ঢাকা ০৪:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬

প্রশাসনিক সভায় এমপির স্ত্রীর প্রধান অতিথি: বিতর্কের মুখে বদলি বাহুবলের ইউএনও-এসিল্যান্ড

হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলায় একটি প্রশাসনিক মতবিনিময় সভায় সংসদ সদস্য রেজা কিবরিয়ার স্ত্রীর প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকা এবং বক্তব্য প্রদানকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার মধ্যেই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিটন দে এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহবুবুল আলমকে বদলি করা হয়েছে। রবিবার জারি করা পৃথক প্রজ্ঞাপনে এই দুই কর্মকর্তাকে নতুন কর্মস্থলে পদায়ন করা হয়।

সিলেট বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের সংস্থাপন শাখার সিনিয়র সহকারী কমিশনার উম্মে সালিক রুমাইয়া স্বাক্ষরিত এক আদেশে লিটন দে-কে সিলেট বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে বদলি করা হয়। একইসঙ্গে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ নিয়োগ শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব মুহাম্মদ তানভীর হাসান রুমান স্বাক্ষরিত অপর এক আদেশে মাহবুবুল আলমকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে বদলি করা হয়।

গত ২৬ ফেব্রুয়ারি দুপুরে বাহুবল উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে প্রশাসনের এক মতবিনিময় সভায় হবিগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য রেজা কিবরিয়ার স্ত্রী সিমি কিবরিয়া প্রধান অতিথির আসনে বসেন এবং বক্তব্য দেন। সভার একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়। ছবিতে দেখা যায়, সিমি কিবরিয়ার এক পাশে ইউএনও লিটন দে এবং অন্য পাশে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহবুবুল আলম ও বাহুবল থানার ওসি সাইফুল ইসলাম বসা রয়েছেন। সরকারি সভায় কোনো জনপ্রতিনিধির পরিবারের সদস্যের উপস্থিতি এবং প্রধান অতিথির আসনে বসা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয় এবং এর আইনি বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। এই সমালোচনার পরদিনই ইউএনও ও এসিল্যান্ডের বদলির প্রজ্ঞাপন জারি হলো।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে বাহুবল থানার ওসি সাইফুল ইসলাম জানান, ইউএনও তাকে নিমন্ত্রণ করেছিলেন এবং এটি একটি সাধারণ পরিচিতি সভা ছিল।

ইউএনও লিটন দে অবশ্য দাবি করেছেন, এই বদলির সঙ্গে ওই ঘটনার কোনো সম্পর্ক নেই। এটিকে তিনি নিয়মিত প্রশাসনিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে একবার তার বদলির আদেশ হয়েছিল, যা পরে পরিবর্তিত হয়। এখন আবার বদলির আদেশ হলো, এটি একটি রুটিন ওয়ার্ক।

হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফীনও বিষয়টিকে ‘প্রশাসনিক মিটিং নয়, কেবল একটি পরিচিতি সভা’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এটি কোনো আনুষ্ঠানিক বৈঠক ছিল না। বদলির বিষয়টি রুটিন প্রক্রিয়া এবং এই ঘটনার সঙ্গে বদলির কোনো সম্পর্ক নেই বলে তিনি জানান। একসঙ্গে দুজনের বদলি প্রসঙ্গে তিনি এটিকে ‘কাকতালীয়’ বলে মন্তব্য করেন।

উল্লেখ্য, এর আগে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি নবীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সভাকক্ষে হবিগঞ্জ-১ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ড. রেজা কিবরিয়ার সঙ্গে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন ড. রেজা কিবরিয়া। তবে সভা শুরুর কিছুক্ষণ পরেই সংসদ সদস্য সভাস্থল ত্যাগ করেন। এরপর সেদিনও প্রধান অতিথির আসনে বসেন তার স্ত্রী সিমি কিবরিয়া এবং উপস্থিত কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন। সভা শেষে তিনি উপজেলা পরিষদ এলাকা ঘুরে দেখেন। সে সময় ইউএনও মো. রুহুল আমিন ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রত্যয় হাশেম তার সঙ্গে ছিলেন। একইদিন সকালে সিমি কিবরিয়া নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সও পরিদর্শন করেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‘দম’ নিয়ে ঈদে আসছেন নিশো: প্রথম পোস্টারেই দর্শকের উন্মাদনা

