ঢাকা ০৩:৫৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬

গুজবে কান না দিতে আহ্বান, জ্বালানি তেল ক্রয়ে সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করলো বিপিসি

দেশে জ্বালানি তেলের মজুত ও সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি)। তবে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে ছড়ানো গুজব বা নেতিবাচক প্রচারে প্রভাবিত হয়ে অপ্রয়োজনীয়ভাবে অতিরিক্ত তেল না কেনার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি। একই সঙ্গে, অনাকাঙ্ক্ষিত চাহিদা বৃদ্ধি রোধে যানবাহনে জ্বালানি তেল ক্রয়ের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে বিপিসি।

সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জ্বালানি তেলের মজুত নিয়ে নেতিবাচক তথ্য ছড়িয়ে পড়ায় কিছু এলাকায় অপ্রত্যাশিতভাবে চাহিদা বেড়েছে। এর ফলে কিছু ডিপো ও ফিলিং স্টেশনে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি তেল সংগ্রহের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে বলে বিপিসি উল্লেখ করেছে। সংস্থাটি আরও জানায়, দেশের মোট ব্যবহৃত জ্বালানি তেলের প্রায় ৯৫ শতাংশ বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে আমদানি ব্যবস্থাপনায় কিছু চ্যালেঞ্জ থাকলেও দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে এবং অনাকাঙ্ক্ষিত চাপ কমাতে বিপিসি ফিলিং স্টেশন থেকে যানবাহনে জ্বালানি তেল বিক্রির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট পরিমাণ মেনে চলার নির্দেশনা জারি করেছে। এই নির্দেশনা অনুযায়ী:

মোটরসাইকেল সর্বোচ্চ দুই লিটার অকটেন বা পেট্রোল নিতে পারবে।
ছোট প্রাইভেটকার সর্বোচ্চ ১০ লিটার অকটেন বা পেট্রোল নিতে পারবে।
প্রাইভেটকার, জিপ ও মাইক্রোবাসের ক্ষেত্রে প্রতি ট্রিপে ২০ থেকে ২৫ লিটার পর্যন্ত অকটেন বা পেট্রোল নেওয়া যাবে।
মিনিবাস ও লোকাল বাস ৭০ থেকে ৮০ লিটার পর্যন্ত ডিজেল সংগ্রহ করতে পারবে।
দূরপাল্লার বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ও কনটেইনার ট্রাকের জন্য প্রতি ট্রিপে ১০০ থেকে ১২০ লিটার পর্যন্ত ডিজেল সরবরাহ করা যাবে।

জ্বালানি তেল সরবরাহের ক্ষেত্রে কিছু শর্তও আরোপ করেছে বিপিসি। নির্দেশনা অনুযায়ী, তেল কেনার সময় ভোক্তাকে তেলের ধরন, পরিমাণ ও মূল্য উল্লেখ করে ক্রয় রসিদ সংগ্রহ করতে হবে। একই স্টেশন থেকে পুনরায় তেল নিতে হলে আগের ক্রয়ের রসিদ বা তার অনুলিপি দেখাতে হবে। ডিলাররা বিপিসির নির্দেশনা অনুযায়ী রসিদ যাচাই করে তেল সরবরাহ করবেন।

পাশাপাশি, ফিলিং স্টেশনগুলোকে তাদের জ্বালানি তেলের মজুত ও বিক্রির তথ্য নিয়মিতভাবে সংশ্লিষ্ট ডিপোতে জানাতে হবে। তেল বিপণন কোম্পানিগুলোও ডিলারদের কাছে সরবরাহ দেওয়ার আগে বর্তমান মজুত ও বিক্রির তথ্য পর্যালোচনা করবে এবং কোনো অবস্থাতেই নির্ধারিত বরাদ্দের বেশি জ্বালানি তেল সরবরাহ করা যাবে না।

বিপিসি পুনরায় নিশ্চিত করেছে যে, সরকার নির্ধারিত মূল্যে জ্বালানি তেল বিক্রি অব্যাহত থাকবে এবং বর্তমানে তেলের দাম বাড়ানোর বিষয়ে সরকার কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। সংস্থাটি গুজবে বিভ্রান্ত না হয়ে স্বাভাবিকভাবে জ্বালানি তেল ব্যবহারের জন্যও সবার প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হরমুজ প্রণালী বন্ধের পরিকল্পনা নেই ইরানের, তবে ইসরায়েলি ও মার্কিন জাহাজের জন্য কড়া হুঁশিয়ারি

