ঢাকা ১২:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬

বুড়িগঙ্গা থেকে মাটি চুরির হিড়িক, হুমকিতে নদীপারের বাসিন্দারা

ঢাকার দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জের কোন্ডা ইউনিয়নের বোটঘাট এলাকায় বুড়িগঙ্গা নদী থেকে গ্র্যাব ড্রেজার দিয়ে প্রকাশ্যে মাটি উত্তোলন করছে দুর্বৃত্তরা। এতে হুমকির মুখে রয়েছে নদীপারের মানুষগুলো। স্থানীয়দের আশঙ্কা, মাটি উত্তোলনের কারণে বর্ষা মৌসুমে নদীভাঙন বাড়ে। অথচ এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের কোনো তৎপরতা লক্ষ করা যায়নি। 

সরেজমিনে দেখা যায়, কোন্ডা ইউনিয়নের জাজিরা বোটঘাট এলাকায় বুড়িগঙ্গা নদী থেকে মাটি চুরির হিড়িক পড়েছে। সারি সারি ট্রলার দিয়ে মাটি চুরি করে বিক্রি করা হচ্ছে ইটভাটায়। প্রতি ট্রলার মাটি ৫ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এভাবে গ্র্যাব ড্রেজারের মাধ্যমে প্রতিদিন লাখ টাকার মাটি বিক্রি করছে একাধিক সংঘবদ্ধ চক্র।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, বুড়িগঙ্গা নদীর জাজিরা এলাকার বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে অবৈধভাবে অন্তত ১০টি গ্র্যাব ড্রেজার বসিয়ে মাটি উত্তোলন করছে একাধিক সংঘবদ্ধ চক্র। তারা প্রতিদিন অর্ধশতাধিক ট্রলারের মাধ্যমে সকাল থেকে রাত পযন্ত এ মাটি উত্তোলন করে।

তারা জানান, স্থানীয় প্রভাবশালী সৌরভ, রনি, এসি আলী, আতাবুর, শাহজালাল, সেলিম রেজাসহ অনেকে দীর্ঘদিন ধরে নদী থেকে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলন করে বিক্রি করে আসছেন। তাদের বিরুদ্ধে কিছু বললে এলাকাবাসীকে হুমকি দেওয়া হয়।

নদীপারের একাধিক বাসিন্দা বলেন, আমরা গরিব মানুষ। ভিটা ছাড়া কোনো জমিজমা নেই। যেভাবে মাটি তোলা হচ্ছে, তাতে বর্ষা মৌসুমে নদীভাঙন বাড়বে। ক্ষতিগ্রস্ত হবে নদীপারের মানুষ।

জাজিরা এলাকার রফিক বলেন, মেশিন দিয়ে অবৈধভাবে নদীর মাটি উত্তোলন করে বিক্রি করছেন স্থানীয় প্রভাবশালীরা। তারা নদী থেকে মাটি চুরি করে ইটভাটায় বিক্রি করছেন। তারা কাউকে তোয়াক্কা করছেন না। প্রশাসন দেখেও না দেখার ভান করছে।

তিনি আরো বলেন, প্রশাসন কী কারণে তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না, তা আমার বোধগম্য হয় না। দ্রুত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

স্থানীয় কৃষক রমিজ উদ্দিন বলেন, ইটভাটার মালিক ও সংঘবদ্ধ চক্র প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ তাদের বিরুদ্ধে কিছু বলার সাহস পায় না। এভাবে মাটি কেটে নেওয়ায় আশপাশের ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সেখানে নদীতীর ভাঙনের আশঙ্কাও রয়েছে।

এ বিষয়ে দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জ থানার ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, বুড়িগঙ্গা নদী থেকে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলনকারীদের ছাড় দেওয়া হবে না। অবৈধ মাটি উত্তোলনকারীদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উমর ফারুক বলেন, অবৈধভাবে মাটি কাটার বিরুদ্ধে আমরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি। কাউকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। যারা মাটি উত্তোলন করছে, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বুড়িগঙ্গা থেকে মাটি চুরির হিড়িক, হুমকিতে নদীপারের বাসিন্দারা

