ঢাকা ১২:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬

ছুটির দিনে ক্রেতামুখর মার্কেট, শপিংমল

ঈদ কেনাকাটায় ক্রেতা-বিক্রেতারা এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন। সেই ব্যস্ততা ছুটির দিনে যেন দ্বিগুণ-তিনগুণ বেড়ে যায়। গতকাল শুক্রবার ছুটির দিনে সরেজমিন রাজধানীর পান্থপথের বসুন্ধরা শপিং মলসহ বিভিন্ন মার্কেট ও বিপণিবিতানগুলো ঘুরে এমনই পরিস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। ঈদকে ঘিরে নামি-দামি মার্কেট, শপিংমল থেকে শুরু করে ফুটপাত পর্যন্ত সবই যেন এক রঙিন মেলায় পরিণত হয়েছে।

বসুন্ধরা শপিং মলে কেনাকাটা করতে আসা রুনা ইকবাল বলেন, ঈদের আগে ভিড় আরো বাড়বে, তাই আগেই কেনাকাটা সেরে ফেলতে চাইছি। দেরিতে আসলে মানুষের ভিড়ে কেনাকাটা করা কঠিন হয়ে যাবে। বসুন্ধরা সিটি শপিংমলে কেনাকাটা করতে আসা বেশ কয়েকজন ক্রেতা জানালেন, এখানে পরিবার নিয়ে নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যে কেনাকাটা করা যায়। তাছাড়া জামা, শাড়ি, জুতা থেকে শুরু করে সব ধরনের পণ্য এখানে পাওয়া যায়। তাই বসুন্ধরা সিটি শপিংমল ক্রেতাদের কেনাকাটায় চাহিদার শীর্ষে রয়েছে।

চন্দ্রিমা সুপার মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে, নারীদের থ্রিপিস বিক্রি হচ্ছে এক হাজার ২০০ টাকা থেকে শুরু করে চার হাজার টাকার মধ্যে। দেশীয় কটন ও লনের চাহিদা বেশি। জমকালো কাজের পোশাকের দাম তুলনামূলক বেশি। শাড়ি মিলছে এক হাজার ৫০০ টাকা থেকে শুরু করে ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত।

তবে মাঝামাঝি দামের কাপড়ের চাহিদা বেশি বলে জানিয়েছেন দোকানিরা। এ ছাড়া, পুরুষদের পাঞ্জাবি বিক্রি হচ্ছে এক হাজার টাকা থেকে তিন হাজার ৫০০ টাকার মধ্যে। শিশুদের পোশাকের দামও কিছুটা বেড়েছে বলে জানিয়েছেন ক্রেতারা। বাচ্চাদের ফ্রক, পাঞ্জাবি-পায়জামা সেট ৮০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। মার্কেটের দোকানি দীন ইসলাম বলেন, বিক্রি মাত্র শুরু হচ্ছে। এখনো পুরোদমে শুরু হয়নি। কয়েকদিনের মধ্যেই বিক্রি আরো বাড়বে আশা করছি।

নিউমার্কেট রহমান এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী রহমান আব্বাস আমার দেশকে বলেন, ফেন্সি কাপড়, লেহেঙ্গা কাপড় এগুলোর গজ ৫০০ থেকে দেড় হাজার টাকা পর্যন্ত রয়েছে। পাঞ্জাবির মধ্যে চিকেন কারি প্রতি গজ ৪০০ টাকা ও সিকোয়েন্স পাঞ্জাবি প্রতি গজ ৩৫০ টাকা করে দরে বিক্রি হচ্ছে। নারীদের জামা ও মেক্সির জন্য লিনেন কাপড়ের গজ বিক্রি হচ্ছে ৯৮ থেকে ১০০ টাকায়। চায়না কাপড় বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ১৭০ টাকায়। নারীদের শাড়ির বাজারও জমজমাট। বিশেষ করে জামদানি ও কাতান শাড়ির চাহিদা বেশি। বি প্লাসের শাড়ি পাওয়া যাচ্ছে ৮৫০ থেকে আড়াই হাজার টাকা পর্যন্ত দামে। এছাড়া পাইকারি বাজারে ৫০০ থেকে শুরু করে চার হাজার টাকার মধ্যে শাড়ি রয়েছে বলে জানালেন তিনি। দেশি কাপড়ের থ্রিপিস ৫৯০ থেকে তিন হাজার ২০০ টাকার মধ্যে রয়েছে। এছাড়া ভারতীয় ও পাকিস্তানি থ্রিপিস রয়েছে আড়াই থেকে শুরু করে ছয় হাজার টাকা পর্যন্ত। তবে ভারতীয় থ্রিপিস মাঝারি ধরনেরগুলো পাওয়া যাচ্ছে ১ হাজার ২০০ থেকে দুই হাজার টাকায়।

