ঢাকা ১১:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬

ঈদের ছুটি ও মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের প্রভাবে হঠাৎ বাড়ল ডলারের দাম

দেশে হঠাৎ করে ডলারের দামে ঊর্ধ্বগতি দেখা দিয়েছে। গত মঙ্গলবার ব্যাংকগুলো বিদেশি এক্সচেঞ্জ হাউস থেকে ডলার কিনেছে ১২২ টাকা ৯০ পয়সা দরে, যা এতদিন ছিল ১২২ টাকা ৩০ থেকে ৩৫ পয়সা। এর ফলে আমদানিতে ডলারের দাম ১২৩ টাকা পর্যন্ত উঠে গেছে, যা এক সপ্তাহ আগেও ছিল ১২২ টাকা ৫০ পয়সা পর্যন্ত। বিভিন্ন ব্যাংক সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ঈদের ছুটিতে টানা সাত দিন ব্যাংক বন্ধ থাকবে। নিয়ম অনুযায়ী, বন্ধের সময়কার এলসি পরিশোধ এখনই করতে হবে। এতে ডলার কেনার চাহিদা বেড়েছে। এছাড়া, ইরান, ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সংঘাতের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এর ফলে বাংলাদেশি অধ্যুষিত অনেক এলাকার শিল্পকারখানা ও ব্যাংক শাখা বন্ধ রয়েছে, যা বিদেশি রেমিট্যান্স হাউসগুলোকে ডলারের জন্য বেশি দাম প্রস্তাব করতে উৎসাহিত করছে এবং ডলারের দাম কিছুটা বাড়িয়ে দিয়েছে।

মঙ্গলবার একটি ব্যবসায়ী গ্রুপের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, ব্যাংকগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা আমদানির এলসি নিষ্পত্তি করতে ১২২ টাকা ৮০ পয়সা থেকে ১২২ টাকা ৯০ পয়সা চাইছে, যা আগের দিন ছিল ১২২ টাকা ৫৭ পয়সা থেকে ১২২ টাকা ৭২ পয়সা পর্যন্ত। শীর্ষ ব্যাংকগুলোতেই এলসি নিষ্পত্তিতে বেশি দাম চাওয়া হচ্ছে। গত সপ্তাহেও আমদানি এলসি নিষ্পত্তির দর ছিল ১২২ টাকা ৩০ পয়সা থেকে ১২২ টাকা ৩৫ পয়সা। তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, এভাবে হঠাৎ দাম বৃদ্ধি পেলে এর প্রভাব ভোক্তা পর্যায়ে পড়বে এবং মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

একটি বেসরকারি ব্যাংকের একজন ডেপুটি ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, গত দেড় বছরের বেশি সময় ধরে ডলারের বাজার স্থিতিশীল ছিল। ফলে বাজারে কোনো ধরনের কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়নি। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উচিত এখনই যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া, যাতে ডলার সংকট তৈরি না হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংক প্রকাশিত মুদ্রার হার সংক্রান্ত প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গতকাল আন্তঃব্যাংক বাজারে প্রতি ডলার ১২২ টাকা ৫৮ পয়সায় বিক্রি হয়েছে, যা আগের দিন ছিল ১২২ টাকা ৪৯ পয়সা। এর আগে দীর্ঘদিন ধরে এটি ১২২ টাকা ৩০ পয়সা থেকে ৪০ পয়সার মধ্যে ওঠানামা করছিল। এদিকে, খোলাবাজারে নগদ ডলারের দর বেড়ে ১২৫ টাকা ৭০ পয়সা থেকে ৮০ পয়সায় উঠেছে, গত সপ্তাহে যা ছিল ১২৪ টাকা ৫০ পয়সা থেকে ৬০ পয়সা। ইরানের সঙ্গে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাত শুরুর পর থেকেই খোলাবাজারে ডলারের দর বাড়তে শুরু করেছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইমামদের নেতৃত্বে ন্যায়-ইনসাফের সমাজ গড়ার আহ্বান মসজিদ মিশনের

ঈদের ছুটি ও মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের প্রভাবে হঠাৎ বাড়ল ডলারের দাম

আপডেট সময় : ০৯:২০:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬

দেশে হঠাৎ করে ডলারের দামে ঊর্ধ্বগতি দেখা দিয়েছে। গত মঙ্গলবার ব্যাংকগুলো বিদেশি এক্সচেঞ্জ হাউস থেকে ডলার কিনেছে ১২২ টাকা ৯০ পয়সা দরে, যা এতদিন ছিল ১২২ টাকা ৩০ থেকে ৩৫ পয়সা। এর ফলে আমদানিতে ডলারের দাম ১২৩ টাকা পর্যন্ত উঠে গেছে, যা এক সপ্তাহ আগেও ছিল ১২২ টাকা ৫০ পয়সা পর্যন্ত। বিভিন্ন ব্যাংক সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ঈদের ছুটিতে টানা সাত দিন ব্যাংক বন্ধ থাকবে। নিয়ম অনুযায়ী, বন্ধের সময়কার এলসি পরিশোধ এখনই করতে হবে। এতে ডলার কেনার চাহিদা বেড়েছে। এছাড়া, ইরান, ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সংঘাতের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এর ফলে বাংলাদেশি অধ্যুষিত অনেক এলাকার শিল্পকারখানা ও ব্যাংক শাখা বন্ধ রয়েছে, যা বিদেশি রেমিট্যান্স হাউসগুলোকে ডলারের জন্য বেশি দাম প্রস্তাব করতে উৎসাহিত করছে এবং ডলারের দাম কিছুটা বাড়িয়ে দিয়েছে।

মঙ্গলবার একটি ব্যবসায়ী গ্রুপের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, ব্যাংকগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা আমদানির এলসি নিষ্পত্তি করতে ১২২ টাকা ৮০ পয়সা থেকে ১২২ টাকা ৯০ পয়সা চাইছে, যা আগের দিন ছিল ১২২ টাকা ৫৭ পয়সা থেকে ১২২ টাকা ৭২ পয়সা পর্যন্ত। শীর্ষ ব্যাংকগুলোতেই এলসি নিষ্পত্তিতে বেশি দাম চাওয়া হচ্ছে। গত সপ্তাহেও আমদানি এলসি নিষ্পত্তির দর ছিল ১২২ টাকা ৩০ পয়সা থেকে ১২২ টাকা ৩৫ পয়সা। তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, এভাবে হঠাৎ দাম বৃদ্ধি পেলে এর প্রভাব ভোক্তা পর্যায়ে পড়বে এবং মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

একটি বেসরকারি ব্যাংকের একজন ডেপুটি ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, গত দেড় বছরের বেশি সময় ধরে ডলারের বাজার স্থিতিশীল ছিল। ফলে বাজারে কোনো ধরনের কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়নি। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উচিত এখনই যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া, যাতে ডলার সংকট তৈরি না হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংক প্রকাশিত মুদ্রার হার সংক্রান্ত প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গতকাল আন্তঃব্যাংক বাজারে প্রতি ডলার ১২২ টাকা ৫৮ পয়সায় বিক্রি হয়েছে, যা আগের দিন ছিল ১২২ টাকা ৪৯ পয়সা। এর আগে দীর্ঘদিন ধরে এটি ১২২ টাকা ৩০ পয়সা থেকে ৪০ পয়সার মধ্যে ওঠানামা করছিল। এদিকে, খোলাবাজারে নগদ ডলারের দর বেড়ে ১২৫ টাকা ৭০ পয়সা থেকে ৮০ পয়সায় উঠেছে, গত সপ্তাহে যা ছিল ১২৪ টাকা ৫০ পয়সা থেকে ৬০ পয়সা। ইরানের সঙ্গে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাত শুরুর পর থেকেই খোলাবাজারে ডলারের দর বাড়তে শুরু করেছে।