দেশ থেকে পাচার হওয়া বিপুল পরিমাণ অর্থ উদ্ধারের কার্যক্রম কোনো রাজনৈতিক চাপে বন্ধ হবে না। বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান মঙ্গলবার ব্যাংকগুলোর শীর্ষ নির্বাহীদের সঙ্গে এক বৈঠকে এই প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার প্রক্রিয়া বর্তমান সরকারের সময়েও জোরেশোরে চলমান থাকবে।
মঙ্গলবার দেশের ৩৭টি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরতের অগ্রগতি এবং এ বিষয়ে করণীয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। গভর্নর জোর দিয়ে বলেন, জনগণের টাকা পাচার হয়েছে এবং এর দায় ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকদেরও (এমডি) রয়েছে। তাই টাকা উদ্ধারই এখন প্রথম অগ্রাধিকার।
বৈঠক শেষে অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান এবং সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মাসরুর আরেফিন সাংবাদিকদের জানান, যেসব ব্যাংকের মাধ্যমে অর্থ পাচারের অভিযোগ উঠেছে, তারা ইতোমধ্যে ৮ থেকে ১০টি আন্তর্জাতিক আইন সংস্থা নিয়োগ দিয়েছে। এসব সংস্থা বিদেশের আদালতে মামলা পরিচালনা করছে। আইনি বিশেষজ্ঞদের মতে, পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফেরাতে সাধারণত তিন থেকে পাঁচ বছর সময় লাগতে পারে। এবিবি হিসেবে আমরা আশাবাদী যে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এসব অর্থ ফেরত আনা সম্ভব হবে।
মাসরুর আরেফিন আরও বলেন, গভর্নর বৈঠকে জানিয়েছেন যে বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার প্রক্রিয়া চলমান থাকবে। সরকার পরিবর্তন হলেও এই কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাবে—এমন কোনো আশঙ্কা নেই। রাজনৈতিক চাপ থাকলেও পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারের কার্যক্রম বন্ধ হবে না, কারণ এসব জনগণের টাকা এবং তা উদ্ধারের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। গভর্নর দ্রুত ব্যাংকগুলোকে আন্তর্জাতিক সম্পদ পুনরুদ্ধার ও ল-ফার্মের সঙ্গে নন-ডিসক্লোজার অ্যাগ্রিমেন্ট (এনডিএ) সম্পন্ন করার নির্দেশনাও দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরিবার এবং ১০টি শিল্পগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ঘুষ, দুর্নীতি, প্রতারণা, জালিয়াতি, মুদ্রা পাচার, কর ও শুল্ক ফাঁকি এবং অর্থ পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধানে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এর সমন্বয়ে ১১টি তদন্ত দল গঠন করা হয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 
























