ঢাকা ১২:২৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬

যুদ্ধের আবহে নতুন অধ্যায়: মোজতবা খামেনি ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা

ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় নিহত সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির পুত্র মোজতবা হোসেইনি খামেনি ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। রবিবার দেশটির ধর্মীয় নেতারা আয়াতুল্লাহ খামেনির দ্বিতীয় পুত্রকে নতুন নেতা হিসেবে ঘোষণা করেন। এর আগে থেকেই পশ্চিমা ও ইসরাইলি গণমাধ্যমে এই আভাস পাওয়া যাচ্ছিল যে ৫৬ বছর বয়সী মোজতবা খামেনিই দেশটির পরবর্তী নেতা হতে পারেন।

গত ৩ মার্চ লন্ডনভিত্তিক ইরানি বিরোধী সংবাদমাধ্যম ‘ইরান ইন্টারন্যাশনাল’ সূত্রের বরাত দিয়ে জানায়, ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা ৮৮ সদস্যের ‘বিশেষজ্ঞ পরিষদ’ প্রয়াত আয়াতুল্লাহ খামেনির স্থলাভিষিক্ত হিসেবে তার দ্বিতীয় পুত্র মোজতবাকে বেছে নিয়েছে। তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমগুলো প্রথমদিকে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। আল-জাজিরা বা মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক বড় কোনো গণমাধ্যমও তখন মোজতবা খামেনির নির্বাচিত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেনি।

দীর্ঘদিন ধরে অনেকের ধারণা ছিল, বাবার পর ইরানের নেতৃত্বে আসতে পারেন মোজতবা খামেনি। খামেনির সমর্থকদের মতে, তাকে সেইভাবেই প্রস্তুত করা হয়েছিল। অন্যদিকে সমালোচকদের দাবি, বড় মাপের ধর্মীয় আলেম না হওয়া সত্ত্বেও তার নেতৃত্বে আসার পেছনে বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী আইআরজিসির ভূমিকা থাকতে পারে। ইরানের প্রভাবশালী এই বাহিনীর মধ্যে মোজতবার যথেষ্ট গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে।

মোজতবা বেশিরভাগ সময়ই জনসম্মুখের বাইরে থেকেছেন। তিনি কখনো কোনো সরকারি দায়িত্বে ছিলেন না এবং খুব কমই প্রকাশ্যে বক্তৃতা দিয়েছেন। তবে ইরানের জটিল ধর্মতান্ত্রিক ক্ষমতাকাঠামোর ভেতরে তার প্রভাব বিস্তৃত বলে মনে করা হয়। ১৯৬৯ সালে মাশহাদ শহরে জন্ম নেওয়া মোজতবা ছয় ভাইবোনের মধ্যে দ্বিতীয়। ছোটবেলাতেই তার বাবা ইরানের শেষ শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভিকে উৎখাতের আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ১৯৭৯ সালের ইসলামিক বিপ্লবের পর খামেনি পরিবার রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসে।

তেহরানে আসার পর মোজতবা পড়াশোনা করেন আলাভি হাই স্কুলে। পরে তিনি ধর্মীয় শিক্ষা নিতে কোম শহরে যান এবং রক্ষণশীল আলেমদের কাছে দীর্ঘ সময় পড়াশোনা করেন। তবে এত বছর ধর্মীয় শিক্ষা গ্রহণ করলেও তিনি আয়াতুল্লাহ পদমর্যাদা অর্জন করতে পারেননি।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

লোহিত সাগরে ফ্রান্সের দুটি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন: প্রেসিডেন্ট মাক্রোঁর ঘোষণা

যুদ্ধের আবহে নতুন অধ্যায়: মোজতবা খামেনি ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা

আপডেট সময় : ০৭:১৯:৪৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬

ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় নিহত সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির পুত্র মোজতবা হোসেইনি খামেনি ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। রবিবার দেশটির ধর্মীয় নেতারা আয়াতুল্লাহ খামেনির দ্বিতীয় পুত্রকে নতুন নেতা হিসেবে ঘোষণা করেন। এর আগে থেকেই পশ্চিমা ও ইসরাইলি গণমাধ্যমে এই আভাস পাওয়া যাচ্ছিল যে ৫৬ বছর বয়সী মোজতবা খামেনিই দেশটির পরবর্তী নেতা হতে পারেন।

গত ৩ মার্চ লন্ডনভিত্তিক ইরানি বিরোধী সংবাদমাধ্যম ‘ইরান ইন্টারন্যাশনাল’ সূত্রের বরাত দিয়ে জানায়, ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা ৮৮ সদস্যের ‘বিশেষজ্ঞ পরিষদ’ প্রয়াত আয়াতুল্লাহ খামেনির স্থলাভিষিক্ত হিসেবে তার দ্বিতীয় পুত্র মোজতবাকে বেছে নিয়েছে। তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমগুলো প্রথমদিকে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। আল-জাজিরা বা মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক বড় কোনো গণমাধ্যমও তখন মোজতবা খামেনির নির্বাচিত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেনি।

দীর্ঘদিন ধরে অনেকের ধারণা ছিল, বাবার পর ইরানের নেতৃত্বে আসতে পারেন মোজতবা খামেনি। খামেনির সমর্থকদের মতে, তাকে সেইভাবেই প্রস্তুত করা হয়েছিল। অন্যদিকে সমালোচকদের দাবি, বড় মাপের ধর্মীয় আলেম না হওয়া সত্ত্বেও তার নেতৃত্বে আসার পেছনে বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী আইআরজিসির ভূমিকা থাকতে পারে। ইরানের প্রভাবশালী এই বাহিনীর মধ্যে মোজতবার যথেষ্ট গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে।

মোজতবা বেশিরভাগ সময়ই জনসম্মুখের বাইরে থেকেছেন। তিনি কখনো কোনো সরকারি দায়িত্বে ছিলেন না এবং খুব কমই প্রকাশ্যে বক্তৃতা দিয়েছেন। তবে ইরানের জটিল ধর্মতান্ত্রিক ক্ষমতাকাঠামোর ভেতরে তার প্রভাব বিস্তৃত বলে মনে করা হয়। ১৯৬৯ সালে মাশহাদ শহরে জন্ম নেওয়া মোজতবা ছয় ভাইবোনের মধ্যে দ্বিতীয়। ছোটবেলাতেই তার বাবা ইরানের শেষ শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভিকে উৎখাতের আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ১৯৭৯ সালের ইসলামিক বিপ্লবের পর খামেনি পরিবার রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসে।

তেহরানে আসার পর মোজতবা পড়াশোনা করেন আলাভি হাই স্কুলে। পরে তিনি ধর্মীয় শিক্ষা নিতে কোম শহরে যান এবং রক্ষণশীল আলেমদের কাছে দীর্ঘ সময় পড়াশোনা করেন। তবে এত বছর ধর্মীয় শিক্ষা গ্রহণ করলেও তিনি আয়াতুল্লাহ পদমর্যাদা অর্জন করতে পারেননি।