ঢাকা ০১:৩৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬

নির্মাণ খাতকে সচল রাখতে ৩ হাজার কোটি টাকার তহবিল চায় রিহ্যাব

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকটের প্রভাব মোকাবিলা এবং দেশের আবাসন খাতের কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে আবাসন ব্যবসায়ীদের সংগঠন রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব) বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ৩ হাজার কোটি টাকার একটি বিশেষ তহবিল চেয়েছে। একইসাথে, সংগঠনটি গৃহঋণের সুদের হার এক অংকে নামিয়ে আনারও অনুরোধ জানিয়েছে।

মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে এক বৈঠকে রিহ্যাবের সভাপতি ওয়াহিদুজ্জামান এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বব্যাপী যে অর্থনৈতিক সংকট তৈরি হয়েছে, তার নেতিবাচক প্রভাব আবাসন খাতেও পড়েছে। এই পরিস্থিতি সামাল দিয়ে খাতটিকে সচল রাখতে একটি বিশেষ তহবিলের প্রয়োজন। এই কারণেই বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ৩ হাজার কোটি টাকা সহায়তা চাওয়া হয়েছে। গভর্নর বিষয়টি মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন এবং ইতিবাচক আশ্বাস দিয়েছেন বলে তিনি জানান।

রিহ্যাবের সভাপতি আরও বলেন, খাদ্য, বস্ত্র ও বাসস্থানের মতো মৌলিক চাহিদা পূরণে সাধারণ মানুষের জন্য স্বল্প সুদের গৃহঋণ অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু বর্তমানে বিভিন্ন কারণে গৃহঋণের সুদের হার বেশি হওয়ায় অনেকের পক্ষে বাড়ি কেনা কঠিন হয়ে পড়ছে। তাই গৃহঋণের সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনার সুযোগ তৈরির আহ্বান জানানো হয়েছে।

সংগঠনটি আরও কিছু প্রস্তাবনা দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে— গ্রিন বিল্ডিং, সৌরবিদ্যুৎ ও পরিবেশবান্ধব নির্মাণে বিশেষ অর্থায়ন সুবিধা প্রদান, জেলা ও উপজেলা শহরগুলোতে আবাসন প্রকল্পের জন্য বিশেষ অর্থায়নের ব্যবস্থা এবং ঢাকার ওপর চাপ কমাতে জেলা ও উপজেলা শহরগুলোতে কম সুদে আবাসন ঋণ সুবিধা প্রদান।

রিহ্যাবের মতে, বাংলাদেশ ব্যাংকের সরবরাহকৃত তালিকায় আবাসন বা নির্মাণ খাতকে অনুৎপাদনশীল খাত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অথচ এই খাতে প্রায় ৪০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান রয়েছে এবং এখানে কোনো শ্রমিক অসন্তোষ নেই। তাই আবাসন খাতকে উৎপাদনশীল খাত হিসেবে ঘোষণা করার দাবি জানানো হয়েছে।

রিহ্যাব মনে করে, তাদের প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়িত হলে আবাসন খাত আরও গতিশীল হবে, সাধারণ মানুষের জন্য বাসস্থান ক্রয় সহজ হবে এবং জাতীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইমামদের নেতৃত্বে ন্যায়-ইনসাফের সমাজ গড়ার আহ্বান মসজিদ মিশনের

নির্মাণ খাতকে সচল রাখতে ৩ হাজার কোটি টাকার তহবিল চায় রিহ্যাব

আপডেট সময় : ০৯:৪৯:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকটের প্রভাব মোকাবিলা এবং দেশের আবাসন খাতের কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে আবাসন ব্যবসায়ীদের সংগঠন রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব) বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ৩ হাজার কোটি টাকার একটি বিশেষ তহবিল চেয়েছে। একইসাথে, সংগঠনটি গৃহঋণের সুদের হার এক অংকে নামিয়ে আনারও অনুরোধ জানিয়েছে।

মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে এক বৈঠকে রিহ্যাবের সভাপতি ওয়াহিদুজ্জামান এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বব্যাপী যে অর্থনৈতিক সংকট তৈরি হয়েছে, তার নেতিবাচক প্রভাব আবাসন খাতেও পড়েছে। এই পরিস্থিতি সামাল দিয়ে খাতটিকে সচল রাখতে একটি বিশেষ তহবিলের প্রয়োজন। এই কারণেই বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ৩ হাজার কোটি টাকা সহায়তা চাওয়া হয়েছে। গভর্নর বিষয়টি মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন এবং ইতিবাচক আশ্বাস দিয়েছেন বলে তিনি জানান।

রিহ্যাবের সভাপতি আরও বলেন, খাদ্য, বস্ত্র ও বাসস্থানের মতো মৌলিক চাহিদা পূরণে সাধারণ মানুষের জন্য স্বল্প সুদের গৃহঋণ অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু বর্তমানে বিভিন্ন কারণে গৃহঋণের সুদের হার বেশি হওয়ায় অনেকের পক্ষে বাড়ি কেনা কঠিন হয়ে পড়ছে। তাই গৃহঋণের সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনার সুযোগ তৈরির আহ্বান জানানো হয়েছে।

সংগঠনটি আরও কিছু প্রস্তাবনা দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে— গ্রিন বিল্ডিং, সৌরবিদ্যুৎ ও পরিবেশবান্ধব নির্মাণে বিশেষ অর্থায়ন সুবিধা প্রদান, জেলা ও উপজেলা শহরগুলোতে আবাসন প্রকল্পের জন্য বিশেষ অর্থায়নের ব্যবস্থা এবং ঢাকার ওপর চাপ কমাতে জেলা ও উপজেলা শহরগুলোতে কম সুদে আবাসন ঋণ সুবিধা প্রদান।

রিহ্যাবের মতে, বাংলাদেশ ব্যাংকের সরবরাহকৃত তালিকায় আবাসন বা নির্মাণ খাতকে অনুৎপাদনশীল খাত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অথচ এই খাতে প্রায় ৪০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান রয়েছে এবং এখানে কোনো শ্রমিক অসন্তোষ নেই। তাই আবাসন খাতকে উৎপাদনশীল খাত হিসেবে ঘোষণা করার দাবি জানানো হয়েছে।

রিহ্যাব মনে করে, তাদের প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়িত হলে আবাসন খাত আরও গতিশীল হবে, সাধারণ মানুষের জন্য বাসস্থান ক্রয় সহজ হবে এবং জাতীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।