গুজবে কান না দিতে আহ্বান, জ্বালানি তেল ক্রয়ে সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করলো বিপিসি

আপডেট সময় : ০৭:২৭:১৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ মার্চ ২০২৬

দেশে জ্বালানি তেলের মজুত ও সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি)। তবে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে ছড়ানো গুজব বা নেতিবাচক প্রচারে প্রভাবিত হয়ে অপ্রয়োজনীয়ভাবে অতিরিক্ত তেল না কেনার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি। একই সঙ্গে, অনাকাঙ্ক্ষিত চাহিদা বৃদ্ধি রোধে যানবাহনে জ্বালানি তেল ক্রয়ের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে বিপিসি।

সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জ্বালানি তেলের মজুত নিয়ে নেতিবাচক তথ্য ছড়িয়ে পড়ায় কিছু এলাকায় অপ্রত্যাশিতভাবে চাহিদা বেড়েছে। এর ফলে কিছু ডিপো ও ফিলিং স্টেশনে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি তেল সংগ্রহের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে বলে বিপিসি উল্লেখ করেছে। সংস্থাটি আরও জানায়, দেশের মোট ব্যবহৃত জ্বালানি তেলের প্রায় ৯৫ শতাংশ বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে আমদানি ব্যবস্থাপনায় কিছু চ্যালেঞ্জ থাকলেও দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে এবং অনাকাঙ্ক্ষিত চাপ কমাতে বিপিসি ফিলিং স্টেশন থেকে যানবাহনে জ্বালানি তেল বিক্রির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট পরিমাণ মেনে চলার নির্দেশনা জারি করেছে। এই নির্দেশনা অনুযায়ী:

মোটরসাইকেল সর্বোচ্চ দুই লিটার অকটেন বা পেট্রোল নিতে পারবে।
ছোট প্রাইভেটকার সর্বোচ্চ ১০ লিটার অকটেন বা পেট্রোল নিতে পারবে।
প্রাইভেটকার, জিপ ও মাইক্রোবাসের ক্ষেত্রে প্রতি ট্রিপে ২০ থেকে ২৫ লিটার পর্যন্ত অকটেন বা পেট্রোল নেওয়া যাবে।
মিনিবাস ও লোকাল বাস ৭০ থেকে ৮০ লিটার পর্যন্ত ডিজেল সংগ্রহ করতে পারবে।
দূরপাল্লার বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ও কনটেইনার ট্রাকের জন্য প্রতি ট্রিপে ১০০ থেকে ১২০ লিটার পর্যন্ত ডিজেল সরবরাহ করা যাবে।

জ্বালানি তেল সরবরাহের ক্ষেত্রে কিছু শর্তও আরোপ করেছে বিপিসি। নির্দেশনা অনুযায়ী, তেল কেনার সময় ভোক্তাকে তেলের ধরন, পরিমাণ ও মূল্য উল্লেখ করে ক্রয় রসিদ সংগ্রহ করতে হবে। একই স্টেশন থেকে পুনরায় তেল নিতে হলে আগের ক্রয়ের রসিদ বা তার অনুলিপি দেখাতে হবে। ডিলাররা বিপিসির নির্দেশনা অনুযায়ী রসিদ যাচাই করে তেল সরবরাহ করবেন।

পাশাপাশি, ফিলিং স্টেশনগুলোকে তাদের জ্বালানি তেলের মজুত ও বিক্রির তথ্য নিয়মিতভাবে সংশ্লিষ্ট ডিপোতে জানাতে হবে। তেল বিপণন কোম্পানিগুলোও ডিলারদের কাছে সরবরাহ দেওয়ার আগে বর্তমান মজুত ও বিক্রির তথ্য পর্যালোচনা করবে এবং কোনো অবস্থাতেই নির্ধারিত বরাদ্দের বেশি জ্বালানি তেল সরবরাহ করা যাবে না।

বিপিসি পুনরায় নিশ্চিত করেছে যে, সরকার নির্ধারিত মূল্যে জ্বালানি তেল বিক্রি অব্যাহত থাকবে এবং বর্তমানে তেলের দাম বাড়ানোর বিষয়ে সরকার কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। সংস্থাটি গুজবে বিভ্রান্ত না হয়ে স্বাভাবিকভাবে জ্বালানি তেল ব্যবহারের জন্যও সবার প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে।