আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে নতুন টাকার নোট বাজারে ছাড়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে, এই বিশেষ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন না কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। তাদের জন্য নতুন নোট সরবরাহের একটি অভ্যন্তরীণ আদেশ জারি করা হয়েছে, যা নিয়ে জনমনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
প্রতি বছর ঈদের প্রাক্কালে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রায় ১৫ থেকে ২০ হাজার কোটি টাকার নতুন নোট বাজারে ছাড়ত, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে বিনিময় হতো। গত ঈদে এই পরিমাণ কমিয়ে মাত্র ৫০০ কোটি টাকা ছাড়া হয়েছিল। কিন্তু এবার কোনো নতুন নোট বাজারে না ছাড়ার সিদ্ধান্তে সাধারণ মানুষ উৎসবের আনন্দ থেকে নতুন নোট পাওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের জারি করা অফিস আদেশ অনুযায়ী, নির্বাহী পরিচালক, পরিচালক, অতিরিক্ত পরিচালক এবং যুগ্ম পরিচালক পদমর্যাদার কর্মকর্তারা প্রত্যেকে ১ লক্ষ ৮৩ হাজার টাকা পর্যন্ত নতুন নোট নিতে পারবেন। অন্যদিকে, পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও কর্মচারীরা সর্বোচ্চ ৬৮ হাজার টাকা পর্যন্ত নতুন নোটের সুবিধা পাবেন। আগামী ৮ থেকে ১২ মার্চ পর্যন্ত এই কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন নোট সংগ্রহ করতে পারবেন।
এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে যে, অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী তাদের বেতন-ভাতার চেয়েও বেশি পরিমাণ নতুন নোট পাচ্ছেন। এর ফলে নতুন নোটের অবৈধ লেনদেন এবং ফুটপাতের ব্যবসায়ীদের কাছে এর চলে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা দেশের অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কিছু কর্মকর্তা এই দ্বৈতনীতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। একদিকে ক্যাশলেস লেনদেনকে উৎসাহিত করার কথা বলা হচ্ছে, অন্যদিকে নিজেদের কর্মীদের জন্য নতুন নোটের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এই বিষয়টি ক্যাশলেস উদ্যোগের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানিয়েছেন যে, ঈদের আগে নতুন টাকার নোট বাজারে ছাড়ার যে প্রথা ছিল, তা থেকে এবার সরে আসা হয়েছে। তাই এবার কোনোভাবেই ঈদের আগে নতুন টাকা বাজারে ছাড়া হবে না।
রিপোর্টারের নাম 

























