ঢাকা ১২:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬

২১তম তারাবি: আল্লাহর রহমতে নিরাশ হয়ো না

## ২১তম তারাবিতে আল্লাহর রহমতের অপার বার্তা

আজকের তারাবিতে পবিত্র কোরআনের সূরা জুমা (৩২-৭৫), সূরা মোমিন এবং সূরা হামিম সাজদা (১-৪৬) তিলাওয়াত করা হবে। এই অংশটি কোরআনের ২৪তম পারা অন্তর্ভুক্ত। আজকের পাঠে আল্লাহর অসীম করুণা, তওবার গুরুত্ব, কাফেরদের পরিণাম এবং মুমিনদের জন্য জান্নাতের সুসংবাদসহ মানবজাতির সৃষ্টি রহস্য ও আল্লাহর নিদর্শনাবলী সম্পর্কে গভীর আলোচনা রয়েছে।

সূরা জুমা (৩২-৭৫): পারার শুরুতে বান্দার প্রতি আল্লাহর অসীম অনুগ্রহ এবং তাঁর পক্ষ থেকে বান্দার জন্য যথেষ্ট হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। এরপর মানুষের মৃত্যু, কেয়ামত এবং পরকালীন জীবনের বিভিন্ন চিত্র ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। বিশেষ করে, পাপী ও অপরাধী বান্দাদের জন্য আল্লাহর রহমত ও মাগফিরাতের দ্বার সবসময় খোলা থাকার কথা বলা হয়েছে। তওবা করার সঙ্গে সঙ্গেই আল্লাহ তা কবুল করেন। কেয়ামতের দিন কাফের ও মুশরিকদের জাহান্নামের দিকে টেনে নিয়ে যাওয়া হবে, অন্যদিকে মুত্তাকিদের জান্নাতে প্রবেশের জন্য ফেরেশতারা অভ্যর্থনা জানাবেন এবং সালাম পেশ করবেন। আল্লাহর প্রশংসা করতে করতে তারা জান্নাতে তাদের চিরস্থায়ী আবাসস্থলে প্রবেশ করবে।

সূরা মোমিন (গাফির): মক্কায় অবতীর্ণ এই সূরাটি হক ও বাতিলের সংঘাত, হেদায়েত ও গোমরাহির পথ এবং ঈমান ও কুফরের পরিণতির উপর আলোকপাত করে। কোরআন নাজিলের উদ্দেশ্য হিসেবে পাপ মোচন, তওবা কবুল এবং কঠিন শাস্তির পাশাপাশি আল্লাহর অনুগ্রহের কথা বলা হয়েছে। এই সূরায় আরশ বহনকারী ফেরেশতাদের মুমিন বান্দাদের জন্য বিশেষ দোয়ার বিবরণ রয়েছে। এরপর কাফের-মুশরিকদের জাহান্নামের ভয়াবহ পরিণতির চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। মুসা (আ.) ও ফেরাউনের ঘটনার মাধ্যমে জালেম শাসকদের ধূর্ততা এবং সত্যের পথে অবিচল থাকার গুরুত্ব বোঝানো হয়েছে। ফেরাউন তার উজির হামানকে মুসার ইলাহকে দেখার জন্য উঁচু প্রাসাদ তৈরির নির্দেশ দেয়, যা তৎকালীন শাসকদের জনবিচ্ছিন্নতা এবং অবাস্তব চিন্তাভাবনার প্রতিফলন। কিন্তু সেই সময়ের একজন মুমিন ব্যক্তি ফেরাউনের ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ উপেক্ষা করে সত্যের দাওয়াত অব্যাহত রাখেন এবং আল্লাহর শাস্তি থেকে মুক্তি পান, যেখানে ফেরাউন ও তার সহযোগীরা ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। কেয়ামতের দিনও তাদের ওপর আজাব অব্যাহত থাকবে। সূরাটিতে আল্লাহর নেয়ামত, মানব সৃষ্টি এবং নবীজিকে সবরের নির্দেশ দিয়ে কাফেরদের পরিণতির কথা বলে শেষ করা হয়েছে।