আপডেট সময় : ১০:০৯:৫৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬

ঢাকার দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জের কোন্ডা ইউনিয়নের বোটঘাট এলাকায় বুড়িগঙ্গা নদী থেকে গ্র্যাব ড্রেজার দিয়ে প্রকাশ্যে মাটি উত্তোলন করছে দুর্বৃত্তরা। এতে হুমকির মুখে রয়েছে নদীপারের মানুষগুলো। স্থানীয়দের আশঙ্কা, মাটি উত্তোলনের কারণে বর্ষা মৌসুমে নদীভাঙন বাড়ে। অথচ এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের কোনো তৎপরতা লক্ষ করা যায়নি। 

সরেজমিনে দেখা যায়, কোন্ডা ইউনিয়নের জাজিরা বোটঘাট এলাকায় বুড়িগঙ্গা নদী থেকে মাটি চুরির হিড়িক পড়েছে। সারি সারি ট্রলার দিয়ে মাটি চুরি করে বিক্রি করা হচ্ছে ইটভাটায়। প্রতি ট্রলার মাটি ৫ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এভাবে গ্র্যাব ড্রেজারের মাধ্যমে প্রতিদিন লাখ টাকার মাটি বিক্রি করছে একাধিক সংঘবদ্ধ চক্র।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, বুড়িগঙ্গা নদীর জাজিরা এলাকার বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে অবৈধভাবে অন্তত ১০টি গ্র্যাব ড্রেজার বসিয়ে মাটি উত্তোলন করছে একাধিক সংঘবদ্ধ চক্র। তারা প্রতিদিন অর্ধশতাধিক ট্রলারের মাধ্যমে সকাল থেকে রাত পযন্ত এ মাটি উত্তোলন করে।

তারা জানান, স্থানীয় প্রভাবশালী সৌরভ, রনি, এসি আলী, আতাবুর, শাহজালাল, সেলিম রেজাসহ অনেকে দীর্ঘদিন ধরে নদী থেকে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলন করে বিক্রি করে আসছেন। তাদের বিরুদ্ধে কিছু বললে এলাকাবাসীকে হুমকি দেওয়া হয়।

নদীপারের একাধিক বাসিন্দা বলেন, আমরা গরিব মানুষ। ভিটা ছাড়া কোনো জমিজমা নেই। যেভাবে মাটি তোলা হচ্ছে, তাতে বর্ষা মৌসুমে নদীভাঙন বাড়বে। ক্ষতিগ্রস্ত হবে নদীপারের মানুষ।

জাজিরা এলাকার রফিক বলেন, মেশিন দিয়ে অবৈধভাবে নদীর মাটি উত্তোলন করে বিক্রি করছেন স্থানীয় প্রভাবশালীরা। তারা নদী থেকে মাটি চুরি করে ইটভাটায় বিক্রি করছেন। তারা কাউকে তোয়াক্কা করছেন না। প্রশাসন দেখেও না দেখার ভান করছে।

তিনি আরো বলেন, প্রশাসন কী কারণে তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না, তা আমার বোধগম্য হয় না। দ্রুত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

স্থানীয় কৃষক রমিজ উদ্দিন বলেন, ইটভাটার মালিক ও সংঘবদ্ধ চক্র প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ তাদের বিরুদ্ধে কিছু বলার সাহস পায় না। এভাবে মাটি কেটে নেওয়ায় আশপাশের ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সেখানে নদীতীর ভাঙনের আশঙ্কাও রয়েছে।

এ বিষয়ে দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জ থানার ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, বুড়িগঙ্গা নদী থেকে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলনকারীদের ছাড় দেওয়া হবে না। অবৈধ মাটি উত্তোলনকারীদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উমর ফারুক বলেন, অবৈধভাবে মাটি কাটার বিরুদ্ধে আমরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি। কাউকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। যারা মাটি উত্তোলন করছে, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।