নিউমার্কেটের পোশাক বিক্রেতা সিদ্দিকুর জানান, এ বছর নতুন স্টাইলের জামা এসেছে। বিশেষ করে শিশু ও তরুণদের জন্য টি-শার্ট, জিন্স ও পাঞ্জাবির চাহিদা বেশি। তবে দাম কিছুটা বেড়েছে। তিনি বলেন, পাইকাররা আমাদের কাছ থেকে এখনই বেশি দাম রাখছে।

এদিকে তুলনামূলকভাবে কম দামে পছন্দের পণ্য পাওয়ার আশায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের প্রধান ভরসা হয়ে উঠেছে এই ফুটপাতের বাজার। ভ্যানে সাজানো শার্ট-প্যান্ট, শিশুদের ফ্রক, থ্রিপিস, টি-শার্ট-সবকিছুতেই ঈদের ছোঁয়া। ফুটপাত দিয়ে হাঁটার মতো জায়গা নেই। কেউ দাঁড়িয়ে দরদাম করছেন, কেউ পছন্দের কাপড় হাতে নিয়ে খুঁটিয়ে দেখছেন সেলাই। ক্রেতাদের ভিড় ঠেলে সামনের দিকে এগোতে হয়। বড় বড় শপিং মলের মতো ফুটপাতেও ভিড় এখন বেশি। কারণ একটাই-দাম তুলনামূলক কম, আর দরদামের সুযোগ আছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ছুটির দিনে ক্রেতামুখর মার্কেট, শপিংমল

আপডেট সময় : ১০:০৭:০০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬

ঈদ কেনাকাটায় ক্রেতা-বিক্রেতারা এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন। সেই ব্যস্ততা ছুটির দিনে যেন দ্বিগুণ-তিনগুণ বেড়ে যায়। গতকাল শুক্রবার ছুটির দিনে সরেজমিন রাজধানীর পান্থপথের বসুন্ধরা শপিং মলসহ বিভিন্ন মার্কেট ও বিপণিবিতানগুলো ঘুরে এমনই পরিস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। ঈদকে ঘিরে নামি-দামি মার্কেট, শপিংমল থেকে শুরু করে ফুটপাত পর্যন্ত সবই যেন এক রঙিন মেলায় পরিণত হয়েছে।

বসুন্ধরা শপিং মলে কেনাকাটা করতে আসা রুনা ইকবাল বলেন, ঈদের আগে ভিড় আরো বাড়বে, তাই আগেই কেনাকাটা সেরে ফেলতে চাইছি। দেরিতে আসলে মানুষের ভিড়ে কেনাকাটা করা কঠিন হয়ে যাবে। বসুন্ধরা সিটি শপিংমলে কেনাকাটা করতে আসা বেশ কয়েকজন ক্রেতা জানালেন, এখানে পরিবার নিয়ে নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যে কেনাকাটা করা যায়। তাছাড়া জামা, শাড়ি, জুতা থেকে শুরু করে সব ধরনের পণ্য এখানে পাওয়া যায়। তাই বসুন্ধরা সিটি শপিংমল ক্রেতাদের কেনাকাটায় চাহিদার শীর্ষে রয়েছে।

চন্দ্রিমা সুপার মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে, নারীদের থ্রিপিস বিক্রি হচ্ছে এক হাজার ২০০ টাকা থেকে শুরু করে চার হাজার টাকার মধ্যে। দেশীয় কটন ও লনের চাহিদা বেশি। জমকালো কাজের পোশাকের দাম তুলনামূলক বেশি। শাড়ি মিলছে এক হাজার ৫০০ টাকা থেকে শুরু করে ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত।

তবে মাঝামাঝি দামের কাপড়ের চাহিদা বেশি বলে জানিয়েছেন দোকানিরা। এ ছাড়া, পুরুষদের পাঞ্জাবি বিক্রি হচ্ছে এক হাজার টাকা থেকে তিন হাজার ৫০০ টাকার মধ্যে। শিশুদের পোশাকের দামও কিছুটা বেড়েছে বলে জানিয়েছেন ক্রেতারা। বাচ্চাদের ফ্রক, পাঞ্জাবি-পায়জামা সেট ৮০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। মার্কেটের দোকানি দীন ইসলাম বলেন, বিক্রি মাত্র শুরু হচ্ছে। এখনো পুরোদমে শুরু হয়নি। কয়েকদিনের মধ্যেই বিক্রি আরো বাড়বে আশা করছি।

নিউমার্কেট রহমান এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী রহমান আব্বাস আমার দেশকে বলেন, ফেন্সি কাপড়, লেহেঙ্গা কাপড় এগুলোর গজ ৫০০ থেকে দেড় হাজার টাকা পর্যন্ত রয়েছে। পাঞ্জাবির মধ্যে চিকেন কারি প্রতি গজ ৪০০ টাকা ও সিকোয়েন্স পাঞ্জাবি প্রতি গজ ৩৫০ টাকা করে দরে বিক্রি হচ্ছে। নারীদের জামা ও মেক্সির জন্য লিনেন কাপড়ের গজ বিক্রি হচ্ছে ৯৮ থেকে ১০০ টাকায়। চায়না কাপড় বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ১৭০ টাকায়। নারীদের শাড়ির বাজারও জমজমাট। বিশেষ করে জামদানি ও কাতান শাড়ির চাহিদা বেশি। বি প্লাসের শাড়ি পাওয়া যাচ্ছে ৮৫০ থেকে আড়াই হাজার টাকা পর্যন্ত দামে। এছাড়া পাইকারি বাজারে ৫০০ থেকে শুরু করে চার হাজার টাকার মধ্যে শাড়ি রয়েছে বলে জানালেন তিনি। দেশি কাপড়ের থ্রিপিস ৫৯০ থেকে তিন হাজার ২০০ টাকার মধ্যে রয়েছে। এছাড়া ভারতীয় ও পাকিস্তানি থ্রিপিস রয়েছে আড়াই থেকে শুরু করে ছয় হাজার টাকা পর্যন্ত। তবে ভারতীয় থ্রিপিস মাঝারি ধরনেরগুলো পাওয়া যাচ্ছে ১ হাজার ২০০ থেকে দুই হাজার টাকায়।

নিউমার্কেটের পোশাক বিক্রেতা সিদ্দিকুর জানান, এ বছর নতুন স্টাইলের জামা এসেছে। বিশেষ করে শিশু ও তরুণদের জন্য টি-শার্ট, জিন্স ও পাঞ্জাবির চাহিদা বেশি। তবে দাম কিছুটা বেড়েছে। তিনি বলেন, পাইকাররা আমাদের কাছ থেকে এখনই বেশি দাম রাখছে।

এদিকে তুলনামূলকভাবে কম দামে পছন্দের পণ্য পাওয়ার আশায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের প্রধান ভরসা হয়ে উঠেছে এই ফুটপাতের বাজার। ভ্যানে সাজানো শার্ট-প্যান্ট, শিশুদের ফ্রক, থ্রিপিস, টি-শার্ট-সবকিছুতেই ঈদের ছোঁয়া। ফুটপাত দিয়ে হাঁটার মতো জায়গা নেই। কেউ দাঁড়িয়ে দরদাম করছেন, কেউ পছন্দের কাপড় হাতে নিয়ে খুঁটিয়ে দেখছেন সেলাই। ক্রেতাদের ভিড় ঠেলে সামনের দিকে এগোতে হয়। বড় বড় শপিং মলের মতো ফুটপাতেও ভিড় এখন বেশি। কারণ একটাই-দাম তুলনামূলক কম, আর দরদামের সুযোগ আছে।