ঢাকা ১২:২৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি অস্থিরতা, যুক্তরাজ্যে গ্যাস সঙ্কট চরমে

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে এক নতুন অস্থিরতা তৈরি করেছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই যুক্তরাজ্য এক ভয়াবহ গ্যাস সংকটের মুখোমুখি। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে বর্তমানে যে পরিমাণ প্রাকৃতিক গ্যাস মজুদ রয়েছে, তা দিয়ে দুই দিনেরও কম সময়ের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব।

ন্যাশনাল গ্যাসের তথ্যানুসারে, গত শনিবার যুক্তরাজ্যে গ্যাস মজুদের পরিমাণ ছিল প্রায় ৬ হাজার ৯৯৯ গিগাওয়াট ঘণ্টা (জিডাব্লিউএইচ)। গত বছরের একই সময়ে এই মজুদ ছিল ৯ হাজার ১০৫ গিগাওয়াট ঘণ্টা। যদিও দেশটির গ্যাস সংরক্ষণের সর্বোচ্চ সক্ষমতা প্রায় ১২ দিনের সমান, তবে বর্তমান পরিস্থিতি উদ্বেগজনক।

এই গ্যাস ঘাটতি যুক্তরাজ্যের জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি করেছে, বিশেষ করে যদি মধ্যপ্রাচ্যের সংকট আরও ঘনীভূত হয়। তবে, ন্যাশনাল গ্যাস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে মজুদ কম থাকলেও দেশটি বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে নিয়মিত গ্যাস সরবরাহ পেয়ে থাকে।

প্রতিষ্ঠানটির এক মুখপাত্র দাবি করেছেন যে, বছরের এই সময়ে যুক্তরাজ্যের গ্যাস মজুদ স্বাভাবিক মাত্রায় রয়েছে এবং গত বছরের এই সময়ের সঙ্গে এটি প্রায় সামঞ্জস্যপূর্ণ। তিনি আরও জানান, দেশের গ্যাস সরবরাহের প্রধান উৎস হলো যুক্তরাজ্যের নিজস্ব সমুদ্রাঞ্চল এবং নরওয়ে। এছাড়াও, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি), ইউরোপের সঙ্গে সংযোগকারী পাইপলাইন এবং সংরক্ষিত গ্যাসও সরবরাহ ব্যবস্থার অবিচ্ছেদ্য অংশ।

যুক্তরাজ্যের জ্বালানি নিরাপত্তা ও নেট জিরো বিভাগও এই তথ্য নিশ্চিত করেছে যে, দেশটিতে মাত্র দুই দিনের গ্যাস রয়েছে—এমন দাবি সম্পূর্ণ সত্য নয়। সরকারের মতে, বিভিন্ন উৎস থেকে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত হওয়ায় জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে তারা সম্পূর্ণ আত্মবিশ্বাসী।

এদিকে, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে কিছু গ্যাসবাহী জাহাজ এশিয়ার দিকে যাত্রা শুরু করেছে, যা ইউরোপের জ্বালানি সরবরাহের উপর প্রভাব ফেলছে। তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবারের পর অন্তত দুটি জাহাজ আটলান্টিক মহাসাগর থেকে পথ পরিবর্তন করে এশিয়ার দিকে রওয়ানা দিয়েছে। এর আগের সপ্তাহেও তিনটি জাহাজ একই ধরনের দিক পরিবর্তন করেছিল।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরানে তীব্র বিমান হামলা শুরুর পর থেকেই বিশ্ববাজারে গ্যাসের দাম দ্রুত বাড়তে শুরু করে। এই সময়ে ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয়, যা বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সমুদ্রপথে গ্যাস পরিবহনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ।

অন্যদিকে, ড্রোন হামলার পর কাতার বিশ্বের বৃহত্তম এলএনজি উৎপাদন কেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়। এর ফলে এশিয়ায় এলএনজির দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। যুদ্ধ শুরুর প্রাক্কালে যুক্তরাজ্যে এক মাস পর সরবরাহযোগ্য গ্যাসের দাম প্রতি থার্ম ৭৮.৫ পেন্স ছিল, যা বর্তমানে আরও বৃদ্ধির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

লোহিত সাগরে ফ্রান্সের দুটি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন: প্রেসিডেন্ট মাক্রোঁর ঘোষণা

