ঢাকা ০১:৪৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

সাঘাটা-ফুলছড়িতে শহীদ সজলের কবরস্থান সংরক্ষণ ও সংস্কার কাজের উদ্বোধন

গাইবান্ধার সাঘাটায় ‘জুলাই আন্দোলনের’ শহীদ সাজ্জাদ হোসেন সজলের কবরস্থান সংরক্ষণ ও সংস্কার কাজের উদ্বোধন করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা। মঙ্গলবার দুপুর ৩টার দিকে সাঘাটা উপজেলার শ্যামপুর গ্রামের কবরস্থানে উপস্থিত হয়ে তিনি নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন।

এ সময় সাঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুল কবির, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মেহেদী হাসান, স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। জানা যায়, শহীদ সজলের কবরস্থানটি দীর্ঘদিন ধরে অযত্ন ও অবহেলায় ছিল। বিষয়টি জেলা প্রশাসকের নজরে এলে কবরস্থানটি যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে সেই কাজের আনুষ্ঠানিক সূচনা হলো।

অনুষ্ঠানে শহীদ সজলের মা শাহীনা বেগম আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, জেলা পরিষদ থেকে একসময় কবর সংস্কারের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হলেও পরে আর কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। জেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং সংশ্লিষ্টদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

এ সময় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা বলেন, জুলাই শহীদদের আত্মত্যাগ জাতি কখনো ভুলবে না। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শহীদ সজলের কবরস্থানটি যথাযথভাবে নির্মাণ ও সংরক্ষণের কাজ সম্পন্ন করা হবে, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম তার আত্মত্যাগের ইতিহাস জানতে পারে এবং শ্রদ্ধা জানাতে পারে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ঢাকার সাভারের আশুলিয়ায় কোটা সংস্কার আন্দোলনে অংশ নেওয়ার সময় পুলিশের গুলিতে নিহত হন সাজ্জাদ হোসেন সজল। পরে তার লাশ গুমের উদ্দেশ্যে আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয় বলে পরিবারের অভিযোগ। ঘটনার দুই দিন পর পোড়া লাশের গলায় থাকা সিটি ইউনিভার্সিটির পরিচয়পত্র দেখে পরিবারের সদস্যরা তাকে শনাক্ত করেন। পরদিন প্রশাসন লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করলে ৭ আগস্ট নিজ গ্রাম শ্যামপুরে তাকে দাফন করা হয়। সাজ্জাদ হোসেন সজল আশুলিয়ার সিটি ইউনিভার্সিটির টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং (বিএসসি) বিভাগের প্রথম বর্ষের দ্বিতীয় সেমিস্টারের শিক্ষার্থী ছিলেন। দেশের জন্য কিছু করার স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে চলা এই তরুণের অকাল মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন এবং এলাকাবাসীর মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হবিগঞ্জে এনসিপির পদযাত্রায় হামলার তীব্র নিন্দা জানালো ছাত্রশিবির

সাঘাটা-ফুলছড়িতে শহীদ সজলের কবরস্থান সংরক্ষণ ও সংস্কার কাজের উদ্বোধন

আপডেট সময় : ১১:৩৩:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

গাইবান্ধার সাঘাটায় ‘জুলাই আন্দোলনের’ শহীদ সাজ্জাদ হোসেন সজলের কবরস্থান সংরক্ষণ ও সংস্কার কাজের উদ্বোধন করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা। মঙ্গলবার দুপুর ৩টার দিকে সাঘাটা উপজেলার শ্যামপুর গ্রামের কবরস্থানে উপস্থিত হয়ে তিনি নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন।

এ সময় সাঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুল কবির, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মেহেদী হাসান, স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। জানা যায়, শহীদ সজলের কবরস্থানটি দীর্ঘদিন ধরে অযত্ন ও অবহেলায় ছিল। বিষয়টি জেলা প্রশাসকের নজরে এলে কবরস্থানটি যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে সেই কাজের আনুষ্ঠানিক সূচনা হলো।

অনুষ্ঠানে শহীদ সজলের মা শাহীনা বেগম আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, জেলা পরিষদ থেকে একসময় কবর সংস্কারের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হলেও পরে আর কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। জেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং সংশ্লিষ্টদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

এ সময় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা বলেন, জুলাই শহীদদের আত্মত্যাগ জাতি কখনো ভুলবে না। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শহীদ সজলের কবরস্থানটি যথাযথভাবে নির্মাণ ও সংরক্ষণের কাজ সম্পন্ন করা হবে, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম তার আত্মত্যাগের ইতিহাস জানতে পারে এবং শ্রদ্ধা জানাতে পারে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ঢাকার সাভারের আশুলিয়ায় কোটা সংস্কার আন্দোলনে অংশ নেওয়ার সময় পুলিশের গুলিতে নিহত হন সাজ্জাদ হোসেন সজল। পরে তার লাশ গুমের উদ্দেশ্যে আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয় বলে পরিবারের অভিযোগ। ঘটনার দুই দিন পর পোড়া লাশের গলায় থাকা সিটি ইউনিভার্সিটির পরিচয়পত্র দেখে পরিবারের সদস্যরা তাকে শনাক্ত করেন। পরদিন প্রশাসন লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করলে ৭ আগস্ট নিজ গ্রাম শ্যামপুরে তাকে দাফন করা হয়। সাজ্জাদ হোসেন সজল আশুলিয়ার সিটি ইউনিভার্সিটির টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং (বিএসসি) বিভাগের প্রথম বর্ষের দ্বিতীয় সেমিস্টারের শিক্ষার্থী ছিলেন। দেশের জন্য কিছু করার স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে চলা এই তরুণের অকাল মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন এবং এলাকাবাসীর মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে।