দেশের রপ্তানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন সক্ষমতা ও রপ্তানি প্রবাহ সচল রাখতে বিশেষ আর্থিক সহায়তা ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক প্রতিকূলতার মুখে এসব প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক-কর্মচারীদের ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন-ভাতা পরিশোধ নিশ্চিত করতে চলতি মূলধন ঋণের বাইরে বিশেষ মেয়াদি ঋণ সুবিধা চালুর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে জারি করা এক সার্কুলারে এ তথ্য জানানো হয়।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে। এর পাশাপাশি অন্যান্য ব্যয়ের চাপ এবং ব্যবসায়িক পরিবেশে বিঘ্নের কারণে অনেক রপ্তানিমুখী প্রতিষ্ঠান উৎপাদন কার্যক্রম অব্যাহত রাখা ও শ্রমিকদের বেতন-ভাতা সময়মতো পরিশোধে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে শিল্প খাতকে টিকিয়ে রাখা এবং শ্রমিকদের কর্মসংস্থান সুরক্ষায় এই আর্থিক সহায়তা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
নির্দেশনা অনুযায়ী, এই বিশেষ মেয়াদি ঋণ সুবিধা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিগত তিন মাসে পরিশোধিত গড় বেতন-ভাতার বেশি হবে না। এটি সর্বোচ্চ এক বছর মেয়াদি হবে, যার মধ্যে তিন মাসের গ্রেস পিরিয়ড বা কিস্তি পরিশোধে বিরতি থাকবে। এরপর মাসিক বা ত্রৈমাসিক কিস্তিতে ঋণ পরিশোধ করতে হবে। ঋণের বিপরীতে বাজারভিত্তিক প্রচলিত সুদহার প্রযোজ্য হবে, তবে নির্ধারিত সুদের বাইরে কোনো অতিরিক্ত সুদ, মুনাফা, ফি বা চার্জ আরোপ করা যাবে না।
ঋণ পাওয়ার যোগ্যতার বিষয়ে বলা হয়েছে, যেসব প্রতিষ্ঠান তাদের মোট উৎপাদনের কমপক্ষে ৮০ শতাংশ পণ্য রপ্তানি করে, সেগুলোকে রপ্তানিমুখী শিল্প হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এছাড়াও, যেসব প্রতিষ্ঠান নভেম্বর ২০২৫ থেকে জানুয়ারি ২০২৬ সাল পর্যন্ত নিয়মিতভাবে শ্রমিকদের বেতন পরিশোধ করেছে, কেবল তারাই এই সুবিধার জন্য যোগ্য বিবেচিত হবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিত্বকারী বাণিজ্য সংগঠনের প্রত্যয়নপত্র জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক।
তফসিলি ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, এই ঋণের অর্থ সরাসরি সংশ্লিষ্ট শ্রমিক-কর্মচারীদের ব্যাংক হিসাব অথবা মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) হিসাবের মাধ্যমে পরিশোধ করতে হবে, যাতে বেতন-ভাতা বিতরণে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয়।
রিপোর্টারের নাম 

























