ঢাকা ০৬:৩৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

রাজনীতিতে নারীর কণ্ঠস্বর জোরদার করতে ‘জাতীয় নারীশক্তি’র আত্মপ্রকাশ

জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির সহযোগী সংগঠন ‘জাতীয় নারীশক্তি’ আত্মপ্রকাশ করেছে। সংগঠনটির আহ্বায়কের দায়িত্ব পেয়েছেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন, সদস্যসচিব ডা. মাহমুদা আলম মিতু ও মুখ্য সংগঠক নুসরাত তাবাসসুম।

আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নারীশক্তির যাত্রা শুরু হয়। এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাই আন্দোলনে নারীরা বড় অংশীদার ছিলেন। তাদের কণ্ঠস্বর রাজনীতিতে আরও জোরালোভাবে তুলে ধরতে হবে। জাতীয় নারীশক্তি সেই হারিয়ে যাওয়া নারী কণ্ঠগুলোকে আবার সামনে নিয়ে আসার চেষ্টা করবে।

নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাই আন্দোলনের সময় বিপুলসংখ্যক নারী রাজপথে থাকলেও পরবর্তী সময়ে রাজনীতির মাঠে তাদের উপস্থিতি তুলনামূলক কম দেখা গেছে। এর পেছনে সামাজিক বাস্তবতা, পারিবারিক চাপ এবং অনলাইন সাইবার বুলিং বড় কারণ হিসেবে কাজ করেছে। অনেক নারী কর্মী এসব কারণে রাজনীতি ছেড়ে দিতেও বাধ্য হয়েছেন। নারীদের বিরুদ্ধে চলমান সহিংসতা ও সাইবার বুলিং বন্ধে সরকারের প্রতি কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দলমত নির্বিশেষে যেকোনো অপরাধীকে আইনের আওতায় আনতে হবে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, আলাদা একটি প্ল্যাটফর্ম প্রয়োজন, যেখানে নারীরা নিজেদের বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলতে পারবেন এবং সংগঠিত হতে পারবেন। সেই চিন্তা থেকেই জাতীয় নারীশক্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এনসিপির সহযোগী সংগঠন হিসেবে কাজ করলেও জাতীয় নারীশক্তি নারীদের অধিকার, নিরাপত্তা, বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা এবং সাইবার বুলিংসহ বিভিন্ন ইস্যুতে স্বাধীনভাবে কাজ করবে।

নাহিদ ইসলাম বলেন, বিশ্বের ইতিহাসে নারীদের অধিকারের প্রতিটি অর্জন এসেছে আন্দোলন ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে। ভোটাধিকার থেকে শুরু করে অর্থনৈতিক ও সামাজিক অধিকারের প্রশ্নে নারীদের বারবার লড়াই করতে হয়েছে। একইভাবে জাতীয় বিভিন্ন আন্দোলনেও নারীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক জুলাই গণঅভ্যুত্থান—সব আন্দোলনেই নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল। তবে এসব আন্দোলনে নারীরাই অনেক সময় সহিংসতার প্রধান লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

উখিয়ায় সংরক্ষিত বনভূমি দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণের মহোৎসব

রাজনীতিতে নারীর কণ্ঠস্বর জোরদার করতে ‘জাতীয় নারীশক্তি’র আত্মপ্রকাশ

আপডেট সময় : ০৭:৩২:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬

জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির সহযোগী সংগঠন ‘জাতীয় নারীশক্তি’ আত্মপ্রকাশ করেছে। সংগঠনটির আহ্বায়কের দায়িত্ব পেয়েছেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন, সদস্যসচিব ডা. মাহমুদা আলম মিতু ও মুখ্য সংগঠক নুসরাত তাবাসসুম।

আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নারীশক্তির যাত্রা শুরু হয়। এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাই আন্দোলনে নারীরা বড় অংশীদার ছিলেন। তাদের কণ্ঠস্বর রাজনীতিতে আরও জোরালোভাবে তুলে ধরতে হবে। জাতীয় নারীশক্তি সেই হারিয়ে যাওয়া নারী কণ্ঠগুলোকে আবার সামনে নিয়ে আসার চেষ্টা করবে।

নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাই আন্দোলনের সময় বিপুলসংখ্যক নারী রাজপথে থাকলেও পরবর্তী সময়ে রাজনীতির মাঠে তাদের উপস্থিতি তুলনামূলক কম দেখা গেছে। এর পেছনে সামাজিক বাস্তবতা, পারিবারিক চাপ এবং অনলাইন সাইবার বুলিং বড় কারণ হিসেবে কাজ করেছে। অনেক নারী কর্মী এসব কারণে রাজনীতি ছেড়ে দিতেও বাধ্য হয়েছেন। নারীদের বিরুদ্ধে চলমান সহিংসতা ও সাইবার বুলিং বন্ধে সরকারের প্রতি কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দলমত নির্বিশেষে যেকোনো অপরাধীকে আইনের আওতায় আনতে হবে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, আলাদা একটি প্ল্যাটফর্ম প্রয়োজন, যেখানে নারীরা নিজেদের বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলতে পারবেন এবং সংগঠিত হতে পারবেন। সেই চিন্তা থেকেই জাতীয় নারীশক্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এনসিপির সহযোগী সংগঠন হিসেবে কাজ করলেও জাতীয় নারীশক্তি নারীদের অধিকার, নিরাপত্তা, বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা এবং সাইবার বুলিংসহ বিভিন্ন ইস্যুতে স্বাধীনভাবে কাজ করবে।

নাহিদ ইসলাম বলেন, বিশ্বের ইতিহাসে নারীদের অধিকারের প্রতিটি অর্জন এসেছে আন্দোলন ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে। ভোটাধিকার থেকে শুরু করে অর্থনৈতিক ও সামাজিক অধিকারের প্রশ্নে নারীদের বারবার লড়াই করতে হয়েছে। একইভাবে জাতীয় বিভিন্ন আন্দোলনেও নারীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক জুলাই গণঅভ্যুত্থান—সব আন্দোলনেই নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল। তবে এসব আন্দোলনে নারীরাই অনেক সময় সহিংসতার প্রধান লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছেন।