ঢাকা ১১:৩৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৯ মার্চ ২০২৬

শেয়ারবাজারে স্বস্তি ফেরেনি, নতুন সরকারের আমলেও দরপতন অব্যাহত

নতুন সরকার গঠিত হওয়ার পরও দেশের শেয়ারবাজারে স্বস্তির দেখা মেলেনি। টানা দরপতন এবং তীব্র তারল্য সংকট বাজারকে গ্রাস করেছে। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পর বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সূচক ও লেনদেনে বড় ধরনের উল্লম্ফনের আশা জাগলেও তা দ্রুতই উবে গেছে। রবিবার, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স একদিনেই ২২৩ পয়েন্ট হারিয়েছে, যা শতকরা হিসাবে ৪.৪২ শতাংশ। এই পতনের ফলে প্রধান সূচকটি আবারও পাঁচ হাজার পয়েন্টের নিচে নেমে এসেছে।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শেয়ারবাজারে দীর্ঘদিনের আস্থার সংকট বিদ্যমান। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর বাজার গতিশীল হবে এমন প্রত্যাশা থাকলেও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বড় ধরনের আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। এর ফলেই বাজারে এমন তীব্র দরপতন দেখা যাচ্ছে।

পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সাবেক চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ সিদ্দিকী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি বিনিয়োগকারীদের আতঙ্কিত করে তুলেছে, যার ফলে বাজারে ‘প্যানিক সেল’ হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, বিনিয়োগকারীদের ফাইন্যান্সিয়াল লিটারেসির অভাব রয়েছে এবং এই ধরনের আচরণ অযৌক্তিক। যুদ্ধের প্রভাব বিভিন্ন দেশে পড়েছে, কিন্তু বাংলাদেশে এর প্রভাব অস্বাভাবিক। তিনি মনে করেন, এর সঙ্গে সরকার বা নিয়ন্ত্রক সংস্থার কোনো সম্পর্ক নেই।

ফারুক আহমেদ সিদ্দিকী দেশের শেয়ারবাজারে কাঠামোগত সংকটের কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ভালো ও মৌলভিত্তিসম্পন্ন কোম্পানির সংখ্যা খুবই কম। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের চেয়ে ট্রেডারদের সংখ্যা বেশি এবং এদের অধিকাংশই ফাইন্যান্সিয়াল লিটারেসিবিহীন, যা বাজারের দীর্ঘদিনের সমস্যা।

তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে একটি ইতিবাচক প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল। ফেব্রুয়ারির শুরু থেকে বাজারে সূচক ও লেনদেনে গতি সঞ্চার হয় এবং নির্বাচনের পরবর্তী প্রথম লেনদেন দিবস পর্যন্ত এই ধারা বজায় থাকে। এ সময়ে ডিএসইএক্স পাঁচ হাজার ১৫৪ থেকে পাঁচ হাজার ৬০০ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছিল।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ঘন কুয়াশার কারণে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌ রুটে ফেরি চলাচল বন্ধ

শেয়ারবাজারে স্বস্তি ফেরেনি, নতুন সরকারের আমলেও দরপতন অব্যাহত

আপডেট সময় : ০৮:২১:৪০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬

নতুন সরকার গঠিত হওয়ার পরও দেশের শেয়ারবাজারে স্বস্তির দেখা মেলেনি। টানা দরপতন এবং তীব্র তারল্য সংকট বাজারকে গ্রাস করেছে। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পর বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সূচক ও লেনদেনে বড় ধরনের উল্লম্ফনের আশা জাগলেও তা দ্রুতই উবে গেছে। রবিবার, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স একদিনেই ২২৩ পয়েন্ট হারিয়েছে, যা শতকরা হিসাবে ৪.৪২ শতাংশ। এই পতনের ফলে প্রধান সূচকটি আবারও পাঁচ হাজার পয়েন্টের নিচে নেমে এসেছে।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শেয়ারবাজারে দীর্ঘদিনের আস্থার সংকট বিদ্যমান। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর বাজার গতিশীল হবে এমন প্রত্যাশা থাকলেও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বড় ধরনের আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। এর ফলেই বাজারে এমন তীব্র দরপতন দেখা যাচ্ছে।

পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সাবেক চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ সিদ্দিকী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি বিনিয়োগকারীদের আতঙ্কিত করে তুলেছে, যার ফলে বাজারে ‘প্যানিক সেল’ হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, বিনিয়োগকারীদের ফাইন্যান্সিয়াল লিটারেসির অভাব রয়েছে এবং এই ধরনের আচরণ অযৌক্তিক। যুদ্ধের প্রভাব বিভিন্ন দেশে পড়েছে, কিন্তু বাংলাদেশে এর প্রভাব অস্বাভাবিক। তিনি মনে করেন, এর সঙ্গে সরকার বা নিয়ন্ত্রক সংস্থার কোনো সম্পর্ক নেই।

ফারুক আহমেদ সিদ্দিকী দেশের শেয়ারবাজারে কাঠামোগত সংকটের কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ভালো ও মৌলভিত্তিসম্পন্ন কোম্পানির সংখ্যা খুবই কম। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের চেয়ে ট্রেডারদের সংখ্যা বেশি এবং এদের অধিকাংশই ফাইন্যান্সিয়াল লিটারেসিবিহীন, যা বাজারের দীর্ঘদিনের সমস্যা।

তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে একটি ইতিবাচক প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল। ফেব্রুয়ারির শুরু থেকে বাজারে সূচক ও লেনদেনে গতি সঞ্চার হয় এবং নির্বাচনের পরবর্তী প্রথম লেনদেন দিবস পর্যন্ত এই ধারা বজায় থাকে। এ সময়ে ডিএসইএক্স পাঁচ হাজার ১৫৪ থেকে পাঁচ হাজার ৬০০ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছিল।