ঢাকা ১১:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬

পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা ভেঙে দিলেন রাজ্যপাল, মুখ্যমন্ত্রীর পদ হারালেন মমতা

পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল আর এন রবি বিধানসভা ভেঙে দিয়েছেন, যার ফলে রাজ্যে টানা ১৫ বছরের তৃণমূল কংগ্রেস শাসনের আনুষ্ঠানিক অবসান ঘটল। নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর পদত্যাগ না করার বিষয়ে অনড় থাকা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তার মুখ্যমন্ত্রীত্ব হারালেন।

ভারতীয় সংবিধানের ১৭৪ (২)(বি) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতা ব্যবহার করে রাজ্যপাল এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সরকারি নোটিশে বলা হয়েছে, ‘আমি এতদ্বারা ২০২৬ সালের ৭ মে থেকে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা ভেঙে দিচ্ছি।’

বিজেপির জয়কে ‘অনৈতিক’ আখ্যা দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গত কয়েক দিন ধরেই পদ ছাড়তে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছিলেন। তিনি অভিযোগ করেছিলেন যে, ইভিএম কারচুপি এবং ভোট লুটের মাধ্যমে বিজেপি জয়লাভ করেছে এবং নির্বাচন কমিশন বিজেপির সঙ্গে যোগসাজশ করে তাকে ক্ষমতাচ্যুত করেছে। তৃণমূলের পক্ষ থেকে অন্তত ১০০টি আসনে ভোট লুটের অভিযোগও আনা হয়েছে।

নির্বাচনের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চেয়ারে থাকা অসাংবিধানিক ছিল বলে জানিয়েছেন আইন বিশেষজ্ঞরা। সংবিধান অনুযায়ী পাঁচ বছরের বেশি কোনও সরকার ক্ষমতায় থাকতে পারে না।

এদিকে, বিজেপি এখনও তাদের মুখ্যমন্ত্রী প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেনি। শুক্রবার দুপুর ২টায় দলটির নবনির্বাচিত বিধায়করা বৈঠকে বসে তাদের নেতা নির্বাচন করবেন।

নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই পশ্চিমবঙ্গজুড়ে উত্তেজনা ও নাটকীয়তা চলছে। শান্তি বজায় রাখতে প্রচুর পরিমাণে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন থাকলেও বিভিন্ন জেলায় ভোট-পরবর্তী সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। এখন পর্যন্ত সহিংসতায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অবৈধ বাংলাদেশিদের ফেরত পাঠাতে ঢাকার সহযোগিতা চাইল ভারত

পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা ভেঙে দিলেন রাজ্যপাল, মুখ্যমন্ত্রীর পদ হারালেন মমতা

আপডেট সময় : ১০:৫৩:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬

পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল আর এন রবি বিধানসভা ভেঙে দিয়েছেন, যার ফলে রাজ্যে টানা ১৫ বছরের তৃণমূল কংগ্রেস শাসনের আনুষ্ঠানিক অবসান ঘটল। নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর পদত্যাগ না করার বিষয়ে অনড় থাকা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তার মুখ্যমন্ত্রীত্ব হারালেন।

ভারতীয় সংবিধানের ১৭৪ (২)(বি) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতা ব্যবহার করে রাজ্যপাল এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সরকারি নোটিশে বলা হয়েছে, ‘আমি এতদ্বারা ২০২৬ সালের ৭ মে থেকে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা ভেঙে দিচ্ছি।’

বিজেপির জয়কে ‘অনৈতিক’ আখ্যা দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গত কয়েক দিন ধরেই পদ ছাড়তে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছিলেন। তিনি অভিযোগ করেছিলেন যে, ইভিএম কারচুপি এবং ভোট লুটের মাধ্যমে বিজেপি জয়লাভ করেছে এবং নির্বাচন কমিশন বিজেপির সঙ্গে যোগসাজশ করে তাকে ক্ষমতাচ্যুত করেছে। তৃণমূলের পক্ষ থেকে অন্তত ১০০টি আসনে ভোট লুটের অভিযোগও আনা হয়েছে।

নির্বাচনের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চেয়ারে থাকা অসাংবিধানিক ছিল বলে জানিয়েছেন আইন বিশেষজ্ঞরা। সংবিধান অনুযায়ী পাঁচ বছরের বেশি কোনও সরকার ক্ষমতায় থাকতে পারে না।

এদিকে, বিজেপি এখনও তাদের মুখ্যমন্ত্রী প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেনি। শুক্রবার দুপুর ২টায় দলটির নবনির্বাচিত বিধায়করা বৈঠকে বসে তাদের নেতা নির্বাচন করবেন।

নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই পশ্চিমবঙ্গজুড়ে উত্তেজনা ও নাটকীয়তা চলছে। শান্তি বজায় রাখতে প্রচুর পরিমাণে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন থাকলেও বিভিন্ন জেলায় ভোট-পরবর্তী সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। এখন পর্যন্ত সহিংসতায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন।