ঢাকা ০৪:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬

ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার আঁচ, পুঁজিবাজারে মহাধস: একদিনেই ডিএসইর সূচক হারাল ২০৯ পয়েন্ট

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাবে দেশের পুঁজিবাজারে বড় ধরনের দরপতন হয়েছে। মঙ্গলবার প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স একদিনেই প্রায় ২০৯ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৩২৫ পয়েন্টে নেমে এসেছে। শতকরা হিসাবে সূচক পতনের এ হার ৩.৭৭ শতাংশ, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

ডিএসইর পাশাপাশি শরিয়াহ সূচকের ৩.৩০ শতাংশ এবং ডিএসই-৩০ সূচকের ৪ শতাংশেরও বেশি পতন হয়েছে। বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ইরানকে ঘিরে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ক্রমাগত বাড়ছে। এর মধ্যে জ্বালানি তেল পরিবহণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালী ইরান বন্ধ করে দেওয়ার হুমকির কারণে বিশ্বব্যাপী তেল সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের সংকট তৈরির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। একদিকে তেলের মূল্যবৃদ্ধি, অন্যদিকে সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্নের আশঙ্কায় বিশ্ব অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব পড়ার উদ্বেগ বাড়ায়, এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের পুঁজিবাজারেও।

এদিন লেনদেনের শুরু থেকেই অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারের দরপতন হতে থাকে, যার ফলে সূচকের বড় পতন দিয়ে দিনের লেনদেন শুরু হয়। লেনদেনের পুরোটা সময় জুড়েই এই নিম্নমুখী ধারা অব্যাহত ছিল। দিন শেষে লেনদেনে অংশ নেওয়া ৩৯১টি ইস্যুর মধ্যে মাত্র ৩১টির দর বেড়েছে। বিপরীতে দর হারিয়েছে ৩৪৯টি ইস্যু এবং ১১টি ইস্যুর দর ছিল অপরিবর্তিত।

তবে, সূচকের এমন বড় পতনের দিনেও দুর্বল মৌলভিত্তির কোম্পানিগুলোর মধ্যে অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। দরবৃদ্ধির শীর্ষে থাকা কোম্পানিগুলোর মধ্যে ১৩টিই অভিহিত মূল্যের কম দরে লেনদেন হচ্ছে।

এদিকে, সূচকের বড় পতন সত্ত্বেও লেনদেনের পরিমাণ বেড়েছে। গতকাল ডিএসইতে যেখানে প্রায় ৭৮০ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছিল, আজ তা বেড়ে ৮৮৫ কোটি টাকার বেশি হয়েছে, যা বাজারে সক্রিয়তা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দুদকে গণপদত্যাগ: ‘নতুন সরকারের প্রত্যাশাকে পথ দিতেই’ — বললেন চেয়ারম্যান

ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার আঁচ, পুঁজিবাজারে মহাধস: একদিনেই ডিএসইর সূচক হারাল ২০৯ পয়েন্ট

আপডেট সময় : ০২:৪৫:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাবে দেশের পুঁজিবাজারে বড় ধরনের দরপতন হয়েছে। মঙ্গলবার প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স একদিনেই প্রায় ২০৯ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৩২৫ পয়েন্টে নেমে এসেছে। শতকরা হিসাবে সূচক পতনের এ হার ৩.৭৭ শতাংশ, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

ডিএসইর পাশাপাশি শরিয়াহ সূচকের ৩.৩০ শতাংশ এবং ডিএসই-৩০ সূচকের ৪ শতাংশেরও বেশি পতন হয়েছে। বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ইরানকে ঘিরে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ক্রমাগত বাড়ছে। এর মধ্যে জ্বালানি তেল পরিবহণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালী ইরান বন্ধ করে দেওয়ার হুমকির কারণে বিশ্বব্যাপী তেল সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের সংকট তৈরির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। একদিকে তেলের মূল্যবৃদ্ধি, অন্যদিকে সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্নের আশঙ্কায় বিশ্ব অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব পড়ার উদ্বেগ বাড়ায়, এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের পুঁজিবাজারেও।

এদিন লেনদেনের শুরু থেকেই অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারের দরপতন হতে থাকে, যার ফলে সূচকের বড় পতন দিয়ে দিনের লেনদেন শুরু হয়। লেনদেনের পুরোটা সময় জুড়েই এই নিম্নমুখী ধারা অব্যাহত ছিল। দিন শেষে লেনদেনে অংশ নেওয়া ৩৯১টি ইস্যুর মধ্যে মাত্র ৩১টির দর বেড়েছে। বিপরীতে দর হারিয়েছে ৩৪৯টি ইস্যু এবং ১১টি ইস্যুর দর ছিল অপরিবর্তিত।

তবে, সূচকের এমন বড় পতনের দিনেও দুর্বল মৌলভিত্তির কোম্পানিগুলোর মধ্যে অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। দরবৃদ্ধির শীর্ষে থাকা কোম্পানিগুলোর মধ্যে ১৩টিই অভিহিত মূল্যের কম দরে লেনদেন হচ্ছে।

এদিকে, সূচকের বড় পতন সত্ত্বেও লেনদেনের পরিমাণ বেড়েছে। গতকাল ডিএসইতে যেখানে প্রায় ৭৮০ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছিল, আজ তা বেড়ে ৮৮৫ কোটি টাকার বেশি হয়েছে, যা বাজারে সক্রিয়তা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়।