ঢাকা ১১:৫০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৯ মার্চ ২০২৬

ডিজিএফআই প্রধানের ভারত সফরের পর হাদি হত্যার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

রাজধানীর পল্টনে চাঞ্চল্যকর ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ বিন ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি ও মূল শ্যুটার ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল এবং তার সহযোগী আলমগীর হোসেন অবশেষে ভারতে গ্রেপ্তার হয়েছে। গত শনিবার (৭ মার্চ) রাতে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের একটি বিশেষ দল বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী বনগাঁ এলাকা থেকে তাদের আটক করে।

রোববার (৮ মার্চ) বাংলাদেশের একটি গোয়েন্দা সংস্থা সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই গ্রেপ্তারের খবর নিশ্চিত করেছে। ভারতের সংবাদ সংস্থা এএনআই এবং পশ্চিমবঙ্গের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ‘এই সময়’ও এই আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এই গ্রেপ্তারের পেছনে সম্প্রতি ডিজিএফআই-এর নবনিযুক্ত মহাপরিচালকের ভারত সফর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। ওই সফরে তিনি ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছে হাদি হত্যা মামলার আসামিসহ ভারতে আত্মগোপনকারী সন্ত্রাসীদের তালিকা হস্তান্তর করেন এবং তাদের দ্রুত গ্রেপ্তারের অনুরোধ জানান। বাংলাদেশের দেওয়া সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ এই সফল অভিযান পরিচালনা করে। এছাড়া ভারত থেকে দেশবিরোধী অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধেও ভারত সরকার ব্যবস্থা নেওয়ার নিশ্চয়তা দিয়েছে বলে জানা গেছে।

২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজ শেষে ঢাকার পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে গণসংযোগ করার সময় মোটরসাইকেল আরোহী দুই সন্ত্রাসীর গুলিতে গুরুতর আহত হন ওসমান হাদি। এর ছয় দিন পর ১৮ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। এই ঘটনার পর প্রধান শ্যুটার ফয়সাল ও আলমগীর অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে পালিয়ে গিয়েছিল।

গ্রেপ্তারকৃতদের রোববার ভারতের সংশ্লিষ্ট আদালতে হাজির করে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ এই গ্রেপ্তারকে একটি বড় সাফল্য হিসেবে বর্ণনা করেছে, কারণ এই হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে ব্যাপক রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল।

বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ এখন ইন্টারপোল বা দ্বিপাক্ষিক অপরাধী প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় এই দুই দুর্ধর্ষ অপরাধীকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রস্তুত করছে। মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, ফয়সাল ও আলমগীরকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী এবং নেপথ্যের কুশীলবদের পরিচয় বেরিয়ে আসবে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

মোজতবা খামেনির প্রতি ইরানের প্রেসিডেন্ট ও সামরিক বাহিনীর পূর্ণ আনুগত্য

ডিজিএফআই প্রধানের ভারত সফরের পর হাদি হত্যার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

আপডেট সময় : ০৯:৪০:১৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬

রাজধানীর পল্টনে চাঞ্চল্যকর ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ বিন ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি ও মূল শ্যুটার ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল এবং তার সহযোগী আলমগীর হোসেন অবশেষে ভারতে গ্রেপ্তার হয়েছে। গত শনিবার (৭ মার্চ) রাতে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের একটি বিশেষ দল বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী বনগাঁ এলাকা থেকে তাদের আটক করে।

রোববার (৮ মার্চ) বাংলাদেশের একটি গোয়েন্দা সংস্থা সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই গ্রেপ্তারের খবর নিশ্চিত করেছে। ভারতের সংবাদ সংস্থা এএনআই এবং পশ্চিমবঙ্গের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ‘এই সময়’ও এই আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এই গ্রেপ্তারের পেছনে সম্প্রতি ডিজিএফআই-এর নবনিযুক্ত মহাপরিচালকের ভারত সফর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। ওই সফরে তিনি ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছে হাদি হত্যা মামলার আসামিসহ ভারতে আত্মগোপনকারী সন্ত্রাসীদের তালিকা হস্তান্তর করেন এবং তাদের দ্রুত গ্রেপ্তারের অনুরোধ জানান। বাংলাদেশের দেওয়া সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ এই সফল অভিযান পরিচালনা করে। এছাড়া ভারত থেকে দেশবিরোধী অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধেও ভারত সরকার ব্যবস্থা নেওয়ার নিশ্চয়তা দিয়েছে বলে জানা গেছে।

২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজ শেষে ঢাকার পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে গণসংযোগ করার সময় মোটরসাইকেল আরোহী দুই সন্ত্রাসীর গুলিতে গুরুতর আহত হন ওসমান হাদি। এর ছয় দিন পর ১৮ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। এই ঘটনার পর প্রধান শ্যুটার ফয়সাল ও আলমগীর অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে পালিয়ে গিয়েছিল।

গ্রেপ্তারকৃতদের রোববার ভারতের সংশ্লিষ্ট আদালতে হাজির করে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ এই গ্রেপ্তারকে একটি বড় সাফল্য হিসেবে বর্ণনা করেছে, কারণ এই হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে ব্যাপক রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল।

বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ এখন ইন্টারপোল বা দ্বিপাক্ষিক অপরাধী প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় এই দুই দুর্ধর্ষ অপরাধীকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রস্তুত করছে। মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, ফয়সাল ও আলমগীরকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী এবং নেপথ্যের কুশীলবদের পরিচয় বেরিয়ে আসবে।