ঢাকা ০৫:১১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

গণভোটের রায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নে বিএনপির দ্বিধা: জামায়াত আমিরের প্রশ্ন

জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান প্রশ্ন তুলেছেন, গণভোটের রায় অনুযায়ী জুলাই সনদ বাস্তবায়নে বিএনপির আপত্তি কেন? তিনি বলেন, জাতির সঙ্গে দেওয়া অঙ্গীকার যদি বিএনপি শুরুতেই ভঙ্গ করে, তাহলে পাঁচ বছর সেই অঙ্গীকার রক্ষা করবে কীভাবে? এখনো সময় আছে, বিএনপি নিজেদের সংশোধন করে এই গণরায়কে মেনে নিক। কারণ, ৬৯ শতাংশ মানুষ সংস্কারের পক্ষে হ্যাঁ ভোট দিয়েছেন। এই বিপুল সংখ্যক মানুষকে অগ্রাহ্য করা মানে পুরো জুলাইকে অগ্রাহ্য করা। জুলাই না থাকলে ইফতার মাহফিল, সংসদ নির্বাচন, যমুনা ও প্রধান বিরোধীদলের বাসভবন কিছুই থাকবে না।

রবিবার রাজধানীর কাকরাইলে হোটেল রাজমনি ঈশা খাঁয় বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি আয়োজিত এক ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। জামায়াত আমির বিএনপিকে অনুরোধ করে বলেন, যা স্বাক্ষর করেছিলেন, তা মেনে নিন। তাহলে জনগণের আস্থার জায়গাটি টিকে থাকবে। আস্থা না থাকলে জনগণকে আপন পথে হাঁটতে হবে।

তিনি বলেন, অনেক কষ্ট বুকে চেপে রেখে এই নির্বাচনের রায় আপাতত মেনে নেওয়া হয়েছে। অতীতের ধারাবাহিকতায় সঙ্গে সঙ্গে এই নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করা যেত, কিন্তু তার পরিণতি কী হতো, তা বিবেচনায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মানে এই নয় যে, সব অন্যায় মেনে নেওয়া হবে। অন্যায় করা হলেই বাধা হয়ে দাঁড়ানো হবে। জনগণ যাদেরকে জাতীয় সংসদে প্রতিনিধি হিসেবে পাঠাতে চেয়েছে, সেই ভোটের ফলাফল ছিনতাই করা হয়েছে এবং অনেকের অধিকার হরণ করা হয়েছে। আইনিভাবে, রাজপথে এবং সংসদে এর বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়া হবে।

ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, ইরানের সার্বভৌমত্বের ওপর আগ্রাসন আন্তর্জাতিক আইন, মানবাধিকার ও রাষ্ট্রসমূহের পারস্পরিক সম্মানের নীতির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এই ধরনের হামলা শুধু একটি দেশের বিরুদ্ধে নয়, বরং সমগ্র বিশ্বের শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকিস্বরূপ। তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, বিশেষ করে জাতিসংঘসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর প্রতি দ্রুত কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান, যাতে যুদ্ধ পরিস্থিতি প্রশমিত হয় এবং বিশ্ব শান্তি বজায় থাকে। রক্তস্নাত জুলাই বিপ্লবের পর দেশের মানুষ নতুন সরকারের কাছে সহিংসতা নয়, বরং সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যাশা করে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইসরায়েলের ১৩টি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হিজবুল্লাহর ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

গণভোটের রায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নে বিএনপির দ্বিধা: জামায়াত আমিরের প্রশ্ন

আপডেট সময় : ০৯:৫৯:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬

জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান প্রশ্ন তুলেছেন, গণভোটের রায় অনুযায়ী জুলাই সনদ বাস্তবায়নে বিএনপির আপত্তি কেন? তিনি বলেন, জাতির সঙ্গে দেওয়া অঙ্গীকার যদি বিএনপি শুরুতেই ভঙ্গ করে, তাহলে পাঁচ বছর সেই অঙ্গীকার রক্ষা করবে কীভাবে? এখনো সময় আছে, বিএনপি নিজেদের সংশোধন করে এই গণরায়কে মেনে নিক। কারণ, ৬৯ শতাংশ মানুষ সংস্কারের পক্ষে হ্যাঁ ভোট দিয়েছেন। এই বিপুল সংখ্যক মানুষকে অগ্রাহ্য করা মানে পুরো জুলাইকে অগ্রাহ্য করা। জুলাই না থাকলে ইফতার মাহফিল, সংসদ নির্বাচন, যমুনা ও প্রধান বিরোধীদলের বাসভবন কিছুই থাকবে না।

রবিবার রাজধানীর কাকরাইলে হোটেল রাজমনি ঈশা খাঁয় বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি আয়োজিত এক ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। জামায়াত আমির বিএনপিকে অনুরোধ করে বলেন, যা স্বাক্ষর করেছিলেন, তা মেনে নিন। তাহলে জনগণের আস্থার জায়গাটি টিকে থাকবে। আস্থা না থাকলে জনগণকে আপন পথে হাঁটতে হবে।

তিনি বলেন, অনেক কষ্ট বুকে চেপে রেখে এই নির্বাচনের রায় আপাতত মেনে নেওয়া হয়েছে। অতীতের ধারাবাহিকতায় সঙ্গে সঙ্গে এই নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করা যেত, কিন্তু তার পরিণতি কী হতো, তা বিবেচনায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মানে এই নয় যে, সব অন্যায় মেনে নেওয়া হবে। অন্যায় করা হলেই বাধা হয়ে দাঁড়ানো হবে। জনগণ যাদেরকে জাতীয় সংসদে প্রতিনিধি হিসেবে পাঠাতে চেয়েছে, সেই ভোটের ফলাফল ছিনতাই করা হয়েছে এবং অনেকের অধিকার হরণ করা হয়েছে। আইনিভাবে, রাজপথে এবং সংসদে এর বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়া হবে।

ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, ইরানের সার্বভৌমত্বের ওপর আগ্রাসন আন্তর্জাতিক আইন, মানবাধিকার ও রাষ্ট্রসমূহের পারস্পরিক সম্মানের নীতির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এই ধরনের হামলা শুধু একটি দেশের বিরুদ্ধে নয়, বরং সমগ্র বিশ্বের শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকিস্বরূপ। তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, বিশেষ করে জাতিসংঘসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর প্রতি দ্রুত কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান, যাতে যুদ্ধ পরিস্থিতি প্রশমিত হয় এবং বিশ্ব শান্তি বজায় থাকে। রক্তস্নাত জুলাই বিপ্লবের পর দেশের মানুষ নতুন সরকারের কাছে সহিংসতা নয়, বরং সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যাশা করে।