ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান সংঘাত এখন আর কেবল দুই দেশের সীমান্তে সীমাবদ্ধ নেই। তেহরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার প্রতিশোধ নিতে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সক্রিয় ইরানপন্থি মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলো তাদের আক্রমণ জোরদার করেছে। এতে পুরো অঞ্চলে চরম বিশৃঙ্খলা ও বড় ধরনের সহিংসতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এ খবর জানিয়েছে।
গত শনিবার যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরাকের মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলো ইসরায়েলসহ জর্ডান ও ইরাকে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে কয়েক ডজন হামলা চালিয়েছে। বিশেষ করে ইরাকের উত্তরাঞ্চলে কুর্দি অধ্যুষিত এলাকায় ইরানি-কুর্দি বিরোধী গোষ্ঠীগুলোর ওপরও তারা আঘাত হানছে।
২০০৩ সালে মার্কিন আগ্রাসনের পর থেকেই ইরাক হয়ে উঠেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের ছায়াযুদ্ধের প্রধান ক্ষেত্র। ইরাকের বর্তমান নেতৃত্ব এই নতুন সংঘাত থেকে দূরে থাকতে চাইলেও দেশটির শিয়া মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলো সরাসরি ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) নির্দেশে কাজ করছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরাকের এসব মিলিশিয়া গোষ্ঠীর সক্ষমতা কমিয়ে দিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইতোমধ্যে বিমান হামলা ও বিশেষ বাহিনীর মাধ্যমে গুপ্ত অভিযান শুরু করেছে।
মঙ্গলবার ওয়াশিংটন ইঙ্গিত দিয়েছে, তারা ইরানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে অভিযানের জন্য বিরোধী পক্ষীয় ইরানি কুর্দিদের ব্যবহারের কথা ভাবছে। অন্যদিকে, বৃহস্পতিবার ইউরোপীয় দেশগুলোকে এই যুদ্ধে অংশ না নিতে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলো। তারা সরাসরি হুমকি দিয়ে বলেছে, যুদ্ধে জড়ালে ইরাক ও এই অঞ্চলে থাকা ইউরোপীয় বাহিনীর ওপর হামলা চালানো হবে।
নিউ ইয়র্কভিত্তিক কৌশলগত পরামর্শক প্রতিষ্ঠান হরাইজন এনগেজ-এর ইরাক বিশেষজ্ঞ মাইকেল নাইটস বলেন, আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহতের পর ইরাকি গোষ্ঠীগুলো এখন প্রতিশোধ নেওয়ার পথ খুঁজছে। তবে এর বিপরীতে মিলিশিয়াদের ওপর শুরু হয়েছে রহস্যময় ড্রোন হামলা। বাগদাদের দক্ষিণে এবং বসরা ও নাসারিয়ার কাছে ‘সুইসাইড ড্রোন’ হামলায় অন্তত ১৫ জন যোদ্ধা নিহত হয়েছেন, যাদের অধিকাংশই প্রভাবশালী কাতায়িব হিজবুল্লাহর সদস্য।
বৃহস্পতিবার কাতায়িব হিজবুল্লাহ নিশ্চিত করেছে যে, দক্ষিণ ইরাকে তাদের এক কমান্ডারসহ বেশ কয়েকজন যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া ইরাকের আকাশসীমা পর্যবেক্ষণের রাডার ব্যবস্থাগুলোও রহস্যজনক বিস্ফোরণে অচল হয়ে পড়েছে। ইসরায়েলি গোয়েন্দা কর্মকর্তারা এই বিস্ফোরণগুলোর দায় স্বীকার না করলেও এগুলো তাদের কাজ হওয়ার সম্ভাবনাকে ‘বিশ্বাসযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেছেন।
ইরান কয়েক দশক ধরে ভারত মহাসাগর থেকে ভূমধ্যসাগর পর্যন্ত মিলিশিয়াদের একটি নেটওয়ার্ক তৈরি করেছে। তবে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর থেকে ইসরায়েলি অভিযানে এই জোট অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে। লেবাননের হিজবুল্লাহ এই যুদ্ধে যোগ দিলেও ফিলিস্তিনের হামাস এবং ইয়েমেনের হুথিরা এখন পর্যন্ত বর্তমান সংঘাত থেকে কিছুটা দূরত্ব বজায় রেখেছে। বিশ্লেষক ফিলিপ স্মিথ মনে করেন, ইরান হয়তো হুথিদের ‘রিজার্ভ’ হিসেবে রেখে দিয়েছে অথবা ইরান সরকারের পতন হতে পারে ভেবে হুথিরা এখন পিছু হটছে।
এদিকে ইরানের অভ্যন্তরেও অস্থিরতা বাড়ছে। দক্ষিণ-পশ্চিম ইরানের আহওয়াজ শহরে আইআরজিসি-র একটি ঘাঁটিতে আহওয়াজ ফ্যালকনস নামে একটি নতুন সশস্ত্র গোষ্ঠী হামলার দাবি করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, ইরানকে ভেতর থেকে দুর্বল করতে যুক্তরাষ্ট্র এখন দেশটির জাতিগত সংখ্যালঘু গোষ্ঠীগুলোকে ব্যবহার করছে।
রিপোর্টারের নাম 























