ঢাকা ০১:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ওমরাহ যাত্রীদের জীবনে অনিশ্চয়তা ও চরম ভোগান্তি ডেকে এনেছে

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে, যার ফলে সৌদি আরবে ওমরাহ পালন করতে যাওয়া হাজার হাজার মুসলিম যাত্রী আটকা পড়েছেন। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আকাশপথ অনিরাপদ হয়ে পড়ায় অনেক ফ্লাইট বাতিল হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে করে চরম ভোগান্তির শিকার সাধারণ মানুষ এখন নিজ দেশে ফেরা নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন। অনেকেই দেশে ফেরার বিকল্প পথ খুঁজছেন, আবার কেউ কেউ পরিস্থিতি বিবেচনায় তাদের পূর্বপরিকল্পিত ওমরাহ যাত্রা বাতিল করতে বাধ্য হয়েছেন।

এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ার নাগরিকরা। ইন্দোনেশিয়ার হজ ও ওমরাহ বিষয়ক উপমন্ত্রী দাহনিল আনজার সিমানজুন্তাক জানিয়েছেন, বর্তমানে প্রায় ৫৮,৮৬০ জন ইন্দোনেশীয় হজযাত্রী সৌদি আরবে আটকে পড়েছেন। এই বিপুল সংখ্যক মানুষের আবাসন ও যাতায়াত নিয়ে চরম ভোগান্তি হচ্ছে। ইন্দোনেশিয়া সরকার সৌদি কর্তৃপক্ষ ও বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের সঙ্গে আলোচনা করছে যাতে আটকে পড়া যাত্রীদের হোটেল ভাড়া ও অতিরিক্ত টিকিটের খরচ কমানো যায়। পাশাপাশি, নিরাপত্তার স্বার্থে প্রায় ৬০,০০০ নাগরিককে আগামী এপ্রিল মাস পর্যন্ত ওমরাহ যাত্রা পিছিয়ে দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে দেশটি। ইন্দোনেশিয়া সরকার বিষয়টিকে একটি জরুরি মানবিক ও লজিস্টিক সংকট হিসেবে বিবেচনা করছে।

অন্যদিকে, মালয়েশিয়ার জেদ্দায় নিযুক্ত কনসাল জেনারেল মোহাম্মদ জারাইফ রাজা আব্দুল কাদির জানিয়েছেন, প্রায় ১,৬০০ মালয়েশীয় ওমরাহ যাত্রী সৌদি আরবে আটকে পড়েছেন। তাদের সহায়তার জন্য জেদ্দায় একটি ২৪ ঘণ্টার অপারেশন রুম খোলা হয়েছে। মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্স বিশেষ ফ্লাইটের মাধ্যমে তাদের নাগরিকদের ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে, তবে পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হওয়ায় এই প্রক্রিয়া বেশ জটিল হয়ে পড়েছে। আটকে পড়া হজযাত্রীদের জন্য এটি কেবল একটি ভ্রমণ সমস্যা নয়, বরং এটি মানসিক ও আর্থিক যন্ত্রণার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। জানিরাহ ফারিস নামে একজন ইন্দোনেশীয় হজযাত্রী জানান, তার ফিরতি ফ্লাইট বাতিল করে ১২ মার্চ পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, সবার পক্ষে দীর্ঘদিন হোটেলে থাকার অতিরিক্ত খরচ বহন করা সম্ভব নয়। বাড়িতে সন্তানদের জন্য তার দুশ্চিন্তা বেড়েই চলেছে। যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান থেকে ওমরাহ করতে যাওয়ার কথা ছিল জাভেদ খিজার ও তার পরিবারের। কিন্তু তুরস্ক ও কাতার হয়ে ভ্রমণের ঝুঁকি…

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মার্কিন বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিতে বড় ধস: চার মাসে আয় কমেছে ১১ শতাংশ

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ওমরাহ যাত্রীদের জীবনে অনিশ্চয়তা ও চরম ভোগান্তি ডেকে এনেছে

আপডেট সময় : ০৭:৩৬:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে, যার ফলে সৌদি আরবে ওমরাহ পালন করতে যাওয়া হাজার হাজার মুসলিম যাত্রী আটকা পড়েছেন। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আকাশপথ অনিরাপদ হয়ে পড়ায় অনেক ফ্লাইট বাতিল হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে করে চরম ভোগান্তির শিকার সাধারণ মানুষ এখন নিজ দেশে ফেরা নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন। অনেকেই দেশে ফেরার বিকল্প পথ খুঁজছেন, আবার কেউ কেউ পরিস্থিতি বিবেচনায় তাদের পূর্বপরিকল্পিত ওমরাহ যাত্রা বাতিল করতে বাধ্য হয়েছেন।

এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ার নাগরিকরা। ইন্দোনেশিয়ার হজ ও ওমরাহ বিষয়ক উপমন্ত্রী দাহনিল আনজার সিমানজুন্তাক জানিয়েছেন, বর্তমানে প্রায় ৫৮,৮৬০ জন ইন্দোনেশীয় হজযাত্রী সৌদি আরবে আটকে পড়েছেন। এই বিপুল সংখ্যক মানুষের আবাসন ও যাতায়াত নিয়ে চরম ভোগান্তি হচ্ছে। ইন্দোনেশিয়া সরকার সৌদি কর্তৃপক্ষ ও বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের সঙ্গে আলোচনা করছে যাতে আটকে পড়া যাত্রীদের হোটেল ভাড়া ও অতিরিক্ত টিকিটের খরচ কমানো যায়। পাশাপাশি, নিরাপত্তার স্বার্থে প্রায় ৬০,০০০ নাগরিককে আগামী এপ্রিল মাস পর্যন্ত ওমরাহ যাত্রা পিছিয়ে দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে দেশটি। ইন্দোনেশিয়া সরকার বিষয়টিকে একটি জরুরি মানবিক ও লজিস্টিক সংকট হিসেবে বিবেচনা করছে।

অন্যদিকে, মালয়েশিয়ার জেদ্দায় নিযুক্ত কনসাল জেনারেল মোহাম্মদ জারাইফ রাজা আব্দুল কাদির জানিয়েছেন, প্রায় ১,৬০০ মালয়েশীয় ওমরাহ যাত্রী সৌদি আরবে আটকে পড়েছেন। তাদের সহায়তার জন্য জেদ্দায় একটি ২৪ ঘণ্টার অপারেশন রুম খোলা হয়েছে। মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্স বিশেষ ফ্লাইটের মাধ্যমে তাদের নাগরিকদের ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে, তবে পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হওয়ায় এই প্রক্রিয়া বেশ জটিল হয়ে পড়েছে। আটকে পড়া হজযাত্রীদের জন্য এটি কেবল একটি ভ্রমণ সমস্যা নয়, বরং এটি মানসিক ও আর্থিক যন্ত্রণার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। জানিরাহ ফারিস নামে একজন ইন্দোনেশীয় হজযাত্রী জানান, তার ফিরতি ফ্লাইট বাতিল করে ১২ মার্চ পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, সবার পক্ষে দীর্ঘদিন হোটেলে থাকার অতিরিক্ত খরচ বহন করা সম্ভব নয়। বাড়িতে সন্তানদের জন্য তার দুশ্চিন্তা বেড়েই চলেছে। যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান থেকে ওমরাহ করতে যাওয়ার কথা ছিল জাভেদ খিজার ও তার পরিবারের। কিন্তু তুরস্ক ও কাতার হয়ে ভ্রমণের ঝুঁকি…