিচিত-অপরিচিত নির্বিশেষে হাজার হাজার মুসল্লি একসঙ্গে ইফতার করেন। ‘আল্লাহু আকবার’ ধ্বনির সঙ্গে সঙ্গে রোজাদারদের এই মিলনমেলা এক অপার্থিব শান্তির বার্তা দেয়। ইফতারের সময় যত ঘনিয়ে আসে, ততই বাড়তে থাকে মানুষের ভিড়। এই আয়োজন যেন গ্রাম-বাংলার আবহমান সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যেরই প্রতিচ্ছবি।

পবিত্র রমজান মাস জুড়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ মুসল্লি কমিটি এবং তাবলিগ জামায়াতের যৌথ উদ্যোগে এখানে প্রতিদিন গণইফতারের আয়োজন করা হয়। ইসলামিক ফাউন্ডেশন সরকারের ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রতিদিন প্রায় দুই হাজার মানুষের ইফতারের ব্যবস্থা করে। তাদের ইফতার মেন্যুতে থাকে দেশীয় ঐতিহ্যবাহী খাবার যেমন—মুড়ি, ছোলা, খেজুর, পেঁয়াজু, বেগুনি, আলুর চপ, জিলাপি ও পানি।

অন্যদিকে, মসজিদের মুসল্লি কমিটির পক্ষ থেকে আরও আড়াই হাজার মানুষের ইফতারের আয়োজন করা হয়। এছাড়া, তাবলিগ জামায়াতের পক্ষ থেকেও প্রায় একশ প্লেটে সাতশ মুসল্লির জন্য ইফতার পরিবেশন করা হয়। সব মিলিয়ে, প্রতিদিন প্রায় পাঁচ হাজার মুসল্লি এখানে একসঙ্গে ইফতারের সুযোগ পান।

এই গণইফতারের আয়োজন সম্পর্কে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জাভেদ আকিব বলেন, ‘আমাদের গ্রামের মসজিদগুলোতে এখনো সবাই মিলে একসঙ্গে ইফতার করার রেওয়াজ আছে। ঢাকায় এমন আয়োজন খুব একটা দেখা যায় না। বায়তুল মোকাররমে এই ঐতিহ্য ধরে রাখা হয়েছে, যা আমাকে স্মৃতিকাতর করে তুলেছে।’

সরকারি কর্মচারী আলী আকবর, যিনি ইফতারের সামনে দাঁড়িয়ে সেলফি তুলছিলেন, তিনি বলেন, ‘আমি হঠাৎ করেই বায়তুল মোকাররমে ইফতার করতে এসেছি। এটি আমাদের ঐতিহ্য এবং এই ঐতিহ্য রক্ষা করা প্রত্যেক মুসলমানের দায়িত্ব। এই ধরনের গণইফতার আমাদের সামাজিক বন্ধনকে আরও শক্তিশালী করে এবং একে অপরের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ তৈরি করে।’

বায়তুল মোকাররম মসজিদের প্রধান খাদেম মো. নাসির উল্লাহ জানান, এই ইফতার আয়োজন ২০০০ সাল থেকে চলে আসছে, তবে এর শুরু আরও আগে। তিনি বলেন, ‘ইসলামিক ফাউন্ডেশন সম্ভবত শুরু থেকেই এর সঙ্গে জড়িত। প্রতিদিন অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা বাড়ছে, যা আমাদের আনন্দ দেয়।’