প্রশাসনিক সভায় এমপির স্ত্রীর প্রধান অতিথি: বিতর্কের মুখে বদলি বাহুবলের ইউএনও-এসিল্যান্ড

আপডেট সময় : ০২:৪২:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬

হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলায় একটি প্রশাসনিক মতবিনিময় সভায় সংসদ সদস্য রেজা কিবরিয়ার স্ত্রীর প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকা এবং বক্তব্য প্রদানকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার মধ্যেই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিটন দে এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহবুবুল আলমকে বদলি করা হয়েছে। রবিবার জারি করা পৃথক প্রজ্ঞাপনে এই দুই কর্মকর্তাকে নতুন কর্মস্থলে পদায়ন করা হয়।

সিলেট বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের সংস্থাপন শাখার সিনিয়র সহকারী কমিশনার উম্মে সালিক রুমাইয়া স্বাক্ষরিত এক আদেশে লিটন দে-কে সিলেট বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে বদলি করা হয়। একইসঙ্গে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ নিয়োগ শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব মুহাম্মদ তানভীর হাসান রুমান স্বাক্ষরিত অপর এক আদেশে মাহবুবুল আলমকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে বদলি করা হয়।

গত ২৬ ফেব্রুয়ারি দুপুরে বাহুবল উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে প্রশাসনের এক মতবিনিময় সভায় হবিগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য রেজা কিবরিয়ার স্ত্রী সিমি কিবরিয়া প্রধান অতিথির আসনে বসেন এবং বক্তব্য দেন। সভার একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়। ছবিতে দেখা যায়, সিমি কিবরিয়ার এক পাশে ইউএনও লিটন দে এবং অন্য পাশে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহবুবুল আলম ও বাহুবল থানার ওসি সাইফুল ইসলাম বসা রয়েছেন। সরকারি সভায় কোনো জনপ্রতিনিধির পরিবারের সদস্যের উপস্থিতি এবং প্রধান অতিথির আসনে বসা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয় এবং এর আইনি বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। এই সমালোচনার পরদিনই ইউএনও ও এসিল্যান্ডের বদলির প্রজ্ঞাপন জারি হলো।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে বাহুবল থানার ওসি সাইফুল ইসলাম জানান, ইউএনও তাকে নিমন্ত্রণ করেছিলেন এবং এটি একটি সাধারণ পরিচিতি সভা ছিল।

ইউএনও লিটন দে অবশ্য দাবি করেছেন, এই বদলির সঙ্গে ওই ঘটনার কোনো সম্পর্ক নেই। এটিকে তিনি নিয়মিত প্রশাসনিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে একবার তার বদলির আদেশ হয়েছিল, যা পরে পরিবর্তিত হয়। এখন আবার বদলির আদেশ হলো, এটি একটি রুটিন ওয়ার্ক।

হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফীনও বিষয়টিকে ‘প্রশাসনিক মিটিং নয়, কেবল একটি পরিচিতি সভা’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এটি কোনো আনুষ্ঠানিক বৈঠক ছিল না। বদলির বিষয়টি রুটিন প্রক্রিয়া এবং এই ঘটনার সঙ্গে বদলির কোনো সম্পর্ক নেই বলে তিনি জানান। একসঙ্গে দুজনের বদলি প্রসঙ্গে তিনি এটিকে ‘কাকতালীয়’ বলে মন্তব্য করেন।

উল্লেখ্য, এর আগে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি নবীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সভাকক্ষে হবিগঞ্জ-১ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ড. রেজা কিবরিয়ার সঙ্গে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন ড. রেজা কিবরিয়া। তবে সভা শুরুর কিছুক্ষণ পরেই সংসদ সদস্য সভাস্থল ত্যাগ করেন। এরপর সেদিনও প্রধান অতিথির আসনে বসেন তার স্ত্রী সিমি কিবরিয়া এবং উপস্থিত কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন। সভা শেষে তিনি উপজেলা পরিষদ এলাকা ঘুরে দেখেন। সে সময় ইউএনও মো. রুহুল আমিন ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রত্যয় হাশেম তার সঙ্গে ছিলেন। একইদিন সকালে সিমি কিবরিয়া নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সও পরিদর্শন করেন।