ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) মহানগরীতে মশার ক্রমবর্ধমান উপদ্রব মোকাবিলায় এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে। এখন থেকে ডিএনসিসি এলাকায় প্রতিদিন তিনবার মশক নিধন ঔষধ প্রয়োগ করা হবে। একই সাথে এই কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে গঠন করা হয়েছে বিশেষ কুইক রেসপন্স টিম (QRT)।
ডিএনসিসির নতুন প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই মশক নিধন কার্যক্রমকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে আসছেন। তারই নির্দেশনায় মশা নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়েছে সমন্বিত ও সুপরিকল্পিত উদ্যোগ। এরই ধারাবাহিকতায় আজ থেকে কার্যকর হচ্ছে মশক নিধন ঔষধ প্রয়োগের নতুন সময়সূচি।
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, সকালে মশার লার্ভা ধ্বংসে লার্ভিসাইডিং কার্যক্রম চালানো হবে। এছাড়া, বিকাল ও সন্ধ্যার পাশাপাশি মশার ‘পিক ফ্লাইট ও অ্যাক্টিভিটি টাইম’ অনুযায়ী অঞ্চলভেদে রাতেও ফগিং কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। দিনে এভাবে তিনবার ওষুধ প্রয়োগের মাধ্যমে মশার প্রজনন ও বিস্তার নিয়ন্ত্রণে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানো হবে।
ডিএনসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক পত্রে এই নতুন সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও মশক নিধন কার্যক্রম চলবে বলে জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সকল স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে নিজ নিজ অঞ্চলের মশক নিধন টিমগুলোর কার্যক্রম নিয়মিত তদারকি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ইতিমধ্যে কিউআরটি (QRT) টিমের মাধ্যমে মশার ‘হটস্পট’ চিহ্নিত করে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। কিউলেক্স মশার জন্মস্থান হিসেবে পরিচিত নালা-নর্দমা, স্যুয়ারেজ লাইন, জলাশয় এবং খাল-বিলের হালনাগাদ তালিকা প্রস্তুত করে সেখানেও নেওয়া হচ্ছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা।
ডেঙ্গুসহ অন্যান্য মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে ডিএনসিসি কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী সকল মশক নিধন কর্মীর উপস্থিতি ও কার্যক্রম নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান এবং মাঠ পর্যায়ে নিবিড় তদারকির ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
নাগরিকদের প্রতিও ডিএনসিসির পক্ষ থেকে বিশেষ অনুরোধ জানানো হয়েছে। নিজ নিজ বাসাবাড়ি, ছাদ, বারান্দা, সামনে-পিছনে এবং আশপাশের এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা, যথাযথ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা এবং কোথাও যেন পানি জমে মশার প্রজননস্থল তৈরি না হয়, সেদিকে সক্রিয় সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 
























