ঢাকা ১০:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি: দক্ষিণ কোরিয়ার যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত, বাংলাদেশেও সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে তৎপর সরকার

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী হওয়ায় এবং ব্যারেলপ্রতি দাম ১১৪ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ায় দক্ষিণ কোরিয়া সরকার এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে। প্রায় ৩০ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো দেশটি পেট্রোলিয়ামজাত জ্বালানির উপর সর্বোচ্চ মূল্যসীমা বা প্রাইস ক্যাপ নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জরুরি মন্ত্রিসভার বৈঠকে দেশটির প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ং জানান, জ্বালানির এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব থেকে ভোক্তা ও শিল্প খাতকে সুরক্ষা দিতে সরকার দ্রুত ও কঠোরভাবে এই ব্যবস্থা কার্যকর করবে। সাধারণত দক্ষিণ কোরিয়ার জ্বালানির দাম আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ওঠানামা করে এবং সরকার কর সমন্বয় বা ভর্তুকির মাধ্যমে বাজারকে প্রভাবিত করে। তবে বৈশ্বিক অস্থিরতার কারণে এই প্রথম সরকার দামের একটি সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করতে যাচ্ছে।

অন্যদিকে, বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সরকার জোর তৎপরতা চালাচ্ছে। দেশের জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে বলে সরকার আশ্বাস দিলেও, বাস্তবে তেল সংগ্রহে গ্রাহকদের মারাত্মক ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়েও তেল না পেয়ে অনেককে ফিরে যেতে হচ্ছে। যাত্রীবাহী ও পণ্য পরিবহনকারী গাড়িগুলোও চাহিদামতো তেল পাচ্ছে না। তেলের মজুত ফুরিয়ে যাওয়ায় অনেক পাম্প বন্ধ রাখছেন মালিকেরা, আবার কেউ কেউ সুযোগ বুঝে অবৈধভাবে তেল মজুত করছে। এই নৈরাজ্য বন্ধে সরকার নিরবচ্ছিন্ন তেল সরবরাহ নিশ্চিত করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। জ্বালানি তেলের মজুত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় রাজধানীর বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছে। জ্বালানি বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে, এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে পেট্রোল পাম্পগুলোর বর্তমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

চিকিৎসার খোঁজে নিজেই প্রাণিসম্পদ হাসপাতালে হাজির অসুস্থ কাক!

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি: দক্ষিণ কোরিয়ার যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত, বাংলাদেশেও সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে তৎপর সরকার

আপডেট সময় : ০৪:০৭:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী হওয়ায় এবং ব্যারেলপ্রতি দাম ১১৪ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ায় দক্ষিণ কোরিয়া সরকার এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে। প্রায় ৩০ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো দেশটি পেট্রোলিয়ামজাত জ্বালানির উপর সর্বোচ্চ মূল্যসীমা বা প্রাইস ক্যাপ নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জরুরি মন্ত্রিসভার বৈঠকে দেশটির প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ং জানান, জ্বালানির এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব থেকে ভোক্তা ও শিল্প খাতকে সুরক্ষা দিতে সরকার দ্রুত ও কঠোরভাবে এই ব্যবস্থা কার্যকর করবে। সাধারণত দক্ষিণ কোরিয়ার জ্বালানির দাম আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ওঠানামা করে এবং সরকার কর সমন্বয় বা ভর্তুকির মাধ্যমে বাজারকে প্রভাবিত করে। তবে বৈশ্বিক অস্থিরতার কারণে এই প্রথম সরকার দামের একটি সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করতে যাচ্ছে।

অন্যদিকে, বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সরকার জোর তৎপরতা চালাচ্ছে। দেশের জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে বলে সরকার আশ্বাস দিলেও, বাস্তবে তেল সংগ্রহে গ্রাহকদের মারাত্মক ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়েও তেল না পেয়ে অনেককে ফিরে যেতে হচ্ছে। যাত্রীবাহী ও পণ্য পরিবহনকারী গাড়িগুলোও চাহিদামতো তেল পাচ্ছে না। তেলের মজুত ফুরিয়ে যাওয়ায় অনেক পাম্প বন্ধ রাখছেন মালিকেরা, আবার কেউ কেউ সুযোগ বুঝে অবৈধভাবে তেল মজুত করছে। এই নৈরাজ্য বন্ধে সরকার নিরবচ্ছিন্ন তেল সরবরাহ নিশ্চিত করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। জ্বালানি তেলের মজুত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় রাজধানীর বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছে। জ্বালানি বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে, এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে পেট্রোল পাম্পগুলোর বর্তমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।