সূরা হামিম সাজদা (ফুসসিলাত): মক্কায় অবতীর্ণ এই সূরাটিও কোরআনুল কারিমের আলোচনা দিয়ে শুরু হয়। আল্লাহর অনুগ্রহের বিপরীতে মানুষের অকৃতজ্ঞতা এবং আদ ও সামুদ জাতির পরিণতির কথা বলা হয়েছে। কেয়ামতের দিন মানুষের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গই তাদের পক্ষে বা বিপক্ষে সাক্ষী দেবে। কাফেরদের ভয়াবহ পরিণতির বিপরীতে মুমিনদের জন্য জান্নাতের সুসংবাদ রয়েছে। যারা একবার আল্লাহর প্রতি ঈমান আনে, তারা মৃত্যু ও কেয়ামতের দিনও আল্লাহর সুরক্ষায় থাকবে এবং ফেরেশতারা তাদের জান্নাতের সুসংবাদ দেবেন। মন্দ আচরণের বিপরীতে উত্তম আচরণের মাধ্যমে তা প্রতিরোধ করার কথা বলা হয়েছে। আল্লাহর নিদর্শনাবলী এবং কোরআনের প্রতি কাফেরদের আচরণের বিষয়টিও আলোচিত হয়েছে। পারার শেষাংশে আল্লাহর ন্যায়বিচার এবং নেক ও বদ আমলের প্রতিফল সম্পর্কে স্পষ্ট ঘোষণা রয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে, “যে নেক আমল করবে সে নিজের কল্যাণের জন্যই করবে। আর যে মন্দ কাজ করবে তার প্রতিফল সে নিজেই ভোগ করবে। তোমার প্রতিপালক বান্দাদের প্রতি মোটেই জুলুম করেন না।”

এই পাঠের মাধ্যমে আমরা আল্লাহর অপার রহমত, তওবার গুরুত্ব এবং সত্যের পথে অবিচল থাকার মহত্ত্ব সম্পর্কে নতুন করে জানতে পারি।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গর্ভাবস্থায় রোজা: মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় সতর্কতা ও চিকিৎসকের পরামর্শ

২১তম তারাবি: আল্লাহর রহমতে নিরাশ হয়ো না

আপডেট সময় : ০৯:০৭:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬

## ২১তম তারাবিতে আল্লাহর রহমতের অপার বার্তা

আজকের তারাবিতে পবিত্র কোরআনের সূরা জুমা (৩২-৭৫), সূরা মোমিন এবং সূরা হামিম সাজদা (১-৪৬) তিলাওয়াত করা হবে। এই অংশটি কোরআনের ২৪তম পারা অন্তর্ভুক্ত। আজকের পাঠে আল্লাহর অসীম করুণা, তওবার গুরুত্ব, কাফেরদের পরিণাম এবং মুমিনদের জন্য জান্নাতের সুসংবাদসহ মানবজাতির সৃষ্টি রহস্য ও আল্লাহর নিদর্শনাবলী সম্পর্কে গভীর আলোচনা রয়েছে।

সূরা জুমা (৩২-৭৫): পারার শুরুতে বান্দার প্রতি আল্লাহর অসীম অনুগ্রহ এবং তাঁর পক্ষ থেকে বান্দার জন্য যথেষ্ট হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। এরপর মানুষের মৃত্যু, কেয়ামত এবং পরকালীন জীবনের বিভিন্ন চিত্র ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। বিশেষ করে, পাপী ও অপরাধী বান্দাদের জন্য আল্লাহর রহমত ও মাগফিরাতের দ্বার সবসময় খোলা থাকার কথা বলা হয়েছে। তওবা করার সঙ্গে সঙ্গেই আল্লাহ তা কবুল করেন। কেয়ামতের দিন কাফের ও মুশরিকদের জাহান্নামের দিকে টেনে নিয়ে যাওয়া হবে, অন্যদিকে মুত্তাকিদের জান্নাতে প্রবেশের জন্য ফেরেশতারা অভ্যর্থনা জানাবেন এবং সালাম পেশ করবেন। আল্লাহর প্রশংসা করতে করতে তারা জান্নাতে তাদের চিরস্থায়ী আবাসস্থলে প্রবেশ করবে।

