ঢাকা ১২:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬

ট্রাম্পই কি ‘শ্রেষ্ঠ যুদ্ধবাজ’ মার্কিন প্রেসিডেন্ট?

## শিরোনাম: ট্রাম্পের যুদ্ধনীতি: প্রতিশ্রুতির বরখেলাপ নাকি নতুন দিগন্ত?

লিড প্যারাগ্রাফ: ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সির মেয়াদকালে তার যুদ্ধনীতি নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার আগে ‘চিরস্থায়ী যুদ্ধ’ অবসানের প্রতিশ্রুতি দিলেও, পরবর্তীতে তার কিছু সামরিক পদক্ষেপ সেই প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মনে করছেন অনেকেই। বিশেষ করে ইরানের বিরুদ্ধে সম্প্রতি নেওয়া কঠোর অবস্থান ট্রাম্পের যুদ্ধনীতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

বিস্তারিত বর্ণনা:

ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক যাত্রা বরাবরই বিতর্কের কেন্দ্রে থেকেছে। নানামুখী সমালোচনার মুখেও তিনি দ্বিতীয়বার মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়ে বিশ্বকে চমকে দিয়েছিলেন। ক্ষমতা গ্রহণের পূর্বে তিনি ‘চিরস্থায়ী যুদ্ধ’ শেষ করার এবং যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধ থেকে দূরে রাখার জোরালো প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তিনি দাবি করতেন যে তার প্রথম মেয়াদে কোনো নতুন যুদ্ধ শুরু হয়নি এবং তিনি সাতটি অমীমাংসিত যুদ্ধ শেষ করেছেন।

তবে, দ্বিতীয় দফায় ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্পের নীতিতে এক আমূল পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। ইরান, ভেনেজুয়েলা, সিরিয়া সহ বিভিন্ন দেশে সামরিক অভিযান চালিয়ে তিনি তার পূর্বের প্রতিশ্রুতির সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করেছেন। সম্প্রতি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ দেশটির গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের ওপর মার্কিন হামলায় মৃত্যুর ঘটনা ট্রাম্পকে আবারও যুদ্ধবাজ প্রেসিডেন্টদের কাতারে নিয়ে এসেছে। এই হামলার পর মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রকৃত উদ্দেশ্য নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। তিনি কি একটি স্বল্পমেয়াদী সংঘাত চাইছেন, নাকি দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের পথে হাঁটছেন, তা নিয়ে চলছে গভীর বিশ্লেষণ।

অন্যদিকে, পাকিস্তান-আফগানিস্তান যুদ্ধও চলমান রয়েছে এবং এতে ট্রাম্পের সংশ্লিষ্টতার গুঞ্জনও শোনা যাচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন উঠছে, ট্রাম্প কি অতীতের অন্যান্য মার্কিন প্রেসিডেন্টদের ছাড়িয়ে যাবেন সহিংসতা ও যুদ্ধ লাগানোর ক্ষেত্রে?

প্রেসিডেন্টদের যুদ্ধকালীন কর্মকাণ্ডের একটি সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনা:

মার্কিন রাজনৈতিক ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, বিভিন্ন প্রেসিডেন্ট তাদের মেয়াদকালে ভিন্ন ভিন্ন মাত্রার যুদ্ধ ও সামরিক সংঘাতে জড়িয়েছেন।

ফ্রাংকলিন ডি. রুজভেল্ট: তার সময়েই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ (১৯৪১-৪৫) সংঘটিত হয়, যা যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ বৈশ্বিক যুদ্ধ হিসেবে বিবেচিত। তিনি জার্মানি, ইতালি ও জাপানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার মূল কারিগর ছিলেন।
জর্জ ডব্লিউ. বুশ: তার শাসনামলে আফগানিস্তান (২০০১-২০২১) ও ইরাক (২০০৩) যুদ্ধ সংগঠিত হয়। ইরাক যুদ্ধে সাদ্দাম হোসেনের পতন ও পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
লিন্ডন বি. জনসন: ভিয়েতনাম যুদ্ধে বিপুল সংখ্যক মার্কিন সেনা মোতায়েনের মাধ্যমে তিনি যুদ্ধবাজ প্রেসিডেন্টদের তালিকায় স্থান করে নেন।
হ্যারি এস. ট্রুম্যান: ১৯৪৫ সালে জাপানের হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে পারমাণবিক বোমা হামলার সিদ্ধান্ত তারই অনুমোদনে হয়েছিল।
উইলিয়াম মিককেনলি: ১৯০০ শতকে তার সময়ে ল্যাটিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলে একাধিক সামরিক অভিযান পরিচালিত হয়।
বারাক ওবামা: ২০১১ সালে লিবিয়ার নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফিকে ক্ষমতাচ্যুত ও হত্যার পেছনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা ছিল, যা ওবামার প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন ঘটেছিল।

এখন দেখার বিষয়, ডোনাল্ড ট্রাম্প কি তার পূর্বের প্রতিশ্রুতিতে ফিরে যাবেন, নাকি তিনি নিজেকে ‘শ্রেষ্ঠ যুদ্ধবাজ’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবেন। এই প্রশ্নের উত্তর পেতে আরও কিছু সময় অপেক্ষা করতে হবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫: স্থগিতাদেশ চেয়ে করা রিটের আদেশ আজ

ট্রাম্পই কি ‘শ্রেষ্ঠ যুদ্ধবাজ’ মার্কিন প্রেসিডেন্ট?

