ঢাকা ০৪:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬

ইবি শিক্ষিকা রুনা হত্যা: ৪৮ ঘণ্টায় সব আসামি গ্রেপ্তারের আল্টিমেটাম, বিচার দাবিতে মানববন্ধন

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের প্রধান ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা হত্যার বিচার এবং মামলার সব আসামিকে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে কুষ্টিয়ায় মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছে নিহতের স্বজন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। শনিবার সকাল ১০টায় কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের সামনে শিক্ষার্থীদের ব্যানারে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে বক্তারা ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে মামলার সব আসামিকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। অন্যথায় আরও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন তারা।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, কর্মস্থলে একজন শিক্ষককে নৃশংসভাবে হত্যা করা পুরো শিক্ষক সমাজের জন্য চরম উদ্বেগজনক। তারা এ হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং প্রধান অভিযুক্ত ফজলুসহ মামলার অন্যান্য আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচার নিশ্চিতের জোর দাবি জানান। একইসঙ্গে দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।

এসময় নিহতের স্বামী ইমতিয়াজ সুলতান, তার তিন শিশু কন্যা ও এক ছেলেসহ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। প্রিয়জন হারানোর বেদনায় স্বজনদের আহাজারিতে কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের সামনের পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে, যা এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারণা করে।

উল্লেখ্য, গত ৪ মার্চ বিকেলে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ বিভাগের প্রধান আসমা সাদিয়া রুনা তার নিজ কক্ষে নির্মমভাবে খুন হন। ওই কক্ষ থেকেই রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের দিনহাজিরার কর্মচারী ফজলুর রহমানকে। গুরুতর আহত অবস্থায় দুজনকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আসমা সাদিয়া রুনাকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত ফজলু বর্তমানে হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন।

এ ঘটনায় নিহতের স্বামী ইমতিয়াজ সুলতান বাদী হয়ে কর্মচারী ফজলুর রহমানকে প্রধান আসামি করে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় সমাজকল্যাণ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শ্যাম সুন্দর সরকার ও সহকারী অধ্যাপক হাবিবুর রহমান এবং সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার বিশ্বজিৎ কুমার বিশ্বাসকেও আসামি করা হয়েছে। পুলিশ প্রধান আসামি ফজলুর রহমানকে গ্রেপ্তার দেখালেও, মামলার বাকি আসামিদের এখনো আইনের আওতায় আনতে পারেনি। এই বিষয়টি মানববন্ধনে ক্ষোভের জন্ম দেয় এবং দ্রুত তাদের গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইসলামী ব্যাংকের ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা সম্মেলন: সুশাসন ও গ্রাহকের আস্থা নিশ্চিতে গুরুত্বারোপ

ইবি শিক্ষিকা রুনা হত্যা: ৪৮ ঘণ্টায় সব আসামি গ্রেপ্তারের আল্টিমেটাম, বিচার দাবিতে মানববন্ধন

আপডেট সময় : ০২:০৮:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের প্রধান ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা হত্যার বিচার এবং মামলার সব আসামিকে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে কুষ্টিয়ায় মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছে নিহতের স্বজন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। শনিবার সকাল ১০টায় কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের সামনে শিক্ষার্থীদের ব্যানারে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে বক্তারা ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে মামলার সব আসামিকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। অন্যথায় আরও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন তারা।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, কর্মস্থলে একজন শিক্ষককে নৃশংসভাবে হত্যা করা পুরো শিক্ষক সমাজের জন্য চরম উদ্বেগজনক। তারা এ হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং প্রধান অভিযুক্ত ফজলুসহ মামলার অন্যান্য আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচার নিশ্চিতের জোর দাবি জানান। একইসঙ্গে দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।

এসময় নিহতের স্বামী ইমতিয়াজ সুলতান, তার তিন শিশু কন্যা ও এক ছেলেসহ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। প্রিয়জন হারানোর বেদনায় স্বজনদের আহাজারিতে কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের সামনের পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে, যা এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারণা করে।

উল্লেখ্য, গত ৪ মার্চ বিকেলে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ বিভাগের প্রধান আসমা সাদিয়া রুনা তার নিজ কক্ষে নির্মমভাবে খুন হন। ওই কক্ষ থেকেই রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের দিনহাজিরার কর্মচারী ফজলুর রহমানকে। গুরুতর আহত অবস্থায় দুজনকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আসমা সাদিয়া রুনাকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত ফজলু বর্তমানে হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন।

এ ঘটনায় নিহতের স্বামী ইমতিয়াজ সুলতান বাদী হয়ে কর্মচারী ফজলুর রহমানকে প্রধান আসামি করে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় সমাজকল্যাণ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শ্যাম সুন্দর সরকার ও সহকারী অধ্যাপক হাবিবুর রহমান এবং সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার বিশ্বজিৎ কুমার বিশ্বাসকেও আসামি করা হয়েছে। পুলিশ প্রধান আসামি ফজলুর রহমানকে গ্রেপ্তার দেখালেও, মামলার বাকি আসামিদের এখনো আইনের আওতায় আনতে পারেনি। এই বিষয়টি মানববন্ধনে ক্ষোভের জন্ম দেয় এবং দ্রুত তাদের গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়।