দেশের আবাসন খাতকে সচল রাখতে রিয়েল এস্টেট এ্যান্ড হাউজিং এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব) ৩ হাজার কোটি টাকার একটি বিশেষ তহবিল গঠনের দাবি জানিয়েছে। বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব মোকাবিলা করে এই খাতকে টিকিয়ে রাখতে এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। রিহ্যাবের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর মোঃ মোস্তাকুর রহমানের সাথে সাক্ষাৎ করে আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রস্তাব তুলে ধরেন।
মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে রিহ্যাবের প্রেসিডেন্ট মোঃ ওয়াহিদুজ্জামান, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট লিয়াকত আলী ভূইয়া, ভাইস প্রেসিডেন্ট-১ লায়ন এম এ আউয়াল (সাবেক এমপি), পরিচালক মোঃ কামরুল ইসলাম এবং মিরাজ মুক্তাদির উপস্থিত ছিলেন। তারা দেশের আবাসন খাতের বর্তমান দুরবস্থা তুলে ধরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিগত ও আর্থিক সহায়তার প্রয়োজনীয়তার কথা জানান।
রিহ্যাব নেতৃবৃন্দ বলেন, আবাসন খাত দেশের অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ, যার সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ২৫০টিরও বেশি শিল্পখাত জড়িত। তবে, সাম্প্রতিক বৈশ্বিক অস্থিরতা ও যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে নির্মাণসামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধি, অর্থায়নে সংকট এবং বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, যা আবাসন শিল্পে মারাত্মক সমস্যা সৃষ্টি করেছে।
এই প্রেক্ষাপটে, আবাসন খাতকে টিকিয়ে রাখা এবং চলমান প্রকল্পগুলো সচল রাখতে ৩,০০০ কোটি টাকার একটি বিশেষ তহবিল গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে, মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত মানুষের জন্য স্বল্প সুদে দীর্ঘমেয়াদি আবাসন ঋণ সুবিধা চালু করা এবং ব্যাংকগুলোতে হাউজিং লোন অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ করার ওপরও তারা গুরুত্বারোপ করেন।
সাক্ষাৎ শেষে, রিহ্যাবের পক্ষ থেকে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি গভর্নরের কাছে হস্তান্তর করা হয়। সংগঠনটির নেতারা আশা প্রকাশ করেন যে, আবাসন খাতের গুরুত্ব বিবেচনা করে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রয়োজনীয় নীতিগত ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর মোঃ মোস্তাকুর রহমান রিহ্যাব নেতৃবৃন্দের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং বাস্তবতা বিবেচনা করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। প্রস্তাবিত বিশেষ তহবিল গঠন করা হলে দেশের আবাসন খাত নতুন গতি পাবে, বিনিয়োগ বাড়বে এবং সাধারণ মানুষের জন্য বাসস্থান ক্রয় আরও সহজ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন রিহ্যাব নেতৃবৃন্দ।
রিপোর্টারের নাম 
























