ঢাকা ০৫:২৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬

জ্বালানি সংকট ও গুজব রোধে বিপিসির কঠোর পদক্ষেপ: তেল উত্তোলনে নতুন সীমা নির্ধারণ

বিশ্ববাজারে অস্থিরতা এবং জ্বালানি নিয়ে জনমনে তৈরি হওয়া বিভ্রান্তি দূর করতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। সারা দেশের ফিলিং স্টেশনগুলো এখন থেকে ডিপো থেকে ঠিক কী পরিমাণ জ্বালানি সংগ্রহ করতে পারবে, তা সুনির্দিষ্ট করে দিয়েছে সংস্থাটি। শুক্রবার (৬ মার্চ) এক বিশেষ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই নতুন নির্দেশনা জারি করা হয়।

বিপিসি জানায়, মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহে এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের আমদানিনির্ভর জ্বালানি খাতে। বর্তমানে দেশের মোট চাহিদার প্রায় ৯৫ শতাংশ তেল বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। বৈশ্বিক এই সংকটের কারণে আমদানির স্বাভাবিক প্রক্রিয়া মাঝেমধ্যে বাধাগ্রস্ত বা বিলম্বিত হচ্ছে।

সংস্থাটি আরও উল্লেখ করেছে যে, সম্প্রতি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জ্বালানির মজুত পরিস্থিতি নিয়ে কিছু নেতিবাচক ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পড়েছে। এর ফলে সাধারণ গ্রাহক এবং ডিলারদের মধ্যে প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ ও মজুত করার এক ধরনের প্রবণতা দেখা দিয়েছে, যা বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং জনমনে আতঙ্ক দূর করতেই বিপিসি ফিলিং স্টেশনগুলোর জন্য জ্বালানি সংগ্রহের পরিমাণ নির্ধারণ করে দিয়েছে।

বিপিসির এই নতুন নির্দেশনার লক্ষ্য হলো তেলের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করা এবং অহেতুক মজুতদারী রোধ করে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রাকে সচল রাখা। সরকারের পক্ষ থেকে গ্রাহকদের আতঙ্কিত না হয়ে স্বাভাবিক মাত্রায় জ্বালানি ব্যবহারের আহ্বান জানানো হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দোয়ারাবাজারে কালভার্টের মুখ বন্ধ করে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ, এলাকাবাসীর মানববন্ধন

জ্বালানি সংকট ও গুজব রোধে বিপিসির কঠোর পদক্ষেপ: তেল উত্তোলনে নতুন সীমা নির্ধারণ

আপডেট সময় : ১১:১৮:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ মার্চ ২০২৬

বিশ্ববাজারে অস্থিরতা এবং জ্বালানি নিয়ে জনমনে তৈরি হওয়া বিভ্রান্তি দূর করতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। সারা দেশের ফিলিং স্টেশনগুলো এখন থেকে ডিপো থেকে ঠিক কী পরিমাণ জ্বালানি সংগ্রহ করতে পারবে, তা সুনির্দিষ্ট করে দিয়েছে সংস্থাটি। শুক্রবার (৬ মার্চ) এক বিশেষ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই নতুন নির্দেশনা জারি করা হয়।

বিপিসি জানায়, মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহে এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের আমদানিনির্ভর জ্বালানি খাতে। বর্তমানে দেশের মোট চাহিদার প্রায় ৯৫ শতাংশ তেল বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। বৈশ্বিক এই সংকটের কারণে আমদানির স্বাভাবিক প্রক্রিয়া মাঝেমধ্যে বাধাগ্রস্ত বা বিলম্বিত হচ্ছে।

সংস্থাটি আরও উল্লেখ করেছে যে, সম্প্রতি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জ্বালানির মজুত পরিস্থিতি নিয়ে কিছু নেতিবাচক ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পড়েছে। এর ফলে সাধারণ গ্রাহক এবং ডিলারদের মধ্যে প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ ও মজুত করার এক ধরনের প্রবণতা দেখা দিয়েছে, যা বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং জনমনে আতঙ্ক দূর করতেই বিপিসি ফিলিং স্টেশনগুলোর জন্য জ্বালানি সংগ্রহের পরিমাণ নির্ধারণ করে দিয়েছে।

বিপিসির এই নতুন নির্দেশনার লক্ষ্য হলো তেলের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করা এবং অহেতুক মজুতদারী রোধ করে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রাকে সচল রাখা। সরকারের পক্ষ থেকে গ্রাহকদের আতঙ্কিত না হয়ে স্বাভাবিক মাত্রায় জ্বালানি ব্যবহারের আহ্বান জানানো হয়েছে।