সূরা মোমিন (গাফির): মক্কায় অবতীর্ণ এই সূরাটি হক ও বাতিলের সংঘাত, হেদায়েত ও গোমরাহির পথ এবং ঈমান ও কুফরের পরিণতির উপর আলোকপাত করে। কোরআন নাজিলের উদ্দেশ্য হিসেবে পাপ মোচন, তওবা কবুল এবং কঠিন শাস্তির পাশাপাশি আল্লাহর অনুগ্রহের কথা বলা হয়েছে। এই সূরায় আরশ বহনকারী ফেরেশতাদের মুমিন বান্দাদের জন্য বিশেষ দোয়ার বিবরণ রয়েছে। এরপর কাফের-মুশরিকদের জাহান্নামের ভয়াবহ পরিণতির চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। মুসা (আ.) ও ফেরাউনের ঘটনার মাধ্যমে জালেম শাসকদের ধূর্ততা এবং সত্যের পথে অবিচল থাকার গুরুত্ব বোঝানো হয়েছে। ফেরাউন তার উজির হামানকে মুসার ইলাহকে দেখার জন্য উঁচু প্রাসাদ তৈরির নির্দেশ দেয়, যা তৎকালীন শাসকদের জনবিচ্ছিন্নতা এবং অবাস্তব চিন্তাভাবনার প্রতিফলন। কিন্তু সেই সময়ের একজন মুমিন ব্যক্তি ফেরাউনের ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ উপেক্ষা করে সত্যের দাওয়াত অব্যাহত রাখেন এবং আল্লাহর শাস্তি থেকে মুক্তি পান, যেখানে ফেরাউন ও তার সহযোগীরা ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। কেয়ামতের দিনও তাদের ওপর আজাব অব্যাহত থাকবে। সূরাটিতে আল্লাহর নেয়ামত, মানব সৃষ্টি এবং নবীজিকে সবরের নির্দেশ দিয়ে কাফেরদের পরিণতির কথা বলে শেষ করা হয়েছে।

সূরা হামিম সাজদা (ফুসসিলাত): মক্কায় অবতীর্ণ এই সূরাটিও কোরআনুল কারিমের আলোচনা দিয়ে শুরু হয়। আল্লাহর অনুগ্রহের বিপরীতে মানুষের অকৃতজ্ঞতা এবং আদ ও সামুদ জাতির পরিণতির কথা বলা হয়েছে। কেয়ামতের দিন মানুষের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গই তাদের পক্ষে বা বিপক্ষে সাক্ষী দেবে। কাফেরদের ভয়াবহ পরিণতির বিপরীতে মুমিনদের জন্য জান্নাতের সুসংবাদ রয়েছে। যারা একবার আল্লাহর প্রতি ঈমান আনে, তারা মৃত্যু ও কেয়ামতের দিনও আল্লাহর সুরক্ষায় থাকবে এবং ফেরেশতারা তাদের জান্নাতের সুসংবাদ দেবেন। মন্দ আচরণের বিপরীতে উত্তম আচরণের মাধ্যমে তা প্রতিরোধ করার কথা বলা হয়েছে। আল্লাহর নিদর্শনাবলী এবং কোরআনের প্রতি কাফেরদের আচরণের বিষয়টিও আলোচিত হয়েছে। পারার শেষাংশে আল্লাহর ন্যায়বিচার এবং নেক ও বদ আমলের প্রতিফল সম্পর্কে স্পষ্ট ঘোষণা রয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে, “যে নেক আমল করবে সে নিজের কল্যাণের জন্যই করবে। আর যে মন্দ কাজ করবে তার প্রতিফল সে নিজেই ভোগ করবে। তোমার প্রতিপালক বান্দাদের প্রতি মোটেই জুলুম করেন না।”

এই পাঠের মাধ্যমে আমরা আল্লাহর অপার রহমত, তওবার গুরুত্ব এবং সত্যের পথে অবিচল থাকার মহত্ত্ব সম্পর্কে নতুন করে জানতে পারি।