সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর তথ্য বেহাত হওয়ার অভিযোগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। খোদ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে তথ্য ফাঁসের মতো গুরুতর অভিযোগ ওঠার পর এখন থেকে যাবতীয় ‘সারসংক্ষেপ’ (Summary) আবশ্যিকভাবে বন্ধ খামে সরাসরি মুখ্য সচিব বরাবর পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সংশ্লিষ্ট নথি ও নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাতে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, গত কয়েক দিনে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো গুরুত্বপূর্ণ নথির বিষয়বস্তু সরকারি সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হওয়ার আগেই জানাজানি হয়ে যাচ্ছে। ফলে গুরুত্বপূর্ণ পদায়ন, বড় প্রকল্প অনুমোদন এবং নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রভাবশালী বিভিন্ন মহলের পক্ষ থেকে আগাম তদবির ও চাপের সৃষ্টি হচ্ছে। এই প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা ও তথ্যের ঝুঁকি এড়াতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে বিশেষ নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে।
নির্দেশনায় যা বলা হয়েছে: প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক-১২ মো. মাহবুবুর রহমান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে জানানো হয়েছে যে, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় বা বিভাগ থেকে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের জন্য পাঠানো সারসংক্ষেপগুলো প্রায়শই ফাইল কাভারে খোলা অবস্থায় পাঠানো হচ্ছে। এতে নথির গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার পাশাপাশি স্পর্শকাতর তথ্য প্রকাশ হয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে তথ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এখন থেকে সব সারসংক্ষেপ আবশ্যিকভাবে বন্ধ খামে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবকে সম্বোধন করে পাঠাতে হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতামতঃ প্রশাসনিক আইন বিশেষজ্ঞ ব্যারিস্টার জাহিদ রহমান এই পদক্ষেপকে প্রয়োজনীয় উল্লেখ করে বলেন, “সরকারি নীতিনির্ধারণী নথিপত্রের গোপনীয়তা অত্যন্ত জরুরি। নথির বিষয়বস্তু আগাম ফাঁস হলে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় অনাকাঙ্ক্ষিত প্রভাব তৈরির আশঙ্কা থাকে। তবে কেবল কাগজের নিরাপত্তা নয়, পুরো প্রক্রিয়ায় জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।”
অন্যদিকে, সাবেক আমলা ও জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ ড. আব্দুস সবুর মনে করেন, শুধু খামে ভরে নথি পাঠানোই যথেষ্ট নয়। তিনি বলেন, “সরকারি নথি ফাঁস হওয়া মূলত প্রশাসনিক দুর্বলতার বহিঃপ্রকাশ। ডিজিটাল কপি বা এক দপ্তর থেকে অন্য দপ্তরে ফাইল হস্তান্তরের সময়ও তথ্য ফাঁস হতে পারে। তাই ডিজিটাল ব্যবস্থাপনায়ও কঠোর সুরক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি।”
প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, বড় প্রকল্প এবং প্রশাসনিক রদবদলের মতো স্পর্শকাতর তথ্যগুলো ফাঁস হওয়া মানেই সেখানে অনৈতিক সুযোগ সন্ধানী মহলের আনাগোনা বেড়ে যাওয়া। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই নতুন সময়োপযোগী উদ্যোগ প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও তথ্যের অধিকতর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
রিপোর্টারের নাম 