আপডেট সময় : ১০:৪১:২৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬

## শিরোনাম: ট্রাম্পের যুদ্ধনীতি: প্রতিশ্রুতির বরখেলাপ নাকি নতুন দিগন্ত?

লিড প্যারাগ্রাফ: ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সির মেয়াদকালে তার যুদ্ধনীতি নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার আগে ‘চিরস্থায়ী যুদ্ধ’ অবসানের প্রতিশ্রুতি দিলেও, পরবর্তীতে তার কিছু সামরিক পদক্ষেপ সেই প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মনে করছেন অনেকেই। বিশেষ করে ইরানের বিরুদ্ধে সম্প্রতি নেওয়া কঠোর অবস্থান ট্রাম্পের যুদ্ধনীতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

বিস্তারিত বর্ণনা:

ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক যাত্রা বরাবরই বিতর্কের কেন্দ্রে থেকেছে। নানামুখী সমালোচনার মুখেও তিনি দ্বিতীয়বার মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়ে বিশ্বকে চমকে দিয়েছিলেন। ক্ষমতা গ্রহণের পূর্বে তিনি ‘চিরস্থায়ী যুদ্ধ’ শেষ করার এবং যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধ থেকে দূরে রাখার জোরালো প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তিনি দাবি করতেন যে তার প্রথম মেয়াদে কোনো নতুন যুদ্ধ শুরু হয়নি এবং তিনি সাতটি অমীমাংসিত যুদ্ধ শেষ করেছেন।

তবে, দ্বিতীয় দফায় ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্পের নীতিতে এক আমূল পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। ইরান, ভেনেজুয়েলা, সিরিয়া সহ বিভিন্ন দেশে সামরিক অভিযান চালিয়ে তিনি তার পূর্বের প্রতিশ্রুতির সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করেছেন। সম্প্রতি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ দেশটির গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের ওপর মার্কিন হামলায় মৃত্যুর ঘটনা ট্রাম্পকে আবারও যুদ্ধবাজ প্রেসিডেন্টদের কাতারে নিয়ে এসেছে। এই হামলার পর মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রকৃত উদ্দেশ্য নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। তিনি কি একটি স্বল্পমেয়াদী সংঘাত চাইছেন, নাকি দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের পথে হাঁটছেন, তা নিয়ে চলছে গভীর বিশ্লেষণ।

অন্যদিকে, পাকিস্তান-আফগানিস্তান যুদ্ধও চলমান রয়েছে এবং এতে ট্রাম্পের সংশ্লিষ্টতার গুঞ্জনও শোনা যাচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন উঠছে, ট্রাম্প কি অতীতের অন্যান্য মার্কিন প্রেসিডেন্টদের ছাড়িয়ে যাবেন সহিংসতা ও যুদ্ধ লাগানোর ক্ষেত্রে?

প্রেসিডেন্টদের যুদ্ধকালীন কর্মকাণ্ডের একটি সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনা:

মার্কিন রাজনৈতিক ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, বিভিন্ন প্রেসিডেন্ট তাদের মেয়াদকালে ভিন্ন ভিন্ন মাত্রার যুদ্ধ ও সামরিক সংঘাতে জড়িয়েছেন।

ফ্রাংকলিন ডি. রুজভেল্ট: তার সময়েই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ (১৯৪১-৪৫) সংঘটিত হয়, যা যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ বৈশ্বিক যুদ্ধ হিসেবে বিবেচিত। তিনি জার্মানি, ইতালি ও জাপানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার মূল কারিগর ছিলেন।
জর্জ ডব্লিউ. বুশ: তার শাসনামলে আফগানিস্তান (২০০১-২০২১) ও ইরাক (২০০৩) যুদ্ধ সংগঠিত হয়। ইরাক যুদ্ধে সাদ্দাম হোসেনের পতন ও পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
লিন্ডন বি. জনসন: ভিয়েতনাম যুদ্ধে বিপুল সংখ্যক মার্কিন সেনা মোতায়েনের মাধ্যমে তিনি যুদ্ধবাজ প্রেসিডেন্টদের তালিকায় স্থান করে নেন।
হ্যারি এস. ট্রুম্যান: ১৯৪৫ সালে জাপানের হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে পারমাণবিক বোমা হামলার সিদ্ধান্ত তারই অনুমোদনে হয়েছিল।
উইলিয়াম মিককেনলি: ১৯০০ শতকে তার সময়ে ল্যাটিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলে একাধিক সামরিক অভিযান পরিচালিত হয়।
বারাক ওবামা: ২০১১ সালে লিবিয়ার নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফিকে ক্ষমতাচ্যুত ও হত্যার পেছনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা ছিল, যা ওবামার প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন ঘটেছিল।

এখন দেখার বিষয়, ডোনাল্ড ট্রাম্প কি তার পূর্বের প্রতিশ্রুতিতে ফিরে যাবেন, নাকি তিনি নিজেকে ‘শ্রেষ্ঠ যুদ্ধবাজ’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবেন। এই প্রশ্নের উত্তর পেতে আরও কিছু সময় অপেক্ষা করতে হবে।