২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাসে রাজধানী ঢাকার বাতাসের মান ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। বিশ্বের বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা আইকিউএয়ার (IQAir)-এর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এই সময়ে ঢাকার এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (AQI) ২৫৩ ছাড়িয়ে যাওয়ায় এটি বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরের তালিকায় শীর্ষস্থান দখল করেছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে এই মাত্রাকে ‘অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যা শিশু, বৃদ্ধ এবং শ্বাসকষ্টের রোগীদের জন্য চরম স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে। এই পরিস্থিতিতে চিকিৎসকরা জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
আইকিউএয়ারের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সকাল সাড়ে ৯টায় ঢাকার এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (AQI) ছিল ২৫৩। এই স্কোর ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ বিভাগের অন্তর্ভুক্ত। এর আগের দিন, ২৬ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৮টায় স্কোর ছিল ২৪৬, যা মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে দূষণের মাত্রা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়। এই ভয়াবহ বায়ুমান পরিস্থিতি জনজীবনে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের দৈনিক বায়ুমান রিপোর্টেও (৬ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত হালনাগাদকৃত) ঢাকার বায়ুমান বিপজ্জনক পর্যায়ে থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে বাতাসে অতিসূক্ষ্ম বস্তুকণা (PM2.5)-এর পরিমাণ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) কর্তৃক নির্ধারিত নিরাপদ মাত্রার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি রেকর্ড করা হচ্ছে। এই দূষিত কণাগুলো মানবদেহে প্রবেশ করে ফুসফুস ও হৃদরোগসহ নানা জটিল স্বাস্থ্য সমস্যার সৃষ্টি করে। শহরের নির্মাণকাজ, যানবাহনের ধোঁয়া এবং শিল্প-কারখানার বর্জ্যকে এই দূষণের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। চলমান এই পরিস্থিতি জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে।
রিপোর্টারের নাম 
























