দীর্ঘদিনের ছায়া যুদ্ধ ছাপিয়ে এবার মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ইসরাইলি লক্ষ্যবস্তু ও কৌশলগত স্বার্থে সরাসরি ও পরোক্ষ আঘাত হানতে শুরু করেছে ইরান। তেহরানের এই নতুন রণকৌশল পুরো অঞ্চলের ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণকে এক অস্থির পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিয়েছে। ইসরাইলি আগ্রাসনের পাল্টা জবাব হিসেবে ইরান এই পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
সাম্প্রতিক ঘটনাবলীতে দেখা যাচ্ছে, ইরান কেবল মৌখিক হুমকির মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে তার মিত্র শক্তিগুলোকে কাজে লাগিয়ে লেবানন, সিরিয়া, ইরাক ও ইয়েমেন সীমান্ত দিয়ে ইসরাইলের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচল ব্যাহত করা থেকে শুরু করে ইসরাইলের সামরিক ও গোয়েন্দা স্থাপনা লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা—সবই এখন ইরানের বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে ইসরাইলের অর্থনৈতিক করিডোর এবং স্পর্শকাতর সামরিক এলাকাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করায় তেল আবিবের নিরাপত্তা ব্যবস্থা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, ইরান তার ‘প্রতিরোধের অক্ষ’ (Axis of Resistance) নীতিকে এখন পূর্ণমাত্রায় সক্রিয় করেছে। এর মাধ্যমে তারা ইসরাইলকে চতুর্মুখী যুদ্ধের দিকে ধাবিত করার কৌশল নিয়েছে। একদিকে হিজবুল্লাহর রকেট হামলা, অন্যদিকে হুথি বিদ্রোহীদের সমুদ্রপথের অবরোধ এবং ইরাক-সিরিয়া ভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা ইসরাইলকে এক নজিরবিহীন সংকটে ফেলেছে। তেহরানের এই সাঁড়াশি আক্রমণের ফলে মধ্যপ্রাচ্যে পশ্চিমা দেশগুলোর প্রভাবও হুমকির মুখে পড়েছে।
উদ্ভূত এই পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা প্রশমনে বিশ্বশক্তিগুলো কূটনৈতিক তৎপরতা চালালেও মাঠপর্যায়ে সংঘাত থামার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। বরং ইরানের এই সক্রিয় অবস্থান পুরো অঞ্চলকে একটি বড় ধরনের আঞ্চলিক যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। এই সংঘাতের প্রভাব কেবল সামরিক খাতেই সীমাবদ্ধ থাকছে না, বরং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজার এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। সংঘাতের এই নতুন মাত্রা আগামী দিনে মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্র ও ক্ষমতার ভারসাম্যে কী পরিবর্তন আনে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।
রিপোর্টারের নাম 
