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি অস্থিরতা, যুক্তরাজ্যে গ্যাস সঙ্কট চরমে

আপডেট সময় : ০৪:১৫:৩৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে এক নতুন অস্থিরতা তৈরি করেছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই যুক্তরাজ্য এক ভয়াবহ গ্যাস সংকটের মুখোমুখি। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে বর্তমানে যে পরিমাণ প্রাকৃতিক গ্যাস মজুদ রয়েছে, তা দিয়ে দুই দিনেরও কম সময়ের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব।

ন্যাশনাল গ্যাসের তথ্যানুসারে, গত শনিবার যুক্তরাজ্যে গ্যাস মজুদের পরিমাণ ছিল প্রায় ৬ হাজার ৯৯৯ গিগাওয়াট ঘণ্টা (জিডাব্লিউএইচ)। গত বছরের একই সময়ে এই মজুদ ছিল ৯ হাজার ১০৫ গিগাওয়াট ঘণ্টা। যদিও দেশটির গ্যাস সংরক্ষণের সর্বোচ্চ সক্ষমতা প্রায় ১২ দিনের সমান, তবে বর্তমান পরিস্থিতি উদ্বেগজনক।

এই গ্যাস ঘাটতি যুক্তরাজ্যের জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি করেছে, বিশেষ করে যদি মধ্যপ্রাচ্যের সংকট আরও ঘনীভূত হয়। তবে, ন্যাশনাল গ্যাস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে মজুদ কম থাকলেও দেশটি বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে নিয়মিত গ্যাস সরবরাহ পেয়ে থাকে।

প্রতিষ্ঠানটির এক মুখপাত্র দাবি করেছেন যে, বছরের এই সময়ে যুক্তরাজ্যের গ্যাস মজুদ স্বাভাবিক মাত্রায় রয়েছে এবং গত বছরের এই সময়ের সঙ্গে এটি প্রায় সামঞ্জস্যপূর্ণ। তিনি আরও জানান, দেশের গ্যাস সরবরাহের প্রধান উৎস হলো যুক্তরাজ্যের নিজস্ব সমুদ্রাঞ্চল এবং নরওয়ে। এছাড়াও, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি), ইউরোপের সঙ্গে সংযোগকারী পাইপলাইন এবং সংরক্ষিত গ্যাসও সরবরাহ ব্যবস্থার অবিচ্ছেদ্য অংশ।

যুক্তরাজ্যের জ্বালানি নিরাপত্তা ও নেট জিরো বিভাগও এই তথ্য নিশ্চিত করেছে যে, দেশটিতে মাত্র দুই দিনের গ্যাস রয়েছে—এমন দাবি সম্পূর্ণ সত্য নয়। সরকারের মতে, বিভিন্ন উৎস থেকে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত হওয়ায় জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে তারা সম্পূর্ণ আত্মবিশ্বাসী।

এদিকে, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে কিছু গ্যাসবাহী জাহাজ এশিয়ার দিকে যাত্রা শুরু করেছে, যা ইউরোপের জ্বালানি সরবরাহের উপর প্রভাব ফেলছে। তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবারের পর অন্তত দুটি জাহাজ আটলান্টিক মহাসাগর থেকে পথ পরিবর্তন করে এশিয়ার দিকে রওয়ানা দিয়েছে। এর আগের সপ্তাহেও তিনটি জাহাজ একই ধরনের দিক পরিবর্তন করেছিল।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরানে তীব্র বিমান হামলা শুরুর পর থেকেই বিশ্ববাজারে গ্যাসের দাম দ্রুত বাড়তে শুরু করে। এই সময়ে ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয়, যা বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সমুদ্রপথে গ্যাস পরিবহনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ।

অন্যদিকে, ড্রোন হামলার পর কাতার বিশ্বের বৃহত্তম এলএনজি উৎপাদন কেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়। এর ফলে এশিয়ায় এলএনজির দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। যুদ্ধ শুরুর প্রাক্কালে যুক্তরাজ্যে এক মাস পর সরবরাহযোগ্য গ্যাসের দাম প্রতি থার্ম ৭৮.৫ পেন্স ছিল, যা বর্তমানে আরও বৃদ্ধির আশঙ্কা করা হচ্ছে।