সরকারি হাসপাতালে দায়িত্ব পালন না করে বেসরকারি চেম্বারে রোগী দেখলে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের লাইসেন্স স্থগিতসহ কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকদের ডিউটির সময় বেসরকারি চেম্বার বা ক্লিনিকে রোগী দেখা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) দুপুরে সচিবালয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
ডিউটি ফাঁকি দিলে লাইসেন্স স্থগিত
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সুস্পষ্ট নির্দেশনা অনুযায়ী সরকারি হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসকরা ডিউটির সময় বেসরকারি চেম্বারে প্র্যাকটিস করতে পারবেন না। এ ধরনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ডিউটি চলাকালীন বেসরকারি চেম্বারে রোগী দেখার ঘটনা রোধে সারা দেশে গোয়েন্দা নজরদারি ও তদারকি জোরদার করা হয়েছে।
তিনি বলেন, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে দায়িত্বে অবহেলা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।
ডা. রাজেশ মজুমদারের লাইসেন্স ছয় মাস স্থগিত
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, অফিস সময়ে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকে বেসরকারি হাসপাতালে রোগী দেখার অভিযোগে সরকারি চিকিৎসক ডা. রাজেশ মজুমদারের লাইসেন্স ছয় মাসের জন্য স্থগিত করা হয়েছে এবং তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। একইসঙ্গে যে বেসরকারি হাসপাতালে তিনি রোগী দেখছিলেন, সেই প্রতিষ্ঠানকেও কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, বিষয়টি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হলে তা প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিগোচর হয় এবং তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য খাতে জনবল সংকট, আসছে বড় নিয়োগ
দেশের স্বাস্থ্য খাতে চিকিৎসক, নার্স ও টেকনিশিয়ানের ঘাটতি রয়েছে উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এই সংকট কাটাতে পর্যায়ক্রমে বড় ধরনের জনবল নিয়োগের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। মিডওয়াইফ, ফার্মাসিস্ট, টেকনোলজিস্টসহ বিভিন্ন পদে প্রায় ১ লাখ জনবল নিয়োগ দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, জনসংখ্যার তুলনায় চিকিৎসকের সংখ্যা এখনও কম। তবে প্রতি বছর নতুন চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। সম্প্রতি নতুন একদল চিকিৎসক যোগদান করেছেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ভবিষ্যতেও এ নিয়োগ প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।
পুরোনো অবকাঠামোতে চাপ সামলাচ্ছে হাসপাতাল
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি তিনি একটি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন, যার ভবন প্রায় ১২০ বছর পুরোনো। সেখানে অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার মধ্যেই বিপুলসংখ্যক রোগীকে চিকিৎসাসেবা দিতে হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে একজন রোগীর জায়গায় তিন জন পর্যন্ত রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন।
পরিচ্ছন্নতা ও কর্মচারী সংকট
তিনি বলেন, হাসপাতালে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীরও সংকট রয়েছে। এই ঘাটতি পূরণে নতুন নিয়োগের পাশাপাশি কিছু ক্ষেত্রে আউটসোর্সিং পদ্ধতি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। হাসপাতালের বর্জ্য ও ব্যবহৃত রক্তাক্ত কাপড় যথাযথভাবে অপসারণ না করার বিষয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
সরকারি ওষুধ বাইরে বিক্রি ঠেকাতে নতুন ব্যবস্থা
সরকারি ওষুধ বাইরে বিক্রি হওয়া রোধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, সরকারি ওষুধে বিশেষ চিহ্ন দেওয়া হবে, যাতে সেগুলো বাইরে বিক্রি হলে সহজে শনাক্ত করা যায়। কোনও ফার্মেসিতে এমন ওষুধ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
চিকিৎসাসেবায় রাজনৈতিক প্রভাব বরদাশত নয়
হাসপাতালে রাজনৈতিক প্রভাবের বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে চিকিৎসাসেবায় কোনও প্রভাব পড়তে দেওয়া হবে না। জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে সরকারি ও বেসরকারি খাতের সমন্বয়ের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, সরকারের উদ্যোগ এবং সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতায় দেশের স্বাস্থ্যসেবা আরও উন্নত হবে।
রিপোর্টারের নাম 
























